২৬ মার্চ, ২০২৬
অস্ট্রেলিয়া › জাতীয়, অর্থনীতি, জ্বালানী, তেল

চিত্র:Unleaded petrol price| |ক্রেডিট : সিডনি বাংলা নিউজ
অস্ট্রেলিয়াজুড়ে জ্বালানি তেলের নজিরবিহীন মূল্যবৃদ্ধিতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা, বিশেষ করে নির্মাণ ও সেবা খাতের সাথে জড়িত 'ট্রেডি'রা (Tradies)। পেট্রোল ও ডিজেলের দাম আকাশচুম্বী হওয়ায় অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এখন অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই চালাচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে সিডনিসহ পুরো অস্ট্রেলিয়ায় ঘরবাড়ি মেরামত বা নির্মাণকাজের খরচ এক ধাক্কায় অনেকটা বেড়ে যেতে পারে। আয় কমছে, বাড়ছে দুশ্চিন্তা জ্যাক ডিজাইন নামক একটি জয়নারি কোম্পানির মালিক জ্যাক নর্দ্যাম জানান, আগে যেখানে তার সপ্তাহে জ্বালানি খরচ হতো ১৫০ ডলার, এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৮৫ ডলারে। খরচ সামাল দিতে তিনি নিজের বেতন কমিয়ে দিয়েছেন এবং টোল রাস্তা এড়িয়ে চলছেন। জ্যাকের ভাষ্য, "সরকার ঘরে বসে কাজ করার (Work from home) পরামর্শ দিচ্ছে, কিন্তু ভ্যানভর্তি সরঞ্জাম নিয়ে আমরা ঘরে বসে কীভাবে কাজ করব?" বিপাকে ক্ষুদ্র ও পারিবারিক ব্যবসা পার্থের গ্যারেজ ডোর সার্ভিস ব্যবসায়ী নিকি চেম্বারলেইন জানান, গত কয়েক সপ্তাহে তাদের জ্বালানি বিল ২০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। এখনই গ্রাহকদের ওপর এই বাড়তি খরচ চাপাতে না চাইলেও, দীর্ঘমেয়াদে ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে দাম বাড়ানো ছাড়া আর কোনো পথ থাকবে না। একই আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন পেইন্টিং ব্যবসায়ী স্টুয়ার্ট সেল-ও। প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টিকে থাকতে তারা হিমশিম খাচ্ছেন। জ্বালানি সংকটের বর্তমান চিত্র: সিডনি ও মেলবোর্নের অনেক স্থানে পেট্রোলের দাম লিটারপ্রতি ২.৫০ ডলার ছাড়িয়েছে। ডিজেলের দাম কিছু এলাকায় ৩ ডলারের উপরে। দেশের শত শত পেট্রোল স্টেশনে অন্তত এক ধরনের তেলের সংকট দেখা দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে নির্মাণ সামগ্রীর দামও আগে থেকেই বাড়তি। সরকারি ভর্তুকির দাবি কার্পেন্টার রড্রিগো জানশেত্তাসহ অনেক ভুক্তভোগী এখন সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। তারা মনে করেন, যারা ঘরে বসে কাজ করতে পারছেন না, তাদের জন্য বিশেষ জ্বালানি ভর্তুকি বা ট্যাক্স ছাড় দেওয়া জরুরি। অন্যথায় অনেক দক্ষ কর্মী এই পেশা ছেড়ে দিতে বাধ্য হবেন, যার প্রভাব পড়বে অস্ট্রেলিয়ার সামগ্রিক অর্থনীতিতে।
মন্তব্য:০