২৫ মার্চ, ২০২৬
আন্তর্জাতিক › রাজনীতি, ট্রাম্প,যুক্তরাষ্ট্র, ইরান

চিত্র:ডোনাল্ট ট্রাম্প| |ক্রেডিট : সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে যখন বারুদের গন্ধ আর লাশের মিছিল, ঠিক তখনই পরাজয়ের সুর বাজছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শিবিরে। ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া রক্তক্ষয়ী এই যুদ্ধ চতুর্থ সপ্তাহে গড়িয়েছে। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার বিপরীতে ইরানের কঠোর প্রতিরোধ এবং পাল্টা ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দিশেহারা ওয়াশিংটন এখন পর্দার আড়ালে মরিয়া হয়ে শান্তির পথ খুঁজছে। ১৫ দফার ‘গোপন’ প্রস্তাব ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতা প্রভাবশালী মার্কিন গণমাধ্যম 'দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস'-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, যুদ্ধের ভয়াবহতা কমাতে ইরানের কাছে ১৫ দফার একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এই প্রস্তাবটি তেহরানের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে পাকিস্তানের মাধ্যমে। যেখানে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তার বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে। বিশেষ করে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল সৈয়দ আসিম মুনির এই শান্তি প্রক্রিয়ায় প্রধান সমন্বয়ক হিসেবে কাজ করছেন বলে জানা গেছে। ট্রাম্পের অসংলগ্নতা ও কৌশলগত পরাজয় বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই সমঝোতার চেষ্টা আসলে তার কৌশলগত পরাজয়েরই বহিঃপ্রকাশ। একদিকে তিনি ন্যাটো মিত্রদের অপমান করছেন, অন্যদিকে হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তায় তাদেরই সাহায্য চাইছেন। এমনকি চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী চীনের কাছেও সহযোগিতার আবেদন জানিয়েছেন তিনি। ট্রাম্পের এই ‘অস্থির’ নীতিকে বিশেষজ্ঞরা দাবা খেলার এমন এক চালের সাথে তুলনা করেছেন, যেখানে প্রতিপক্ষের পাল্টা চাল বোঝার সক্ষমতা তার নেই। অভিজ্ঞতার ঘাটতি ও ভুল অনুমান ট্রাম্প প্রশাসনের এই হারের পেছনে বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে অভিজ্ঞতার অভাব। ক্ষমতায় এসেই তিনি স্টেট ডিপার্টমেন্টের ১৩০০-এর বেশি বিশেষজ্ঞ কূটনীতিক এবং এফবিআই-এর কাউন্টার-টেরোরিজম বিশেষজ্ঞদের ছাঁটাই করেছিলেন। মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক সঠিক জ্ঞানসম্পন্ন জনবলের অভাবে হোয়াইট হাউস এখন কেবল সামরিক শক্তির ওপর নির্ভর করছে, যা মাঠপর্যায়ে ব্যর্থ প্রমাণিত হচ্ছে। যুদ্ধ বিরতি ও তেহরানের অস্বীকৃতি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছেন, তেহরানের সঙ্গে তার 'খুব ভালো ও ফলপ্রসূ' আলোচনা হয়েছে এবং তিনি ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা পাঁচ দিনের জন্য স্থগিত রেখেছেন। তবে তেহরান এই দাবি সরাসরি অস্বীকার করে জানিয়েছে, তৃতীয় দেশের মাধ্যমে বার্তা এলেও ওয়াশিংটনের সঙ্গে সরাসরি কোনো সংলাপে তারা বসেনি।
মন্তব্য:০