শিরোনাম
নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে জোর, রামপালে ৪৬০ মেগাওয়াট সৌর প্রকল্পের উদ্যোগ *** বন্ধ পত্রিকা চালুর তাগিদ, সাংবাদিকদের ঐক্যের আহ্বান রাষ্ট্রপতির *** এসআরবি বিল সংসদে তোলার সুপারিশ, র‌্যাবের জনবল-অবকাঠামো কাজে লাগানোর তাগিদ *** গণতন্ত্র রক্ষায় গণমাধ্যমকে বাঁচাতে হবে: রাষ্ট্রপতি *** ডেঙ্গুতে এক দিনে ৯ মৃত্যু, হাসপাতালে আরও ১,৫৭১ ***




↠সিডনি-বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট :


১৭ আগস্ট, ২০২৬

আন্তর্জাতিক › আন্তর্জাতিক:

মন্তব্য:০

News Picture

চিত্র:গ্রিসযাত্রায় ভয়াবহ বিপর্যয়: ৪২ জনের নৌকা ১১ দিন সাগরে| |ক্রেডিট : ইন্টারনেট

গ্রিসযাত্রায় ভয়াবহ বিপর্যয়: ৪২ জনের নৌকা ১১ দিন ভাসল সাগরে, নিখোঁজ বহু বাংলাদেশি

