শিরোনাম
মাউন্ট মিঝিরগিতে বরফধস, নিহত ১১ পর্বতারোহী *** উত্তর কোরিয়া ইস্যুতে ওয়াশিংটনের নীতিবদল, নিজস্ব প্রতিরক্ষায় সিউল *** ইস্টার্ন ইকনোমিক ফোরামে উত্তর-পূর্ব এশিয়ার উন্নয়নে চীনের নতুন প্রস্তাব *** জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় চীন-নেপালের যৌথ উদ্যোগের আহ্বান *** ‘যতক্ষণ আশার ক্ষীণ আলো থাকবে, চীন কখনও হাল ছাড়বে না’: সিচাংয়ে উদ্ধারকাজ ***




↠সিডনি-বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট:


২৫ আগস্ট, ২০২৬

স্বদেশ › স্বদেশ

মন্তব্য:০

News Picture

চিত্র:মঙ্গোলিয়ার উলানবাটোরে মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত UNCCD COP17-এর “Accelerating Drought Resilience” শীর্ষক মন্ত্রী পর্যায়ের সংলাপ।| |ক্রেডিট : সংগৃহীত

গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র-মেঘনা অববাহিকায় ন্যায্য পানি বণ্টনের আহ্বান বাংলাদেশের

