শিরোনাম
ইংল্যান্ডকে কাঁদিয়ে ইউরো চ্যাম্পিয়ন স্পেন *** কোটা আন্দোলনকারীদের বিক্ষোভে ছাত্রলীগের হামলা *** বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেক দল, অস্ট্রেলিয়া শাখার উদ্যোগে ঈদ পুনর্মিলনী ও পরিচিতি সভা *** শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৩ তম শাহাদাত বার্ষিকী পালন করল অস্ট্রেলিয়া বিএনপি *** শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৩তম শাহাদাৎবার্ষিকী পালন করেছে বিএনপি অস্ট্রেলিয়া ***




↠ডেস্ক রিপোর্ট


২৫ মার্চ, ২০২২

জীবনধারা › স্বাস্থ্য

মন্তব্য:০

News Picture

চিত্র:আইসিডিডিআরবি| |ক্রেডিট : নিজস্ব

ঘণ্টায় ৬০-৭০ জন ডায়রিয়া রোগী আসছেন আইসিডিডিআর,বিতে

দুপুরে প্রথমে বমি, এরপর শুরু হয় পাতলা পায়খানা। এমন অবস্থায় পুরান ঢাকার হোসনী দালানের বাসিন্দা ৩৫ বছরের জালু মিয়াকে গতকাল বৃহস্পতিবার রাত দুইটার দিকে রাজধানীর মহাখালীতে আইসিডিডিআর,বি (আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ) হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। আসার পর চিকিৎসকরা স্যালাইন দেন, ওষুধ‌ও চলে। ভাগ্নে কবির হোসেন জানান, এখন সুস্থ রয়েছেন তিনি। আজ শুক্রবার (২৫ মার্চ) সকালে স্ত্রী সন্ধ্যাকে নিয়ে হাসপাতালে আসেন উজ্জ্বল হালদার। এর আগে, রাত তিনটার দিকে শুরু হয় বমি আর পাতলা পায়খানা। আজ দুপুর দুইটার দিকে বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন, তার অবস্থা আগের থেকে একটু ভালোর দিকে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। উজ্জ্বল হালদার এসেছেন যাত্রাবাড়ীর কাজলা এলাকা থেকে। তিনি জানালেন, এর আগে তার বড় বৌদিও একই অবস্থা নিয়ে এখানে ভর্তি ছিলেন। তিন দিন আগে ভর্তি হয়ে আজ সকালে তিনি বাড়ি ফিরেছেন। পাঁচ বছরের জুনায়েদ কাজীকে নিয়ে হাসপাতালে এসেছেন মা মুনিয়া। শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে তারা আসেন বাসাবোর মাণ্ডা থেকে। পাতলা পায়খানা আর বমি একসঙ্গে, অবস্থা অনেক খারাপ হয়ে যায়, আসার সময় জ্ঞান ছিল না, এখানে আসার পর একটা স্যালাইন দেওয়া হয়, এরপর জ্ঞান ফিরে। এখন অনেকটাই ভালো অবস্থায় আছে ছেলেটা, বলেন মুনিয়া। এই প্রতিষ্ঠানের ইতিহাসে ডায়রিয়া রোগী ভর্তির সংখ্যা এবারই সর্বোচ্চ বলে জানাচ্ছেন চিকিৎসকরা। প্রতি ঘণ্টায় এখানে ৬০ থেকে ৭০ জন ভর্তি হচ্ছেন। এদের মধ্যে শিশু থেকে শুরু করে বৃদ্ধও রয়েছেন। রোগীদের জায়গা দিতে হাসপাতালের নির্ধারিত স্থান ছাড়াও বাইরে দুটো তাঁবু টানানো হয়। এর প্রতিটিতে ৮০টি করে বেড আছে। হাসপাতালের রেজিস্টার থেকে জানা যায়, গত ২২ মার্চ একদিনে এই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এক হাজার ২৭২ রোগী; যা হাসপাতালের ইতিহাসে রেকর্ড। এরমধ্যে গত ১৬ মার্চ রোগী ভর্তি হয় এক হাজার ৫৭ জন, ১৭ মার্চ এক হাজার ১৪১ জন, ১৮ মার্চ এক হাজার ১৭৪ জন, ১৯ মার্চ এক হাজার ১৩৫ জন, ২০ মার্চ এক হাজার ১৫৭ জন, ২১ মার্চ এক হাজার ২১৬ জন, ২২ মার্চ এক হাজার ২৭২ জন, ২৩ মার্চ এক হাজার ২৩৩ জন আর ২৪ মার্চ এক হাজার ১৭৪ জন। এর আগে, এই হাসপাতালে ২০১৮ সালে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগী বেড়েছিল। আইসিডিডিআর,বির গণমাধ্যম ব্যবস্থাপক তারিফুল ইসলাম খান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ২০১৮ সালে এমন রোগীর সংখ্যা বেড়েছিল। সেবার গড়ে এক হাজারের মতো রোগী ছিল, একদিনে সর্বোচ্চ রোগী ছিল এক হাজার ৪৭ জন। কিন্তু এবার এক হাজার ২০০ রোগী ছাড়িয়ে গেছে, এর আগে কখনও এমন হয়নি। রোগীর চাপে হাসপাতালে হিমশিম অবস্থা। নির্ধারিত চিকিৎসক, নার্সসহ সাপোর্ট স্টাফে অতিরিক্ত জনবল নিয়োগ করা হয়েছে। ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখা হচ্ছে হাসপাতাল, সিনিয়র চিকিৎসকসহ অন্যরা রাতের পালায়ও কাজ করছেন। শুক্রবার বেলা ২টা পর্যন্ত রোগী ভর্তি হয়েছেন ৬১৭ জন। এরমধ্যে আগের রাত ১২টা থেকে রাত ১টায় রোগী ভর্তি হয় ৪৮ জন, ২টায় সেটা বেড়ে হয় ৭৬ জন, তিনটায় ৯৬ জন, চারটায় ১১৭ জন, সকাল পাঁচটায় ১২৬ জন, ছয়টায় ১৪৪ জন, সাতটায় ১৭৭ জন, আটটায় ২৩২ জন, নয়টায় ২৮৭ জন, ১০টায় ৩৪১ জন, বেলা ১১টায় ৪২৪ জন, ১২টায় ৪৯২ জন, দুপুর একটায় ৫৫৭ জন আর দুপুর শেষ হতে হতে তা বেড়ে হয় ৬১৭ জন। আইসিডিডিআর'বিতে আজ (২৫ মার্চ) এ প্রতিবেদক বেলা একটা ৪২ মিনিট থেকে দুইটা দুই মিনিট পর্যন্ত ৯ জন রোগীকে ভর্তি হতে দেখেন। এদের হয় হুইল চেয়ার অথবা স্ট্রেচারে করে নিয়ে আসতে দেখা গেছে। বাকিদের কেউ স্বজনদের কাঁধে ভর দিয়ে আবার শিশুদের কোলে নিয়ে আসতে দেখা যায়। কেউবা অ্যাম্বুলেন্স, কেউ ব্যক্তিগত গাড়ি আবার কেউ সিএনজিতে করে আসছেন। একের পর এক রোগী সামলাতে নিরাপত্তারক্ষীসহ সংশ্লিষ্টরা ভীষণ ব্যস্ত সময় পার করছেন। ভর্তি হবার ডেস্কগুলোতে মানুষের দীর্ঘ লাইন।





মন্তব্য