লিবিয়া থেকে গ্রিসের উদ্দেশে যাত্রার পর ভূমধ্যসাগরে ইঞ্জিন ও জ্বালানি হারিয়ে প্রায় ১১ দিন ভেসে থাকা একটি নৌকা থেকে মিশরের মারসা মাতরুহ উপকূলে প্রায় ৩০ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। নৌকাটিতে খাবার ও পানি না থাকায় এবং তীব্র গরমের মধ্যে অন্তত ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন বেঁচে যাওয়া এক বাংলাদেশি। তার দাবি অনুযায়ী, মৃতদের মধ্যে নয়জন বাংলাদেশি নাগরিক। তবে এ মৃত্যুর ঘটনা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি। কায়রোস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, মিশরের পুলিশ ভূমধ্যসাগরে মৃত্যুর বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার মতো কোনো তথ্য এখনো পায়নি। ফলে উদ্ধার হওয়া যাত্রীদের বক্তব্য যাচাই এবং ঘটনার প্রকৃত তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছে দূতাবাস। মিশরের মারসা মাতরুহ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বাংলাদেশি নাগরিক আবদুল করিমের সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে যোগাযোগ করেছে বাংলাদেশ দূতাবাস। দূতাবাসের ফার্স্ট সেক্রেটারি (শ্রম) মো. জাকির হোসেন করিমের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নৌকাটির দুর্ঘটনা ও যাত্রীদের দুর্ভোগের বিষয়টি জানান। আবদুল করিমের বাড়ি সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার পাথারিয়া গ্রামে। করিমের বর্ণনা অনুযায়ী, গত ৩ আগস্ট লিবিয়া থেকে ৪২ জন যাত্রী নিয়ে নৌকাটি গ্রিসের দিকে রওনা হয়। যাত্রীদের মধ্যে ৩৮ জন ছিলেন বাংলাদেশি এবং চারজন সুদানের নাগরিক। সমুদ্রপথে যাওয়ার পর নৌকাটির ইঞ্জিন নষ্ট হয়ে যায়। একপর্যায়ে জ্বালানিও ফুরিয়ে গেলে নৌকাটি সাগরের মধ্যে নিয়ন্ত্রণহীনভাবে ভাসতে থাকে। এভাবে খাবার ও পানি ছাড়া তাদের প্রায় ১১ দিন সাগরে কাটাতে হয়। দীর্ঘ দুর্ভোগের পর ১৩ আগস্ট নৌকাটি মিশরের মারসা মাতরুহ উপকূলের কাছে পৌঁছায়। স্থানীয় বাসিন্দারা নৌকাটি দেখতে পেয়ে বিষয়টি পুলিশকে জানান। পরে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নৌকাটি থেকে প্রায় ২৯ থেকে ৩০ জনকে উদ্ধার করে। তাদের দুটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। উদ্ধার হওয়া অনেক যাত্রীকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায় বলে জানা গেছে। বর্তমানে তারা পুলিশের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা নিচ্ছেন। বেঁচে যাওয়া আবদুল করিম দূতাবাসকে জানান, সাগরে অবস্থানের সময় নৌকাটিতে খাবার ও পানি ছিল না। এর সঙ্গে প্রচণ্ড গরমের কারণে যাত্রীদের শারীরিক অবস্থা দ্রুত অবনতি হতে থাকে। একপর্যায়ে অন্তত ১১ জন মারা যান। করিমের দাবি, নিহতদের মধ্যে নয়জন বাংলাদেশি ছিলেন। পরে মৃতদেহগুলো সাগরে ফেলে দিতে বাধ্য হন বেঁচে থাকা যাত্রীরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতেও করিম নৌকাটির পরিস্থিতি তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, নৌকাটিতে সর্বোচ্চ ২৫ জন যাত্রী বহনের সক্ষমতা ছিল। কিন্তু গ্রিসে যাওয়ার জন্য এতে ৪২ জনকে তোলা হয়েছিল। নৌকাটিতে ছিল মাত্র একটি ইঞ্জিন। অতিরিক্ত যাত্রী, সীমিত সক্ষমতার নৌকা এবং পরবর্তী সময়ে ইঞ্জিন ও জ্বালানি সংকট যাত্রাটিকে চরম ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলে। দীর্ঘ সময় সাগরে ভেসে থাকার প্রভাব এখনো কাটেনি উদ্ধার হওয়া যাত্রীদের। আবদুল করিম জানান, তাদের শারীরিক অবস্থা গুরুতর। লবণাক্ত পানিতে দীর্ঘ সময় থাকার কারণে শরীরের বিভিন্ন অংশে পচন ধরতে শুরু করেছে বলেও তিনি জানিয়েছেন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অনেকের অবস্থাই আশঙ্কাজনক বলে তার বক্তব্যে উঠে এসেছে। এদিকে, নৌকাটিতে মৃত্যুর বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হওয়ার জন্য মিশরীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করছে বাংলাদেশ দূতাবাস। ফার্স্ট সেক্রেটারি মো. জাকির হোসেন জানান, মিশরের পুলিশ এখন পর্যন্ত সাগরে মৃত্যুর ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করার মতো তথ্য পায়নি। বেঁচে যাওয়া যাত্রীদের সঙ্গে দূতাবাসের কর্মকর্তারা সরাসরি কথা বলতে চান এবং সে জন্য অনুমতি চাওয়া হয়েছে। অনুমতি পাওয়া গেলে পুরো ঘটনা সম্পর্কে আরও নির্ভরযোগ্য তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হবে। ঘটনার মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার কয়েকজন যুবকের নিখোঁজ হওয়ার খবরে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, উপজেলার অন্তত পাঁচ যুবকের এখনো কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। তারা হলেন পাগলা শত্রুমর্দান গ্রামের হৃদয় পাল, চিকরকান্দি গ্রামের এনামুল খান, রিপন মিয়া ও মামুন খান এবং রানসি গ্রামের মো. তালহা। নিখোঁজ হৃদয় পালের চাচা কানন পাল জানান, গত ৩১ জুলাই তার সঙ্গে হৃদয়ের সর্বশেষ কথা হয়। ওই সময় হৃদয় জানিয়েছিলেন, ৩ আগস্ট গ্রিসের উদ্দেশে রওনা হবেন। পরে জানা যায়, ওই দিন লিবিয়া থেকে দুটি নৌকা ছেড়ে যায়। প্রথম নৌকায় থাকা এক ব্যক্তি পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানান, হৃদয় দ্বিতীয় নৌকায় ছিলেন। এরপর থেকে তার সঙ্গে পরিবারের আর কোনো যোগাযোগ হয়নি। নৌকাটি থেকে উদ্ধার হওয়া বাংলাদেশিদের চিকিৎসা ও ঘটনার তথ্য যাচাইয়ের পাশাপাশি নিখোঁজ বাংলাদেশিদের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে মিশরীয় কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক তদন্ত ও উদ্ধার হওয়া যাত্রীদের সরাসরি জিজ্ঞাসাবাদের পরই সাগরে মৃত্যুর সংখ্যা এবং নিখোঁজদের বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। সূত্র: কায়রোস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস ও স্থানীয় সূত্র।





মন্তব্য