১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
অস্ট্রেলিয়া › ভিসা,অস্ট্রেলিয়া ভিসা,বাংলাদশ,শ্রমিক,মধ্যপ্রাচ্য, Australia visa, Bangladeshi Australian, subclass 491, IELTS,

চিত্র:স্কিলড মাইগ্রেশন ভিসা| |ক্রেডিট : সংগৃহীত
ঢাকা: মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত হাজার হাজার বাংলাদেশী শ্রমিকদের জন্য অস্ট্রেলিয়ায় স্থায়ী হওয়া প্রায় এক স্বপ্ন। বিশেষ করে যাদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা কম এবং ইংরেজি ভাষা তেমন জানা নেই, তাদের জন্য এই পথটা আরও কঠিন মনে হয়। তবে অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসন নীতিতে কিছু বিশেষ সুযোগ রয়েছে, যা সঠিক তথ্যের অভাবে অনেকেরই অজানা থেকে যায়। তেমনই একটি ভিসা হলো 'স্কিলড ওয়ার্ক রিজিওনাল (প্রভিশনাল) ভিসা' (সাবক্লাস ৪৯১)। এটি সরাসরি স্থায়ী ভিসা না হলেও, স্থায়ী বসবাসের (পিআর) একটি নিশ্চিত পথ খুলে দেয়। IELTS-এর বিকল্প ও আঞ্চলিক ভিসার সুবিধা: অস্ট্রেলিয়ার মূল শহরগুলোর বাইরে, অর্থাৎ আঞ্চলিক (regional) এলাকাগুলোতে দক্ষ শ্রমিকের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এই চাহিদা পূরণের জন্য ৪৯১ ভিসাটি চালু করা হয়েছে। এই ভিসার সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, আবেদনকারীকে সরাসরি IELTS পরীক্ষায় ৬.০ বা তার বেশি স্কোর করার বাধ্যবাধকতা থেকে কিছু ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হতে পারে। ইংরেজি দক্ষতার শর্ত: সাধারণত, স্কিলড ভিসার জন্য 'Competent English' (IELTS-এর প্রতি ব্যান্ডে ৬.০) থাকা জরুরি। তবে ৪৯১ ভিসার ক্ষেত্রে কিছু বিশেষ পেশার জন্য বা নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ করলে বিকল্প পথে ইংরেজি দক্ষতা প্রমাণ করার সুযোগ থাকে। যেমন: অন্যান্য ভাষা পরীক্ষা: IELTS ছাড়াও PTE, TOEFL, OET, বা Cambridge C1 Advanced-এর মতো অনুমোদিত অন্যান্য ইংরেজি ভাষা পরীক্ষায় নির্দিষ্ট স্কোর অর্জন করে দক্ষতা প্রমাণ করা যায়। কর্মক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা: কিছু ক্ষেত্রে, যদি আপনি ইংরেজিভাষী পরিবেশে ৫ বছরের বেশি সময় ধরে পূর্ণকালীন পড়াশোনা বা কাজ করে থাকেন, তাহলে সেই অভিজ্ঞতা দিয়েও ইংরেজি দক্ষতার শর্ত পূরণ হতে পারে। রাজ্য বা অঞ্চলভিত্তিক মনোনয়ন: রাজ্য বা অঞ্চলভেদে ভিসার শর্তে কিছুটা ভিন্নতা থাকে। কিছু অঞ্চলের সরকার অপেক্ষাকৃত কম ইংরেজি দক্ষতা সম্পন্ন আবেদনকারীদেরও মনোনয়ন দিতে পারে, যদি তাদের পেশার খুব বেশি চাহিদা থাকে। ভিসা পাওয়ার পথ: ৪৯১ ভিসাটি একটি পয়েন্ট-ভিত্তিক পদ্ধতি (Points-based system)। বয়স, শিক্ষাগত যোগ্যতা, কাজের অভিজ্ঞতা, ইংরেজি দক্ষতা এবং রাজ্য বা অঞ্চলের মনোনয়ন—এই সবকিছুর উপর ভিত্তি করে পয়েন্ট গণনা করা হয়। আবেদন করার জন্য ন্যূনতম ৬৫ পয়েন্টের প্রয়োজন হলেও, উচ্চ পয়েন্টধারীরাই সাধারণত আমন্ত্রণ পান। এই ভিসাটি প্রথমে পাঁচ বছরের জন্য দেওয়া হয়, এবং এই সময়ের মধ্যে আবেদনকারীকে অবশ্যই নির্দিষ্ট আঞ্চলিক এলাকায় বসবাস ও কাজ করতে হয়। তিন বছর আঞ্চলিক এলাকায় বসবাস এবং নির্ধারিত আয়ের শর্ত পূরণ করতে পারলে, আবেদনকারী স্থায়ী ভিসার (সাবক্লাস ১৯১) জন্য আবেদন করতে পারেন। এই ভিসার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের নির্মাণ শ্রমিক, কৃষি শ্রমিক বা টেকনিক্যাল কাজে দক্ষ ব্যক্তিরা, যারা হয়তো প্রথাগত শিক্ষায় বেশি শিক্ষিত নন, কিন্তু কাজের অভিজ্ঞতা অনেক, তারা সহজেই সুযোগ পেতে পারেন। সঠিক তথ্যের মাধ্যমে এবং পেশাগত কাজের অভিজ্ঞতার ওপর জোর দিয়ে এই ভিসার জন্য প্রস্তুতি নিলে অস্ট্রেলিয়ার স্বপ্ন পূরণ করা সম্ভব।
মন্তব্য:০