শিরোনাম
মাউন্ট মিঝিরগিতে বরফধস, নিহত ১১ পর্বতারোহী *** উত্তর কোরিয়া ইস্যুতে ওয়াশিংটনের নীতিবদল, নিজস্ব প্রতিরক্ষায় সিউল *** ইস্টার্ন ইকনোমিক ফোরামে উত্তর-পূর্ব এশিয়ার উন্নয়নে চীনের নতুন প্রস্তাব *** জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় চীন-নেপালের যৌথ উদ্যোগের আহ্বান *** ‘যতক্ষণ আশার ক্ষীণ আলো থাকবে, চীন কখনও হাল ছাড়বে না’: সিচাংয়ে উদ্ধারকাজ ***




↠সিডনি-বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট :


১৫ আগস্ট, ২০২৬

স্বদেশ › স্বদেশ

মন্তব্য:০

News Picture

চিত্র:এলএনজি ঘাটতিতে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ধস| |ক্রেডিট : ইন্টারনেট

এলএনজি ঘাটতিতে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ধস, লোডশেডিংয়ে বাড়ছে জনভোগান্তি

গ্যাসের সরবরাহ সংকটের সঙ্গে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়ায় দেশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতি ক্রমেই নাজুক হয়ে উঠছে। মহেশখালীর দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকে স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ৬০ শতাংশ কম গ্যাস পাওয়ার কারণে গত তিন সপ্তাহ ধরেই সংকট চলছিল। তার ওপর গত চার দিন ধরে সামিটের টার্মিনাল থেকেও গ্যাস সরবরাহ কমাতে হয়েছে। সর্বশেষ বৈরী আবহাওয়ার কারণে গতকাল ওই টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং শিল্প খাতে গ্যাসের সরবরাহ আরও কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এতে একদিকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুতের ঘাটতি বাড়ছে, অন্যদিকে আবাসিক ও শিল্পসহ বিভিন্ন শ্রেণির গ্যাস গ্রাহকদের ভোগান্তিও বাড়তে পারে। ইতোমধ্যে কয়েকটি বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন কমে গেছে। পাশাপাশি ভারত থেকে আমদানি করা বিদ্যুতেও ঘাটতি দেখা দিয়েছে। সব মিলিয়ে জাতীয় গ্রিডে লোডশেডিং ৩ হাজার মেগাওয়াটের সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়, পেট্রোবাংলা এবং পিডিবির সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সংকট মোকাবিলায় একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এলএনজি টার্মিনালের কারিগরি সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি কয়লা ও তেল আমদানি বাড়িয়ে এসব জ্বালানি দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। তবে পেট্রোবাংলা ও সামিটের টার্মিনাল থেকে স্বাভাবিক মাত্রায় গ্যাস সরবরাহ পেতে আরও প্রায় এক সপ্তাহ সময় প্রয়োজন হতে পারে। টার্মিনাল দুটির সরবরাহ স্বাভাবিক হলে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকট অনেকটাই কমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। জাতীয় গ্রিডের সর্বশেষ তথ্য পরিস্থিতির তীব্রতা তুলে ধরছে। বুধবার বিকেল ৩টায় বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৭ হাজার ২৩৭ মেগাওয়াট। ওই সময়ে উৎপাদন ও সরবরাহ হয়েছে ১৩ হাজার ৮৫৫ মেগাওয়াট। ফলে ঘাটতি দাঁড়ায় ৩ হাজার ৩৮২ মেগাওয়াটে। এর আগে মঙ্গলবার রাত ১২টায় লোডশেডিং ছিল ৩ হাজার ৫৯২ মেগাওয়াট। সোমবার সর্বোচ্চ ঘাটতি ছিল ৩ হাজার ৫৩৭ মেগাওয়াট। আর রোববার রাত ১টায় ঘাটতি সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৭৫৭ মেগাওয়াটে পৌঁছেছিল। বিদ্যুৎ সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চলতি বছর বিদ্যুতের চাহিদা আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। গত বছর একই সময়ে চাহিদা ছিল ১৫ থেকে ১৬ হাজার মেগাওয়াটের মধ্যে। এবার তা ১৮ থেকে ১৯ হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত উঠছে। গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান উৎপাদন সচল রাখতে গ্রিডের বিদ্যুৎ ব্যবহার করছে। একই সময়ে বাসাবাড়িতে বৈদ্যুতিক চুলার ব্যবহারও বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে