শিরোনাম
সিডনিতে ‘রক্তস্নাত ৩৬শে জুলাই’ স্মরণে বিএনপি অস্ট্রেলিয়ার দোয়া ও আলোচনা সভা *** দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর সম্ভাব্য স্থান নিয়ে চলছে সমীক্ষা, সিদ্ধান্ত পরে *** ডেঙ্গুতে আরও ২ মৃত্যু, এক দিনে হাসপাতালে ৬৭২ *** মাতারবাড়ীতে বহুমুখী জ্বালানি ব্যবস্থার ওপর প্রধানমন্ত্রীর গুরুত্বারোপ *** জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ধরে রাখতে জাতীয় ঐক্যের আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ***




↠সিডনি-বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট :


১২ জুলাই, ২০২৬

আন্তর্জাতিক › আন্তর্জাতিক:

মন্তব্য:০

News Picture

চিত্র:হরমুজ ইস্যুতে মুখোমুখি ওয়াশিংটন-তেহরান| |ক্রেডিট : ইন্টারনেট

জাহাজে হামলা বন্ধের নিশ্চয়তা ছাড়া ছাড় দেবে না যুক্তরাষ্ট্র

উপসাগরীয় অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনায় বসছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। শনিবার ওমানে অনুষ্ঠেয় বৈঠকে ওয়াশিংটন তেহরানের কাছে দাবি জানাবে—প্রণালিটি খোলা রাখা হবে এবং বাণিজ্যিক জাহাজে আর কোনো হামলা চালানো হবে না। মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে দেশটির সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, সাম্প্রতিক জাহাজ হামলার বিষয়টি নিয়ে ইরান ইতোমধ্যে নিজেদের ভুল স্বীকার করেছে। তবে ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, হামলার পেছনে এমন কিছু গোষ্ঠী থাকতে পারে, যাদের ওপর সরকারের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ নেই। হোয়াইট হাউসের তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি হরমুজ প্রণালি ঘিরে সংঘটিত হামলা জুন মাসে হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তির শর্তের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, উত্তেজনার মধ্যেও দুই দেশ আলোচনা অব্যাহত রাখতে রাজি হয়েছে। তবে ইরানের বক্তব্য ভিন্ন। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বার্তায় দাবি করেছেন, ইরান যুদ্ধবিরতির প্রতিশ্রুতি পালন করেছে। তিনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্রই চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন করেছে। জুনে হওয়া সমঝোতায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে ইরান প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু এরপরও ওই এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়। সিবিএস নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের কট্টরপন্থী কিছু গোষ্ঠী জাহাজে হামলা চালিয়ে কূটনৈতিক আলোচনা ভেস্তে দেওয়ার চেষ্টা করেছে বলে তেহরান দাবি করেছে। মার্কিন এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইরান আবার আলোচনার টেবিলে ফিরে এসে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার আগ্রহ দেখিয়েছে। তার ভাষ্য, তেহরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা ভুল করেছে এবং এখন আলোচনার মাধ্যমে এগিয়ে যেতে চায়। ওমানের বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল অংশ নেবে। এতে থাকবেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার। ইরানের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন আব্বাস আরাগচি। বৈঠকের আগে যুক্তরাষ্ট্র আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইরানের কাছে বার্তা পাঠিয়েছে। ওয়াশিংটনের দাবি, তেহরানকে প্রকাশ্যে বলতে হবে যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল অব্যাহত থাকবে এবং বাণিজ্যিক জাহাজকে লক্ষ্য করে আর কোনো হামলা হবে না। যুক্তরাষ্ট্র আরও চায়, সাম্প্রতিক হামলার ঘটনায় নিজেদের ভুল স্বীকার করুক ইরান। অন্যদিকে উত্তেজনা কমাতে কাতারের একটি প্রতিনিধিদল শুক্রবার ইরান সফর করেছে। ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন, ইরান পুনরায় আলোচনায় বসার আগ্রহ প্রকাশ করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্র তাতে সম্মতি দিয়েছে। তবে তিনি সতর্ক করেছেন, যুদ্ধবিরতির আগের পরিস্থিতি আর বহাল নেই। গত সোমবার ওমানের জলসীমায় হরমুজ প্রণালির কাছে তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজ হামলার শিকার হয়। ইরান বলছে, জাহাজগুলোকে নির্ধারিত নৌপথ অনুসরণ করতে হবে। এর আগে গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ১৪ দফার একটি সমঝোতা স্মারক হয়। এর লক্ষ্য ছিল যুদ্ধবিরতি স্থায়ী করা এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন সংঘাত এড়ানো। চুক্তিতে হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা নিয়ে ইরান, ওমান এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে আলোচনার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত ছিল। সূত্র: বিবিসি





মন্তব্য