শিরোনাম
সিএমজি-ফুচিয়ান যৌথ প্ল্যাটফর্মে বৈশ্বিক প্রচারের নতুন গতি *** বিশ্ব অর্থনৈতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে গ্লোবাল শাসন সংলাপে চীনা প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান *** মাস্কের সমালোচনায় নতুন বিতর্ক :পাশে যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন *** আলতাই–উরুমছি–চিলিন: তুষার ছুটিতে পর্যটনে উচ্ছাস *** সি চিন পিংয়ের উন্নয়ন চিন্তা গ্লোবাল সাউথকে নতুন দিশা দেবে: অতিথিদের অভিমত ***




↠নিজস্ব প্রতিবেদক


১৯ জুলাই, ২০২৫

স্বদেশ › রাজনীতি

মন্তব্য:০

News Picture

চিত্র:jamayat| |ক্রেডিট : 1

জামায়াতের ৭ দফা আসছে,ভাবনায় বিএনপি

জামায়াতের মহা সমাবেশের উদ্দেশ্য কি৷ কি বলবে আজকে তারা? জাতীয় রাজনীতিতে কি প্রভাব থাকবে সেসব বক্তব্যের? এসব প্রশ্ন এখন মানুষের মুখে মুখে৷ বিগত কয়েকদিন জামায়াতে ইসলামীর সাথে অনলাইন ও অফলাইনে লড়াই জমে উঠেছে বৃহত্তম রাজনৈতিক দল বিএনপির৷ দল দুটির লড়াই আর কর্মীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই৷ নেতাদের মধ্যে ছড়িয়ে গেছে কথার লড়াই৷ এসবের মধ্যেই আজকের মহাসমাবেশ থেকে নতুন কোনো নির্দেশনা বা হুঙ্কার দিতে পারে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ৷ ২০২৪ এর ৫ আগস্ট, শেখ হাসিনার দিল্লি পলায়নের পরে জামায়াতের রাজনীতি প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে৷ তৃতীয় বৃহত্তম দল জাতীয় পার্টি অনেকটা কোনঠাঁসা অবস্থায় আছে৷ এমতাবস্থায় বিএনপির সাথে চোখে চোখ রেখে টক্কর দিচ্ছে জামায়াতে ইসলামী৷ আজকের জনসভায় জামায়াত কি বলবে (মূল দাবি): জামায়াত এই সমাবেশ থেকে সাত দফা দাবি উপস্থাপন করবে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো: নিরপেক্ষ জাতীয় নির্বাচন: একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবি জানাবে। জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদদের বিচার ও পুনর্বাসন: সম্প্রতি ঘটে যাওয়া "জুলাই অভ্যুত্থানে" নিহত ও আহতদের বিচার ও পুনর্বাসনের দাবি তুলবে। নির্বাচনী ব্যবস্থার সংস্কার: সংখ্যানুপাতিক নির্বাচন (পিআর পদ্ধতি) চালু করা এবং নির্বাচন সুষ্ঠু করার জন্য প্রয়োজনীয় সকল সংস্কার কাজ সম্পন্ন করার দাবি জানাবে। প্রবাসীদের ভোটাধিকার: প্রবাসীদের জন্য দেশে বসেই ভোটাধিকার নিশ্চিত করার দাবি। রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য সমান সুযোগ: সকল রাজনৈতিক দলের জন্য একটি 'লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড' বা সমান সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ও স্থানীয় সরকার নির্বাচন: দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয়েও বক্তব্য থাকতে পারে। তাদের উদ্দেশ্য কি? এই জনসভার মাধ্যমে জামায়াতে ইসলামীর প্রধান উদ্দেশ্যগুলো হলো: শক্তির জানান দেওয়া: দীর্ঘ ১৬ বছর পর একটি একক বৃহৎ সমাবেশ করে দলটি তাদের সাংগঠনিক শক্তি ও জনসমর্থন প্রদর্শন করতে চাইছে। এর মাধ্যমে তারা অন্তর্বর্তী সরকার, বিএনপিসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলকে