৩০ জুলাই, ২০২৬
স্বদেশ › স্বদেশ

চিত্র:বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সকালে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে হজ্জ এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব) আয়োজিত তিন দিনব্যাপী জাতীয় হজ ও ওমরাহ ফেয়ার-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ।| |ক্রেডিট : ইন্টারনেট
ঢাকা, ৩০ জুলাই: আগামী হজ মৌসুমে বাংলাদেশি হজযাত্রীদের ব্যয় কমাতে একাধিক উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে হজের বিমান টিকিটের মূল্য আরও ২৫ হাজার টাকা কমিয়ে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকায় নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সৌদি আরবে বিমানবন্দর নির্মাণ কর এবং হাজিদের আবাসন ব্যয় কমানোর বিষয়েও সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সকালে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে হজ্জ এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব) আয়োজিত তিন দিনব্যাপী জাতীয় হজ ও ওমরাহ ফেয়ার-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার দেশের উন্নয়নের পাশাপাশি ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের হজযাত্রা আরও সহজ, সাশ্রয়ী ও হয়রানিমুক্ত করতে কাজ করছে। যৌক্তিক ব্যয়ে মানসম্মত হজ প্যাকেজ নিশ্চিত করাকে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। তিনি জানান, গত বছর হজের বিমান টিকিটের মূল্য প্রতিটি টিকিটে ১২ হাজার টাকা কমানো হয়েছিল। এবার সেই ধারাবাহিকতায় আরও ২৫ হাজার টাকা কমিয়ে টিকিটের মূল্য ১ লাখ ৩০ হাজার টাকায় নামিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে, যা হজযাত্রীদের আর্থিক চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমাবে। এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, হজের সামগ্রিক ব্যয় আরও কমাতে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সৌদি সরকারের কাছে বিমান টিকিটের ওপর আরোপিত সৌদি বিমানবন্দর নির্মাণ কর কমানোর অনুরোধ জানিয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশি হাজিদের আবাসন ব্যয় হ্রাসে বিশেষ সুবিধা নিশ্চিত করার বিষয়েও সৌদি রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য শুধু ব্যয় কমানো নয়, বরং হজযাত্রাকে আরও নিরাপদ, স্বচ্ছ ও সেবামুখী করা। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, হজযাত্রীদের সঙ্গে কোনো ধরনের প্রতারণা বা অনিয়ম করা হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বক্তব্যের শেষদিকে তিনি সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত প্রতিশ্রুতিগুলোর সফল বাস্তবায়নের জন্য দেশবাসী, বিশেষ করে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের কাছে দোয়া কামনা করেন। অনুষ্ঠানে ধর্মসচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ এনডিসি বলেন, বাংলাদেশের প্রায় ৫ শতাংশ হজযাত্রী সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালন করলেও বাকি ৯৫ শতাংশ বেসরকারি হজ এজেন্সির মাধ্যমে সৌদি আরবে যান। তাই সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়—এমন কোনো কার্যক্রম থেকে বিরত থাকতে তিনি হজ এজেন্সির মালিকদের প্রতি আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে রাজকীয় সৌদি দূতাবাসের উপ-মিশন প্রধান খালিদ সাঈদ আল হাদাল, হাবের নেতৃবৃন্দ, হজ এজেন্সির প্রতিনিধিসহ বিপুলসংখ্যক হজ ও ওমরাহ প্রত্যাশী উপস্থিত ছিলেন। সূত্র: বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি।
মন্তব্য:০