২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
অস্ট্রেলিয়া › স্বদেশ

চিত্র:জাতীয় সংসদ| |ক্রেডিট : ইন্টারনেট
সেপ্টেম্বরে জাতীয় সংসদে পাস হওয়া জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, জোরপূর্বক গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার এবং স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নসংক্রান্ত তিনটি আইন বাংলাদেশের মানবাধিকার সুরক্ষা কাঠামোকে দুর্বল করেছে বলে মন্তব্য করেছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাটির ভাষ্য, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে নেওয়া কিছু সুরক্ষা ব্যবস্থা নতুন আইনগুলোর মাধ্যমে বাতিল বা সীমিত করা হয়েছে। এতে নিরাপত্তা বাহিনীর অতীতের লঙ্ঘনের জন্য জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে একই ধরনের ঘটনা প্রতিরোধের সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ২৩ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এইচআরডব্লিউ জানায়, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জারি করা দুটি অধ্যাদেশের মাধ্যমে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্ত, গুম প্রতিরোধ এবং আটককেন্দ্র পরিদর্শনের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নতুন এনএইচআরসি আইনে কমিশনের সরাসরি তদন্তের সুযোগ সীমিত করা হয়েছে বলে দাবি করেছে সংস্থাটি। এইচআরডব্লিউর প্রতিবেদনে বলা হয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে সংশ্লিষ্ট বাহিনীকে প্রতিবেদন দিতে বলার বিধান রাখা হয়েছে। তবে প্রতিবেদন সন্তোষজনক না হলে বা নির্ধারিত প্রতিবেদন না দিলে কমিশন নিজস্ব তদন্ত করতে পারবে। সংস্থাটির মতে, এই ব্যবস্থায় কমিশনের স্বাধীন তদন্তক্ষমতা আগের তুলনায় সীমিত হতে পারে। একই সঙ্গে কমিশনার নিয়োগে সরকারের প্রভাব বৃদ্ধি এবং কমিশনের বাজেট ও প্রশাসনিক স্বাধীনতা কমানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছে তারা। গুমসংক্রান্ত নতুন আইন নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছে এইচআরডব্লিউ। ৬ সেপ্টেম্বর সংসদে পাস হওয়া জোরপূর্বক গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনে গুমের অভিযোগ তদন্তের দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে বলে সংস্থাটি জানিয়েছে। তবে অভিযুক্ত বাহিনীকে তদন্তের বাইরে রেখে অন্য কোনো নিরাপত্তা সংস্থা অথবা আন্তঃসংস্থা তদন্ত দলের মাধ্যমে তদন্ত পরিচালনার সুযোগ রাখা হয়েছে। এইচআরডব্লিউ বলেছে, আগের অধ্যাদেশে এনএইচআরসিকে আটককেন্দ্র এবং গোপন আটককেন্দ্র থাকার আশঙ্কা রয়েছে—এমন স্থান পরিদর্শন ও পর্যবেক্ষণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল। নতুন আইনে এ ধরনের ক্ষমতা আর রাখা হয়নি। পাশাপাশি গুমের ঘটনায় কমান্ড রেসপনসিবিলিটির মানদণ্ড পরিবর্তনের অভিযোগও করেছে সংস্থাটি। আগের ব্যবস্থায় কোনো কর্মকর্তা মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে অবগত ছিলেন বা তাঁর তা জানার কথা ছিল এবং লঙ্ঘন প্রতিরোধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও তা করেননি—এমন পরিস্থিতিতেও দায় নির্ধারণের সুযোগ ছিল। কিন্তু নতুন আইনে সরাসরি নির্দেশ দেওয়ার প্রমাণ প্রয়োজন হবে বলে দাবি করেছে এইচআরডব্লিউ। এদিকে ১০ সেপ্টেম্বর সংসদে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন আইন পাস করে র্যাবের নাম পরিবর্তন করে এসআরবি করা হয়েছে। ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে বাহিনীটি নতুন নামে কার্যক্রম শুরু করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে এইচআরডব্লিউ। সংস্থাটির দাবি, র্যাবের জনবল, ক্ষমতা, সম্পদ ও নথিপত্র এসআরবিতে হস্তান্তর করা হয়েছে। এমনকি বাহিনীর লোগোও একই রাখা হয়েছে; শুধু ‘RAB’-এর পরিবর্তে ‘SRB’ লেখা হয়েছে। এইচআরডব্লিউর এশিয়া বিষয়ক পরিচালক এলেইন পিয়ারসন বলেন, নিরাপত্তা বাহিনীকে কার্যকর তদারকি ও জবাবদিহির আওতার বাইরে রাখার উদ্যোগ মানুষের আস্থা তৈরিতে সহায়ক নয়। অতীতের গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের পুনরাবৃত্তি রোধে নিরাপত্তা খাতে প্রকৃত সংস্কার এবং অভিযোগ তদন্তে পূর্ণ ক্ষমতাসম্পন্ন স্বাধীন মানবাধিকার সংস্থা প্রয়োজন। তবে সরকারের অবস্থান ভিন্ন। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান সংসদে বলেছেন, নতুন এনএইচআরসি আইনের মাধ্যমে কমিশনকে আরও কার্যকর ও স্বাধীন করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ফলে নতুন আইনগুলোর মানবাধিকার সুরক্ষায় প্রভাব নিয়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ও সরকারের বক্তব্যে পার্থক্য দেখা যাচ্ছে। সূত্র: হিউম্যান রাইটস ওয়াচের প্রতিবেদন ও প্রদত্ত তথ্য।
মন্তব্য:০