নিজেদের শক্তিমত্তার বার্তা দিতে চায়। রাজনৈতিক প্রাসঙ্গিকতা বাড়ানো: সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে তারা নিজেদের রাজনৈতিক প্রাসঙ্গিকতা আবারও প্রমাণ করতে চায় এবং দেশের রাজনীতিতে নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করতে চায়। দাবি আদায়: উল্লিখিত সাত দফা দাবি আদায়ের জন্য সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি করা। কারাবন্দী নেতাদের মুক্তি: যদিও এই জনসভার মূল ৭ দফা দাবিতে সরাসরি কারাবন্দী নেতাদের মুক্তির কথা বলা হয়নি, তবে দলটির কারাবন্দী নেতা এ টি এম আজহারুল ইসলামের মুক্তির দাবিতে অতীতে তারা সমাবেশ করেছে। সুতরাং, এই বিষয়েও ইঙ্গিত থাকতে পারে। ইসলামী সমাজ ও কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা: জামায়াতে ইসলামী দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য হিসেবে একটি ইসলামী কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা এবং ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রকে ইসলামি বিধিবিধানের আলোকে গড়ে তোলার কথা বলে। এই সমাবেশও সেই বৃহত্তর লক্ষ্যেরই অংশ। দেশের রাজনীতিতে আজকের জনসভার কি কি প্রভাব থাকতে পারে? আজকের এই জনসভার দেশের রাজনীতিতে বেশ কিছু প্রভাব পড়তে পারে: রাজনৈতিক মেরুকরণ: এই সমাবেশ দেশের রাজনৈতিক মেরুকরণকে আরও স্পষ্ট করতে পারে। জামায়াত নিজেদেরকে একটি শক্তিশালী বিরোধী দল হিসেবে তুলে ধরলে অন্যান্য রাজনৈতিক দল, বিশেষ করে সরকার এবং অন্যান্য বিরোধী দলগুলোর প্রতিক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ হবে। আন্দোলনের গতিপ্রকৃতি: সম্প্রতি বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও "জুলাই অভ্যুত্থান" এর প্রেক্ষাপটে এই সমাবেশ আন্দোলনকে নতুন মাত্রা দিতে পারে। জামায়াত যদি বৃহত্তর জনসম্পৃক্ততা দেখাতে পারে, তবে তা সরকারবিরোধী আন্দোলনকে আরও গতিশীল করতে পারে। সরকারের উপর চাপ: এই সমাবেশ সরকারের উপর দাবি মেনে নেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করতে পারে, বিশেষ করে নির্বাচনকালীন সরকার এবং নির্বাচনী সংস্কারের বিষয়ে। জামায়াতের অবস্থান পরিবর্তন: দীর্ঘদিন ধরে সরকারের কঠোর অবস্থানের কারণে জামায়াত কিছুটা কোণঠাসা ছিল। এই সমাবেশ তাদের রাজনৈতিক অবস্থানকে শক্তিশালী করতে সাহায্য করবে এবং ভবিষ্যতে তাদের কর্মপন্থা নির্ধারণে প্রভাব ফেলবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি: বড় ধরনের জনসভা হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সমাবেশ শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হলে তা সরকারের জন্য একটি বার্তা দেবে, আর কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে তার রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও হতে পারে। ভবিষ্যৎ জোট রাজনীতি: এই সমাবেশ ভবিষ্যৎ জোট রাজনীতিতে জামায়াতের দর কষাকষির ক্ষমতা বাড়াতে পারে। বিএনপি'র সাথে তাদের পুরনো জোটের সম্পর্ক এবং অন্যান্য সমমনা দলগুলোর সাথে তাদের ভবিষ্যৎ সম্পর্কও এই সমাবেশের পর নতুন দিকে মোড় নিতে পারে।





মন্তব্য