শিরোনাম
মাউন্ট মিঝিরগিতে বরফধস, নিহত ১১ পর্বতারোহী *** উত্তর কোরিয়া ইস্যুতে ওয়াশিংটনের নীতিবদল, নিজস্ব প্রতিরক্ষায় সিউল *** ইস্টার্ন ইকনোমিক ফোরামে উত্তর-পূর্ব এশিয়ার উন্নয়নে চীনের নতুন প্রস্তাব *** জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় চীন-নেপালের যৌথ উদ্যোগের আহ্বান *** ‘যতক্ষণ আশার ক্ষীণ আলো থাকবে, চীন কখনও হাল ছাড়বে না’: সিচাংয়ে উদ্ধারকাজ ***




↠সিডনি-বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট :


১৩ আগস্ট, ২০২৬

স্বদেশ › স্বদেশ

মন্তব্য:০

News Picture

চিত্র:সপ্তম বাংলাদেশ-জাপান ফরেন অফিস কনসালটেশন (এফওসি) অনুষ্ঠিত।| |ক্রেডিট : ছবি: সংগৃহীত

জাপান সফরে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আমন্ত্রণ, বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্কে নতুন গতি আনার প্রত্যাশা

বাংলাদেশ ও জাপানের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি, প্রতিরক্ষা এবং রোহিঙ্গা সংকটসহ নানা বিষয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়েছে। এ সময় জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে জাপান সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান। বুধবার (১২ আগস্ট) ঢাকায় অনুষ্ঠিত সপ্তম বাংলাদেশ-জাপান ফরেন অফিস কনসালটেশনে (এফওসি) জাপানের প্রতিনিধিদল দেশটির প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণপত্র হস্তান্তর করে। বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন পররাষ্ট্রসচিব রাষ্ট্রদূত আসাদ আলম সিয়াম এবং জাপানের পক্ষে নেতৃত্ব দেন সিনিয়র ডেপুটি পররাষ্ট্রমন্ত্রী নামাজু হিরোয়ুকি। বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি, জ্বালানি নিরাপত্তা, সবুজ জ্বালানি, অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ), বিগ-বি উদ্যোগ, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ সম্প্রসারণের বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়। জাপানের প্রতিনিধি হিরোয়ুকি নামাজু বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্কের ঐতিহাসিক ভিত্তি গড়ে তুলতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ভূমিকার কথা স্মরণ করেন। তিনি ‘ফ্রি অ্যান্ড ওপেন ইন্দো-প্যাসিফিক’ (এফওআইপি) নীতির পাশাপাশি ইপিএ, বিগ-বি উদ্যোগ এবং অফিসিয়াল সিকিউরিটি অ্যাসিস্ট্যান্স (ওএসএ) কাঠামোর আওতায় সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আগ্রহ পুনর্ব্যক্ত করেন। বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কাছে সম্প্রতি পাঁচটি টহল জাহাজ হস্তান্তরের বিষয়টিকেও তিনি দুই দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করেন। পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম বলেন, বাংলাদেশ ও জাপানের সম্পর্ক সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উল্লেখযোগ্যভাবে এগিয়েছে। তিনি বলেন, প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি কার্যকর হলে বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ আরও বৃদ্ধি পাবে এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা নতুন মাত্রা পাবে। তিনি মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর ও বিদ্যুৎ প্রকল্প, ঢাকা মেট্রোরেল এবং হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে জাপানের সহযোগিতার প্রশংসা করেন। বৈঠকে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, টেকসই উন্নয়ন, শিক্ষা ও সংস্কৃতিতে সহযোগিতা এবং জাপানে বাংলাদেশি দক্ষ জনশক্তির কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়। রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরে পররাষ্ট্রসচিব বলেন, ১১ লাখের বেশি বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ বড় ধরনের মানবিক চাপ বহন করছে। তাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানান তিনি। এ বিষয়ে জাপানের অব্যাহত মানবিক সহায়তার প্রশংসাও করেন। বৈঠকে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিভিন্ন ইস্যুতে মতবিনিময়ের পাশাপাশি জাতিসংঘ সনদের নীতির প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করা হয়। এছাড়া বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জাপানের প্রধানমন্ত্রীকে সুবিধাজনক সময়ে ঢাকা সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়। সূত্র: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।





মন্তব্য