৩১ আগস্ট, ২০২৬
স্বদেশ › স্বদেশ

চিত্র:সচিবালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের সভাকক্ষে ই-রিকশার সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে অনুষ্ঠিত এক সভা| |ক্রেডিট : ছবি: সংগৃহীত
সারাদেশে তিন চাকার ব্যাটারিচালিত ই-রিকশার চলাচলকে একটি নিয়মতান্ত্রিক ব্যবস্থার আওতায় আনতে নিবন্ধন, ফিটনেস পরীক্ষা, চার্জিং ব্যবস্থা ও নিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন বিষয়ে নতুন বিধিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বিধিমালার খসড়া আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং শেষে দ্রুত কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। রোববার সচিবালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের সভাকক্ষে ই-রিকশার সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রতিমন্ত্রী। সিটি কর্পোরেশন ও অন্যান্য শহরাঞ্চলের পাশাপাশি সারাদেশে ই-রিকশার সংখ্যা ও চলাচল বাড়ায় এর ব্যবস্থাপনায় একটি সমন্বিত কাঠামো তৈরির প্রয়োজনীয়তা নিয়ে সভায় আলোচনা হয়। সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা ই-রিকশার নিবন্ধন, চলাচলের নিয়ম, নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ে বিভিন্ন সুপারিশ তুলে ধরেন। এর আগে একই বিষয় নিয়ে একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। আগের সভাগুলোতে নেওয়া সিদ্ধান্ত কতটা বাস্তবায়িত হয়েছে, এবারের সভায় সেটিও পর্যালোচনা করা হয়। ই-রিকশার ফিটনেস পরীক্ষা ও প্রত্যয়ন, গ্যারেজ স্থাপন ও পরিচালনা, চার্জিং অবকাঠামো, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার এবং নগর এলাকায় যান চলাচলের শৃঙ্খলা নিয়ে বৈঠকে বিস্তারিত মতবিনিময় হয়। সড়ক নিরাপত্তা ও যানজট কমানোর বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পায়। প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, নতুন ব্যবস্থা প্রবর্তনের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করতে হবে। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, “জনগণকে কোনোভাবেই ভোগান্তিতে ফেলা যাবে না।” তিনি বলেন, ই-রিকশার চলাচল ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে কার্যকর নীতিমালা বাস্তবায়ন করা গেলে নগরীর যানজট নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি যান চলাচলে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে। এর মাধ্যমে সড়কে নিরাপত্তা আরও জোরদার করার সুযোগও তৈরি হবে। ই-রিকশার লাইসেন্সিং ও নিবন্ধন নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্থানীয় সরকারের মাধ্যমে নিয়মতান্ত্রিকভাবে এসব যানবাহনের লাইসেন্স ও নিবন্ধন চালু করা হলে একদিকে ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আসবে, অন্যদিকে সরকারি কোষাগারে রাজস্ব জমা হবে। একই সঙ্গে নিবন্ধিত যানবাহনের ফিটনেস এবং অন্যান্য কারিগরি বিষয় পর্যবেক্ষণ করা সহজ হবে। তিনি জানান, বর্তমানে যেসব ই-রিকশা চলাচল করছে, সেগুলোর ফিটনেস পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় প্রত্যয়ন দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। চার্জিং অবকাঠামো ও অন্যান্য প্রযুক্তিগত বিষয়ও একটি সুসংগঠিত ব্যবস্থার মধ্যে আনার উদ্যোগ থাকবে। ই-রিকশা ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত বিধিমালার খসড়া সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রী বলেন, খসড়াটি আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হবে। এরপর যত দ্রুত সম্ভব বিধিমালা প্রণয়ন করে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে। সভায় বুয়েটের যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ এহসান এবং সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. হাদিউজ্জামান বিশেষজ্ঞ হিসেবে মতামত দেন। ই-রিকশার প্রযুক্তিগত বিষয়, চলাচল ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে তাদের পরামর্শ সভায় গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়। সভায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. খয়বর রহমান এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিছুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া স্থানীয় সরকার বিভাগ, সিটি কর্পোরেশন এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তারাও সভায় অংশ নেন। সরকারের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ই-রিকশার চলাচল ও ব্যবস্থাপনায় নিয়ম-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি ফিটনেস, নিবন্ধন, চার্জিং অবকাঠামো এবং সড়ক নিরাপত্তার বিষয়গুলোও একটি সমন্বিত কাঠামোর আওতায় আসবে বলে সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা।
মন্তব্য:০