শিরোনাম
সিডনিতে ‘রক্তস্নাত ৩৬শে জুলাই’ স্মরণে বিএনপি অস্ট্রেলিয়ার দোয়া ও আলোচনা সভা *** চীনে এআই ও উচ্চপ্রযুক্তি খাতের প্রতিষ্ঠান দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে *** সিরামিক শিল্পের প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনে চীন-বাংলাদেশ সহযোগিতা বৃদ্ধির আহ্বান *** বিশ্বমঞ্চে প্রথমবারেই চমক, নিউক্লিয়ার অলিম্পিয়াডে চীনের ৪ পদক *** ইরান সংকটের প্রেক্ষাপটে নতুন প্রতিরক্ষা বলয়, সৌদি-তুরস্ক-পাকিস্তানের কৌশলগত জোট ***




↠সিডনি-বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট:


২৬ জুলাই, ২০২৬

স্বদেশ › স্বদেশ

মন্তব্য:০

News Picture

চিত্র:আইসিডিডিআরবি| |ক্রেডিট : ইন্টারনেট

হাসপাতালের আইসিইউতে বাড়ছে অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী জীবাণু, সতর্ক করল আইসিডিডিআরবি

দেশের হাসপাতালগুলোর নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) ও নবজাতকের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (এনআইসিইউ)-এ ওষুধ-প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়ার বিস্তার উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণাকেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআরবি)-এর সাম্প্রতিক দুটি গবেষণায় দেখা গেছে, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বহু রোগী নতুন করে এসব ব্যাকটেরিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছেন এবং সংক্রমিতদের মৃত্যুহার ৯০ শতাংশের বেশি। আইসিডিডিআরবির সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, রাজধানীর একটি বিশেষায়িত সরকারি হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি ৩৭৩ জন গুরুতর অসুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক রোগীর তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রথম গবেষণাটি পরিচালিত হয়। গবেষণায় দেখা যায়, ভর্তির সময় যাদের শরীরে প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়া ছিল না, তাঁদের ৫৩ শতাংশ চিকিৎসাকালেই এ জীবাণুর সংস্পর্শে এসে সংক্রমিত হয়েছেন। অন্যদিকে একই হাসপাতালের এনআইসিইউতে ভর্তি ৩৬৩ নবজাতকের তথ্যের ভিত্তিতে দ্বিতীয় গবেষণা পরিচালিত হয়। গবেষণা দুটি ২০২৩ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে সংগৃহীত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে সম্পন্ন হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক দুটি স্বীকৃত চিকিৎসাবিষয়ক সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে। গবেষণায় হাসপাতালভিত্তিক সংক্রমণের জন্য চার ধরনের গ্রাম-নেগেটিভ ব্যাকটেরিয়াকে প্রধানত দায়ী করা হয়েছে। এগুলো হলো ই-কোলাই, ক্লেবসিয়েলা নিউমোনি, অ্যাসিনেটোব্যাক্টার বাউমানি এবং সিউডোমোনাস অ্যারুজিনোসা। এসব জীবাণু অ্যান্টিবায়োটিকের বিরুদ্ধে দ্রুত প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলে এবং গুরুতর সংক্রমণের কারণ হয়। গবেষকদের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামের ঘাটতি এবং অতিরিক্ত রোগীর চাপ হাসপাতালের ভেতরে এসব জীবাণুর বিস্তার বাড়িয়ে দিচ্ছে। এর ফলে সংকটাপন্ন রোগীদের চিকিৎসা আরও জটিল হয়ে উঠছে। গবেষণায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, আইসিইউতে ভর্তি রোগীদের প্রায় ৪৮ দশমিক ৫ শতাংশের অন্ত্রে প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়া শনাক্ত হয়েছে। ভর্তির সময় জীবাণুমুক্ত থাকা ১৯৮ জন রোগীর মধ্যে ১০৫ জন পরে সংক্রমিত হন, যা হাসপাতালের অভ্যন্তরেই জীবাণুর বিস্তারের স্পষ্ট ইঙ্গিত বহন করে। হোল-জিনোম সিকোয়েন্সিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে গবেষকেরা জীবাণুর বিস্তার ও সংক্রমণের ধরণ বিশ্লেষণ করেছেন। গবেষণার প্রধান লেখক গাজী মো. সালাহউদ্দীন মামুন বলেন, নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও আধুনিক পরীক্ষার মাধ্যমে সংক্রমণের উৎস ও বিস্তারের ধরণ চিহ্নিত করা সম্ভব হয়েছে। আর আইসিডিডিআরবির এএমআর রিসার্চ ইউনিটের প্রধান ফাহমিদা চৌধুরী বলেন, হাসপাতালকে নিরাপদ রাখতে সংক্রমণ প্রতিরোধ ব্যবস্থা, পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা এবং অ্যান্টিবায়োটিকের দায়িত্বশীল ব্যবহার এখন সময়ের দাবি। সূত্র: আইসিডিডিআরবি।





মন্তব্য