২৫ জুন, ২০২৬
মতামত › আন্তর্জাতিক:

চিত্র:গাজায় শিশুদের লক্ষ্য করে ইসরায়েলের হামলা ‘গণহত্যার অংশ’: জাতিসংঘের তদন্ত কমিশন| |ক্রেডিট : ইন্টারনেট
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় শিশুদের ওপর ইসরায়েলি হামলাকে চলমান গণহত্যার অংশ হিসেবে অভিহিত করেছে জাতিসংঘের একটি স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশন। মঙ্গলবার (২৩ জুন) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে কমিশন বলেছে, গাজা ও অধিকৃত পশ্চিম তীরে শিশুদের বিরুদ্ধে সংঘটিত বিভিন্ন কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘনের পাশাপাশি যুদ্ধাপরাধ ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের পর্যায়ে পড়ে। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া গাজা সংঘাতের পর ফিলিস্তিনি শিশুদের ওপর সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো পর্যালোচনা করে কমিশন এ প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এতে উল্লেখ করা হয়, চলমান হামলায় নিহতদের প্রায় ৩০ শতাংশই শিশু। কমিশনের চেয়ারম্যান শ্রীনিবাসন মুরালিধর এক বিবৃতিতে বলেন, প্রাপ্ত তথ্য ও সাক্ষ্যপ্রমাণ থেকে প্রতীয়মান হয় যে, ফিলিস্তিনি শিশুদের ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনীর পক্ষ থেকে পরিকল্পিতভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের অক্টোবরের যুদ্ধবিরতির পরও শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে, যা আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজায় প্রসূতি ও শিশুস্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোও হামলার শিকার হয়েছে। এর ফলে নবজাতকদের বেঁচে থাকার সুযোগ এবং ফিলিস্তিনি জনগোষ্ঠীর ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপত্তা মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। একই সঙ্গে মানবিক সহায়তা সীমিত হওয়ার কারণে খাদ্যসংকট, অপুষ্টি ও টিকাদান কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় শিশুদের স্বাস্থ্য পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে গেছে। জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ৫০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি শিশু নিহত বা আহত হয়েছে। এছাড়া যুদ্ধবিরতির পরও গড়ে প্রতিদিন একটি করে শিশুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এ ছাড়া ইসরায়েলি কারাগারে আটক ফিলিস্তিনি শিশুদের ওপর যৌন নিপীড়নসহ বিভিন্ন ধরনের অমানবিক আচরণের অভিযোগের তথ্যও তদন্তে উঠে এসেছে বলে জানিয়েছে কমিশন। তদন্ত কমিশনের মতে, শিশুদের ওপর হামলার মাধ্যমে ফিলিস্তিনি জনগণের অস্তিত্ব ও ভবিষ্যৎ বিকাশের সক্ষমতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করা হচ্ছে। এজন্য দায়ী কয়েকটি ইসরায়েলি সামরিক ইউনিটকে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং শিশুদের বিরুদ্ধে সব ধরনের সহিংসতা অবিলম্বে বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছে। অন্যদিকে জেনেভায় অবস্থিত ইসরায়েলি মিশন জাতিসংঘের এই প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের দাবি, প্রতিবেদনটি একপাক্ষিক এবং এতে হামাসের কর্মকাণ্ডকে যথাযথভাবে বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। সূত্র: জাতিসংঘের স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদন, ইউনিসেফ ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।
মন্তব্য:০