৮ জুলাই, ২০২৬
আন্তর্জাতিক › আন্তর্জাতিক

চিত্র:ফাইল ছবি| |ক্রেডিট : ইন্টারনেট
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তর্বর্তী সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) কার্যত বাতিল হয়ে গেছে বলে ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump। তবে একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা চাইলে কূটনৈতিক আলোচনা চালিয়ে যেতে পারেন। যদিও আলোচনার সফলতা নিয়ে তিনি সন্দিহান। বুধবার (৮ জুলাই) তুরস্কের Ankara শহরে North Atlantic Treaty Organization-এর শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, তার দৃষ্টিতে ইরানের সঙ্গে সমঝোতার বিষয়টি শেষ হয়ে গেছে। তিনি দাবি করেন, তেহরানের বর্তমান নেতৃত্বের ওপর তার আস্থা নেই এবং তারা পারমাণবিক অস্ত্র পেলে তা ব্যবহার করত বলেও মন্তব্য করেন। ট্রাম্প বলেন, ব্যক্তিগতভাবে তিনি আর ইরানের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক রাখতে চান না। তবে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা চাইলে আলোচনার উদ্যোগ অব্যাহত রাখতে পারেন। তার ভাষ্য, আলোচনার মাধ্যমে অগ্রগতি হবে বলে তিনি মনে করেন না এবং এতে সময় নষ্ট হওয়ার আশঙ্কাই বেশি। একই সম্মেলনে ট্রাম্প স্পেনের সমালোচনাও করেন। তিনি জানান, ট্রেজারি সেক্রেটারি Scott Bessent-কে স্পেনের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিন্ন করার নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি স্পেনকে ন্যাটোর একটি ‘ভয়াবহ অংশীদার’ বলেও অভিহিত করেন। এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বেড়েছে। মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করে যুক্তরাষ্ট্র বন্দর আব্বাস, সিরিক ও কেশম দ্বীপে ব্যাপক সামরিক হামলা চালায়। একই সঙ্গে ইরানের তেল বিক্রির অনুমতিও বাতিল করে ওয়াশিংটন। এর জবাবে ইরান বাহরাইন ও কুয়েতে মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলার দাবি করেছে। এতে পূর্বের যুদ্ধবিরতির সমঝোতা কার্যত ভেঙে পড়ে এবং অঞ্চলজুড়ে নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ হামলা আগের সামরিক অভিযানের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি শক্তিশালী ছিল। মার্কিন কর্মকর্তারা একে এপ্রিলের যুদ্ধবিরতির পর ইরানের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় অভিযান হিসেবে উল্লেখ করেছেন। সিএনএনের এক কর্মকর্তার দাবি, বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার প্রতিক্রিয়াতেই এই অভিযান পরিচালিত হয়। অন্যদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, বন্দর মাহশাহর ও বুশেহরসহ কয়েকটি এলাকায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। বন্দর মাহশাহরে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর একজন সদস্য নিহত হয়েছেন বলেও দাবি করা হয়েছে। ইরানের সামরিক কর্তৃপক্ষ যুক্তরাষ্ট্রের হামলাকে ‘প্রকাশ্য আগ্রাসন’ আখ্যা দিয়ে কঠোর প্রতিক্রিয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। তারা জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনায় কোনো বিদেশি হস্তক্ষেপ মেনে নেওয়া হবে না। একই সময়ে বাহরাইন ও কুয়েতে ক্ষেপণাস্ত্র সতর্কতা জারি করা হয়। সংযুক্ত আরব আমিরাতের জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক Anwar Gargash বলেন, ইরানের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানোর ক্ষেত্রে ইতিবাচক বার্তা দেয় না। সূত্র: রয়টার্স, সিএনএন, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম।
মন্তব্য:০