শিরোনাম
নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে জোর, রামপালে ৪৬০ মেগাওয়াট সৌর প্রকল্পের উদ্যোগ *** বন্ধ পত্রিকা চালুর তাগিদ, সাংবাদিকদের ঐক্যের আহ্বান রাষ্ট্রপতির *** এসআরবি বিল সংসদে তোলার সুপারিশ, র‌্যাবের জনবল-অবকাঠামো কাজে লাগানোর তাগিদ *** গণতন্ত্র রক্ষায় গণমাধ্যমকে বাঁচাতে হবে: রাষ্ট্রপতি *** ডেঙ্গুতে এক দিনে ৯ মৃত্যু, হাসপাতালে আরও ১,৫৭১ ***




↠সিডনি-বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট :


১৭ আগস্ট, ২০২৬

আন্তর্জাতিক › আন্তর্জাতিক:

মন্তব্য:০

News Picture

চিত্র:ইন্দোনেশিয়ায় ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্প| |ক্রেডিট : ইন্টারনেট

ইন্দোনেশিয়ায় ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্পে নিহত ৫৩, আহত ১৩০-এর বেশি

পূর্ব ইন্দোনেশিয়ায় ৭.৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫৩ জনে দাঁড়িয়েছে। শনিবার (১৫ আগস্ট) আঘাত হানা এই ভূমিকম্পে আহত হয়েছেন ১৩০ জনের বেশি। ভয়াবহ কম্পনে ফ্লোরেস দ্বীপের বিস্তীর্ণ এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে ভূমিধস ও সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমও নানা বাধার মুখে পড়েছে। ভূমিকম্পের প্রভাবে ফ্লোরেস দ্বীপের বিভিন্ন এলাকায় বাড়িঘর ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ধসে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা থেকে প্রায় ৫ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আহতদের অনেকেই গুরুতর জখম হয়েছেন এবং তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের হাড় ভেঙে গেছে। ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা বিএনপিবির তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত সিক্কা অঞ্চলে ৩ হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ে গেছেন। তাদের অনেককে স্থানীয় একটি স্টেডিয়ামেও আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য জরুরি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। দেশটিতে গত কয়েক বছরের মধ্যে এটি অন্যতম প্রাণঘাতী ভূমিকম্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ২০২২ সালে পশ্চিম জাভায় ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর এই ভূমিকম্পকে ইন্দোনেশিয়ায় সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। দুর্গত এলাকায় বিপুলসংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হওয়ায় তাদের খাদ্য, পানি ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতা জোরদার করতে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ৩ হাজার ৫০০-এর বেশি সেনা ও পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। দুর্গত মানুষের জন্য অস্থায়ী তাঁবু স্থাপনের পাশাপাশি খাবার, সুপেয় পানি, তোশক, কম্বল, জেনারেটর এবং স্বাস্থ্যবিধিসামগ্রী পাঠানো হয়েছে। উদ্ধারকারী দলগুলো দুর্গম এলাকাগুলোতেও পৌঁছানোর চেষ্টা করছে। ভূমিকম্পের কারণে মাউমেরে গুরুত্বপূর্ণ একটি বন্দরের ভবনের ছাদ ও দেয়াল ধসে পড়েছে। নিরাপত্তার কারণে বন্দরটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ত্রাণ ও জরুরি সরঞ্জাম সরবরাহের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে। মূল ভূমিকম্পের পরও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি। এলাকায় প্রায় ১ হাজারটি আফটারশক রেকর্ড করা হয়েছে। ঘন ঘন পরবর্তী কম্পনে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক আরও বেড়েছে। অনেকে নতুন করে বাড়িতে ফিরতে ভয় পাচ্ছেন এবং নিরাপদ আশ্রয়ে অবস্থান করছেন। এদিকে, ভূমিকম্পের পর ভূমিধসের কারণে ট্রান্স-ফ্লোরেস মহাসড়কের বিভিন্ন অংশসহ বেশ কয়েকটি সড়ক বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে দুর্গম এলাকাগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও উদ্ধারকারী দলগুলো দুর্গম এলাকায় আটকে থাকা মানুষদের উদ্ধারে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। নিখোঁজদের সন্ধান, আহতদের চিকিৎসা এবং বাস্তুচ্যুত মানুষদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়াকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামোর পরিস্থিতিও পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আফটারশকের ঝুঁকি এখনো রয়েছে। তাই উদ্ধার অভিযান পরিচালনার সময় উদ্ধারকারী ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে জরুরি খাদ্য, পানি, আশ্রয় ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে। ভূমিকম্পে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র এখনো পাওয়া যায়নি। দুর্গম এলাকাগুলোতে উদ্ধারকারী দল পৌঁছানোর পর প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির সংখ্যা আরও পরিবর্তিত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। নিখোঁজদের সন্ধান এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সূত্র: ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা (বিএনপিবি) ও স্থানীয় কর্মকর্তারা।





মন্তব্য