১ জুলাই, ২০২৬
আন্তর্জাতিক › আন্তর্জাতিক:

চিত্র:ইউরোপজুড়ে তাপপ্রবাহের ভয়াবহতা, জার্মানিতে জলাশয়ে ডুবে অন্তত ৩০ জনের মৃত্যু| |ক্রেডিট : ছবি: সংগৃহীত
ইউরোপজুড়ে চলমান অস্বাভাবিক তাপপ্রবাহের প্রভাব সবচেয়ে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে জার্মানিতে। প্রচণ্ড গরম থেকে মুক্তি পেতে নদী, হ্রদ ও বিভিন্ন জলাশয়ে গোসল বা সাঁতার কাটতে গিয়ে অন্তত ৩০ জন প্রাণ হারিয়েছেন। নিহতদের মধ্যে অধিকাংশই পুরুষ হলেও কয়েকজন কিশোরও রয়েছে। উদ্ধারকারী সংস্থাগুলো বলছে, উচ্চ তাপমাত্রার সময় অসতর্কভাবে গভীর পানিতে নামার প্রবণতা বাড়ায় দুর্ঘটনার সংখ্যাও আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। জার্মানির লাইফ সেভিং অ্যাসোসিয়েশন (ডিএলআরজি) জানিয়েছে, শুক্রবার থেকে রোববার পর্যন্ত মাত্র তিন দিনে ২৬ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। এর আগের বৃহস্পতিবারও পৃথক সাতটি প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটে। সংস্থাটি তাপপ্রবাহ শুরু হওয়ার আগেই জনগণকে নদী ও হ্রদে সাঁতার কাটার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছিল। রোববার নিডারজ্যাক্সেনের আইক্সার হ্রদ থেকে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। একই দিনে নর্থ রাইন-ওয়েস্টফালিয়ার এখৎস হ্রদ থেকে উদ্ধার করা হয় ১৪ বছর বয়সী আরেক কিশোরের মরদেহ, যিনি কয়েক দিন আগে নৌকা থেকে পড়ে নিখোঁজ হয়েছিলেন। ডিএলআরজি জানিয়েছে, পরিচয় নিশ্চিত হওয়া ব্যক্তিদের তথ্যই কেবল তাদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এখনও এলবে নদী, স্যাক্সনির পোহল জলাধার এবং বাডেন-ভুর্টেমবার্গের একটি খনির হ্রদসহ বিভিন্ন এলাকায় একাধিক নিখোঁজ ব্যক্তিকে খুঁজছে উদ্ধারকারী দল। পুলিশ জানায়, বাডেন-ভুর্টেমবার্গে ২৮ বছর বয়সী এক যুবক কয়েকবার পানিতে ঝাঁপ দেওয়ার পর আর ভেসে ওঠেননি। তার বন্ধুরা উদ্ধার চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হন। পরে ডুবুরি দলও তাকে খুঁজে পায়নি। ওই জলাশয়ের গভীরতা প্রায় ৩০ থেকে ৪০ মিটার। এ ছাড়া নেফেল হ্রদ, কোলনের ফ্যুলিঙ্গার হ্রদ, ভেসেল জেলার একটি রাবার বোট দুর্ঘটনা এবং বাল্টিক সাগরের শারবয়ৎস উপকূল থেকেও কয়েকজন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। ডিএলআরজির সভাপতি উটে ফগ্ট বলেন, বিশেষ করে পুরুষদের মধ্যে নিজেদের শারীরিক সক্ষমতাকে অতিমূল্যায়ন করার প্রবণতা বেশি দেখা যায়। ফলে তারা এমন ঝুঁকি নেন, যা অনেক সময় প্রাণঘাতী হয়ে ওঠে। জার্মান আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আপাতত তাপমাত্রা কিছুটা কমলেও আগামী ১০ থেকে ১২ জুলাইয়ের মধ্যে নতুন করে তাপপ্রবাহ আঘাত হানতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, ইউরোপে তাপপ্রবাহ এখন জলবায়ু পরিবর্তনের একটি স্থায়ী বাস্তবতায় পরিণত হচ্ছে। সংস্থাটির ইউরোপীয় আঞ্চলিক পরিচালক হান্স ক্লুগে জানিয়েছেন, অধিকাংশ ইউরোপীয় দেশের এখনও কার্যকর তাপপ্রবাহ মোকাবিলা পরিকল্পনা নেই। তবে বার্সেলোনায় ৫০০টির বেশি জলবায়ু-সুরক্ষা কেন্দ্র চালু করা এবং প্যারিসে ঝুঁকিপূর্ণ নাগরিকদের জন্য বিশেষ টেলিফোন সেবার মতো উদ্যোগ অন্য দেশগুলোর জন্য অনুসরণযোগ্য উদাহরণ হতে পারে। ডব্লিউএইচওর হিসাবে, সাম্প্রতিক তাপপ্রবাহে ইউরোপে ১ হাজার ৩০০ জনের বেশি অতিরিক্ত মৃত্যুর ঘটনা রেকর্ড হয়েছে। ফ্রান্সের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ও জানিয়েছে, গত সপ্তাহে দেশটিতে অতিরিক্ত প্রায় এক হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে, যাদের বেশিরভাগই প্রবীণ। সূত্র: ডয়চে ভেলে, ডিএলআরজি ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।
মন্তব্য:০