খরা, পানির সংকট ও ভূমি অবক্ষয়ের ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি মোকাবিলায় সীমান্ত পেরিয়ে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, এমপি। তিনি বিশেষ করে আন্তঃদেশীয় নদী অববাহিকায় ন্যায্য পানি বণ্টন, টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা এবং জলবায়ু সহনশীল প্রযুক্তি হস্তান্তর বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। মঙ্গোলিয়ার উলানবাটোরে মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত UNCCD COP17-এর “Accelerating Drought Resilience” শীর্ষক মন্ত্রী পর্যায়ের সংলাপে বক্তব্য দেওয়ার সময় বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরে এসব কথা বলেন তিনি। মন্ত্রী বলেন, খরা ও ভূমি অবক্ষয়ের সমস্যা একক কোনো দেশের সীমানায় সীমাবদ্ধ নয়। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে পানি, কৃষি ও পরিবেশের ওপর যে চাপ তৈরি হচ্ছে, তা মোকাবিলায় আঞ্চলিক সমন্বয় অপরিহার্য। বিশেষ করে আন্তঃদেশীয় নদীর পানিপ্রবাহ এবং শুষ্ক মৌসুমে পানির প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে ন্যায্য ও কার্যকর পানি বণ্টন প্রয়োজন। বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি জানান, ওই অঞ্চলে প্রায় ৫ দশমিক ৪৬ মিলিয়ন হেক্টর জমি খরাপ্রবণ। কৃষি ও অন্যান্য কাজে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার কারণে বিভিন্ন এলাকায় পানির স্তর দ্রুত নিচে নেমে যাচ্ছে। প্রায় ১৬ হাজার গভীর নলকূপের মাধ্যমে পানি উত্তোলনের প্রেক্ষাপটে নতুন সেচ কার্যক্রম কিছু এলাকায় সীমিত করা হয়েছে। খরাপ্রবণ এলাকার কৃষকদের আগাম সতর্কতা ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিতে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হচ্ছে বলেও জানান তিনি। BAMIS-এর মাধ্যমে খরার সূচক পর্যবেক্ষণ করে কৃষকদের ফসলভিত্তিক তথ্য সরবরাহ করা হচ্ছে। এসএমএস, ভয়েস কল এবং মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে কৃষকদের কাছে এসব পরামর্শ পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। মন্ত্রী বলেন, জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় শুধু প্রযুক্তিনির্ভর সমাধান যথেষ্ট নয়; প্রকৃতির ওপর চাপ কমানোর উদ্যোগও নিতে হবে। এ লক্ষ্যে ন্যাশনাল গ্রিন মিশনের আওতায় ২৫ কোটি গাছের চারা রোপণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জলাধার পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে পানির সংকট কমাতে আগামী পাঁচ বছরে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল, নদী ও জলাশয় খনন ও পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তার মতে, এসব উদ্যোগ ভূপৃষ্ঠের পানির প্রাপ্যতা বাড়ানোর পাশাপাশি ভূগর্ভস্থ পানির ওপর অতিরিক্ত চাপ কমাতে সহায়তা করবে। পানি সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশের এসব অভিজ্ঞতা অন্যান্য ঝুঁকিপ্রবণ দেশেও প্রয়োগের সুযোগ রয়েছে। উপকূলীয় বাংলাদেশের আরেকটি বড় সংকট হিসেবে লবণাক্ততার কথা উল্লেখ করেন পরিবেশমন্ত্রী। তিনি বলেন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং শুষ্ক মৌসুমে নদীর পানিপ্রবাহ কমে যাওয়ায় উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ত পানি কৃষিজমি ও মিঠাপানির উৎসে ঢুকে পড়ছে। এর ফলে লাখো মানুষের কৃষি, জীবিকা ও সুপেয় পানির নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ছে। লবণাক্ততার প্রভাব কমাতে উপকূলীয় ম্যানগ্রোভ বন সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। প্রকৃতিনির্ভর এসব উদ্যোগের মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি কমানোর পাশাপাশি স্থানীয় প্রতিবেশব্যবস্থাও শক্তিশালী করা সম্ভব হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র-মেঘনা অববাহিকার প্রসঙ্গ তুলে ধরে আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, শুষ্ক মৌসুমে নদীগুলোতে পর্যাপ্ত পানিপ্রবাহ বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পানি প্রবাহ কমে গেলে খরা, ভূমি অবক্ষয় ও লবণাক্ততার ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই অভিন্ন নদী অববাহিকাকে কেন্দ্র করে দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতার নতুন কাঠামো গড়ে তোলা প্রয়োজন। বাংলাদেশের জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনায় ২০৫০ সাল পর্যন্ত খরা মোকাবিলাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, দীর্ঘমেয়াদি জলবায়ু পরিকল্পনার সঙ্গে আন্তর্জাতিক সহযোগিতাকেও সমন্বিত করতে হবে। তিনি International Drought Resilience Observatory চালুর উদ্যোগকে স্বাগত জানান এবং বাংলাদেশের কৃষি-আবহাওয়া তথ্যব্যবস্থা BAMIS-এর তথ্য এই আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে যুক্ত করার প্রস্তাব দেন। একই সঙ্গে খরা ও লবণাক্ততা সহনশীল ফসলের জাত উদ্ভাবন, উৎপাদন ও সম্প্রসারণে উন্নত প্রযুক্তি দ্রুত ঝুঁকিপ্রবণ দেশগুলোর কাছে পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। পরিবেশমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের মতো দেশগুলো একই সঙ্গে খরা, লবণাক্ততা, বন্যা, নদীভাঙন ও জলবায়ু পরিবর্তনের বহুমুখী প্রভাব মোকাবিলা করছে। তাই পর্যাপ্ত অর্থায়ন, আগাম প্রস্তুতি এবং আঞ্চলিক অংশীদারত্বের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে একটি কার্যকর খরা সহনশীলতা কাঠামো গড়ে তোলা জরুরি। UNCCD-এর সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতি এমন একটি কাঠামো তৈরিতে সক্রিয়ভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জলবায়ু ঝুঁকিপ্রবণ দেশগুলোর বাস্তব অভিজ্ঞতা ও প্রয়োজনকে আন্তর্জাতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের কেন্দ্রে রাখতে হবে। সংলাপে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের মন্ত্রী, উপমন্ত্রী ও প্রতিনিধি দলের প্রধানরা অংশ নেন। পর্যবেক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন FAO, ESCAP, IOM, UNICEF, UNDRR, UNDP, IFAD, AIIB এবং আফ্রিকান ইউনিয়নসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা। সূত্র: পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ।





মন্তব্য