সামগ্রিক বিদ্যুৎ চাহিদার ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়েছে। পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, এলএনজি সরবরাহ কমে যাওয়া বর্তমান জ্বালানি সংকটের অন্যতম প্রধান কারণ। মহেশখালীতে থাকা সামিটের টার্মিনালে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে নতুন এলএনজি কার্গো খালাস করা সম্ভব হচ্ছে না। এর ফলে টার্মিনালটি থেকে দৈনিক গ্যাস সরবরাহ কমে প্রায় ২০ কোটি ঘনফুটে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে পেট্রোবাংলার ভাসমান এলএনজি টার্মিনালটিও বয়লার সমস্যায় পূর্ণ সক্ষমতায় গ্যাস সরবরাহ করতে পারছে না। বর্তমানে সেখান থেকে দৈনিক ২০ থেকে ২২ কোটি ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে। অথচ স্বাভাবিক অবস্থায় টার্মিনালটির সক্ষমতা দৈনিক ৫০ থেকে ৫৫ কোটি ঘনফুট। দুটি টার্মিনাল মিলিয়ে বর্তমানে এলএনজি সরবরাহ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪১ কোটি ঘনফুটে। সামিটের নতুন এলএনজি কার্গো ১৫ আগস্ট আসার কথা রয়েছে। কার্গো আসার পর পেট্রোবাংলার টার্মিনালকে পূর্ণ সক্ষমতায় ফেরাতে প্রায় ৭২ ঘণ্টা বন্ধ রেখে প্রয়োজনীয় মেরামত ও কারিগরি কাজ করতে হবে। এ কারণে আগামী সপ্তাহের আগে এলএনজি সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা কম বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। গ্যাসের সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়েছে বিদ্যুৎ উৎপাদনে। দেশে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর সম্মিলিত সক্ষমতা ১২ হাজার ৪৭২ মেগাওয়াট হলেও বর্তমানে সেগুলো থেকে মাত্র ৩ থেকে ৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে প্রতিদিন প্রায় ২২০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের প্রয়োজন হয়। স্বাভাবিক সময়েও সরবরাহ থাকে ১০০ থেকে ১১০ কোটি ঘনফুটের মতো। চলমান সংকটের মধ্যে সরবরাহ একপর্যায়ে ৭০ কোটি ঘনফুটের নিচে নেমে গিয়েছিল। শুধু গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্র নয়, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদনেও ঘাটতি দেখা দিয়েছে। পটুয়াখালীর নোরিনকো কেন্দ্র থেকে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট এবং পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ৫০০ থেকে ৬০০ মেগাওয়াট কম বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। একই সময়ে ভারতের আদানি পাওয়ার থেকে বিদ্যুৎ আমদানিও কমেছে ৪০০ থেকে ৫০০ মেগাওয়াট। ফলে বর্তমানে ভারত থেকে ওই কেন্দ্রের মাধ্যমে ৮০০ থেকে ৯০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, ১৫ আগস্টের পর সামিটের টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ বাড়তে শুরু করলে বিদ্যুৎ পরিস্থিতিতে কিছুটা ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে। এরপর পেট্রোবাংলার টার্মিনাল পূর্ণ সক্ষমতায় ফিরে এলে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে। এতে জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপও কিছুটা কমতে পারে। তবে এলএনজি খালাসে আবারও আবহাওয়াজনিত বাধা তৈরি হলে কিংবা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টার্মিনালের কারিগরি কাজ শেষ না হলে সংকটের মেয়াদ আরও বাড়তে পারে। জ্বালানি সরবরাহের এই ঘাটতির কারণে গত প্রায় ১০ দিন ধরে ঢাকার বাইরে ব্যাপক লোডশেডিং চলছে। বিদ্যুতের চাহিদা অনুযায়ী উৎপাদন ও সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব না হওয়ায় এখন রাজধানী ঢাকাতেও লোডশেডিং শুরু হয়েছে। ফলে গ্যাস ও বিদ্যুতের দ্বিমুখী সংকটে দেশজুড়ে সাধারণ মানুষ ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ভোগান্তি আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সূত্র: বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়, পেট্রোবাংলা ও পিডিবি।





মন্তব্য