শিরোনাম
সিডনিতে ‘রক্তস্নাত ৩৬শে জুলাই’ স্মরণে বিএনপি অস্ট্রেলিয়ার দোয়া ও আলোচনা সভা *** দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর সম্ভাব্য স্থান নিয়ে চলছে সমীক্ষা, সিদ্ধান্ত পরে *** ডেঙ্গুতে আরও ২ মৃত্যু, এক দিনে হাসপাতালে ৬৭২ *** মাতারবাড়ীতে বহুমুখী জ্বালানি ব্যবস্থার ওপর প্রধানমন্ত্রীর গুরুত্বারোপ *** জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ধরে রাখতে জাতীয় ঐক্যের আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ***




↠সিডনি-বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট:


৪ আগস্ট, ২০২৬

আন্তর্জাতিক › আন্তর্জাতিক

মন্তব্য:০

News Picture

চিত্র:মঙ্গলবার জাপানের ওসাকায় জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশন (জেট্রো), জাপানে বাংলাদেশ দূতাবাস এবং ওসাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট প্রোমোশন সেমিনার’ ।| |ক্রেডিট : ইন্টারনেট

জাপানি বিনিয়োগকারীদের জন্য বাংলাদেশ কৌশলগত প্রবেশদ্বার: ওসাকায় প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ

দক্ষিণ এশিয়া ও আসিয়ানের সংযোগস্থলে বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান জাপানি বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি অনন্য কৌশলগত সুযোগ তৈরি করেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেন, বাংলাদেশে বিনিয়োগের মাধ্যমে প্রায় ৩০০ কোটিরও বেশি ভোক্তার একটি বৃহৎ আঞ্চলিক বাজারে প্রবেশের সুযোগ তৈরি হয়। ফলে বাংলাদেশ কেবল সম্ভাবনাময় বিনিয়োগ গন্তব্য নয়, বরং দক্ষিণ এশিয়া ও আসিয়ানের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সেতুবন্ধন হিসেবেও আত্মপ্রকাশ করেছে। মঙ্গলবার জাপানের ওসাকায় জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশন (জেট্রো), জাপানে বাংলাদেশ দূতাবাস এবং ওসাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট প্রোমোশন সেমিনার’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (ইপিএ) এবং জাপানি বিনিয়োগকারীদের জন্য বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। এসব উদ্যোগ দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর করার পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগের জন্য অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করবে। জাপানের উন্নয়ন অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গ টেনে ববি হাজ্জাজ বলেন, মেইজি পুনর্গঠনের মাধ্যমে শিক্ষা, প্রযুক্তি, শিল্পায়ন ও দূরদর্শী নেতৃত্বের যে উদাহরণ জাপান স্থাপন করেছে, তা বাংলাদেশের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস। জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির মাধ্যমে বাংলাদেশও ভবিষ্যতের অর্থনীতি গড়ে তুলতে চায়। তিনি জানান, বর্তমানে বাংলাদেশের অর্থনীতির আকার ৫০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি। দীর্ঘ সময় ধরে দেশের প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশের ওপরে ছিল এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মধ্যেও তা ৪ দশমিক ৫ শতাংশের বেশি রয়েছে। সরকারের লক্ষ্য ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করা। প্রতিমন্ত্রী বলেন, ৭ কোটির বেশি তরুণ কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি। মাথাপিছু আয় ৩ হাজার মার্কিন ডলার অতিক্রম করায় দেশের অভ্যন্তরীণ বাজার দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে এবং মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। তিনি আরও জানান, বর্তমানে বাংলাদেশ-জাপান দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। আগামী কয়েক বছরে এ বাণিজ্য ১০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়ে উভয় দেশ কাজ করছে। ববি হাজ্জাজ সম্ভাবনাময় বিনিয়োগ খাত হিসেবে যন্ত্রপাতি ও লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, অটোমোবাইল ও বৈদ্যুতিক যানবাহনের যন্ত্রাংশ, ইলেকট্রনিক্স, ফার্মাসিউটিক্যালস, এপিআই, চিকিৎসা সরঞ্জাম, পাটজাত বহুমুখী পণ্য, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, কোল্ড-চেইন লজিস্টিকস, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বন্দর ও শিল্প অবকাঠামো, রোবটিক্স, শিক্ষা প্রযুক্তি এবং দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নের বিষয়গুলো তুলে ধরেন। তিনি শিক্ষা প্রযুক্তি ও দক্ষতা উন্নয়নে জাপানের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারিত্বেরও আহ্বান জানান। তিনি বলেন, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, মেডিকেল ট্যুরিজম এবং দক্ষতা উন্নয়ন খাতে বাংলাদেশ ও জাপানের সহযোগিতার ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশের তরুণ ও দক্ষ জনশক্তি জাপানের শ্রমবাজারের চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে। বক্তব্যের শুরুতে প্রতিমন্ত্রী জাপান সরকার, জাপানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. দাউদ আলী, জেট্রো এবং ওসাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিকে বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারে সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, জাইকাসহ বিভিন্ন উন্নয়ন উদ্যোগের মাধ্যমে জাপান দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের অবকাঠামো, শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নের অন্যতম নির্ভরযোগ্য অংশীদার। তিনি জাপানি উদ্যোক্তাদের উদ্দেশে বলেন, বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির যাত্রায় দীর্ঘমেয়াদি অংশীদার হওয়ার এখনই উপযুক্ত সময়। কারণ বাংলাদেশে বিনিয়োগ মানে শুধু একটি দেশের বাজারে প্রবেশ নয়, বরং দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিশাল আঞ্চলিক বাজারে কৌশলগত অবস্থান নিশ্চিত করা। সেমিনারে জাপানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. দাউদ আলী, জেট্রো ও ওসাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, জাপানের হাউস অব কাউন্সিলরসের সদস্য ফুতোশি ওকাজাকি, সাইফার-কোর কোম্পানি লিমিটেডের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা মোটোইউকি ওদাচিসহ শতাধিক জাপানি ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তা উপস্থিত ছিলেন। সূত্র: বাসস





মন্তব্য