শিরোনাম
সাত বছর পরও চার আসামি পলাতক, চূড়ান্ত নিষ্পত্তির অপেক্ষায় আবরার হত্যা মামলা *** দেশের ৮৬ হাজারের বেশি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে সম্মানি পাবেন ২ লাখ ৫৬ হাজার ধর্মীয় ব্যক্তি *** উপযোগী প্রজন্ম গড়ে তুলতে শিক্ষা ব্যবস্থায় যুক্ত হচ্ছে আনন্দময় শিক্ষা, কারিগরি শিক্ষা ও সংস্কৃতি *** ডিএসসিসির ১৬৮ পূজা মণ্ডপে ১৯ লাখ ৮০ হাজার টাকা অনুদান *** দূরবর্তী ও বাদপড়া শিশুদের খুঁজে টিকা দেবে সরকার ***




↠সিডনি ডেস্ক রিপোর্ট :


৩০ ডিসেম্বর, ২০২৫

আন্তর্জাতিক › আন্তর্জাতিক রাজনীতি

মন্তব্য:০

News Picture

চিত্র:ডোমিনিকার প্রেসিডেন্ট সিলভানি বার্টন| |ক্রেডিট : সিএমজি:

‘এক চীন’ নীতির প্রতি দৃঢ় সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করল ডোমিনিকা

সম্প্রতি ডোমিনিকার প্রেসিডেন্ট সিলভানি বার্টন চীন সফরকালে চায়না মিডিয়া গ্রুপ সিএমজি-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে চীন-ডোমিনিকা সম্পর্ক নিয়ে কথা বলেন। সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট বার্টন বলেন, চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে প্রেসিডেন্ট সি উল্লেখ করেন যে, একটি ক্যারিবীয় দেশ হিসেবে ডোমিনিকা সক্রিয়ভাবে উন্নয়নকে উৎসাহিত করছে এবং চীনের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার করছে—এতে তিনি অত্যন্ত সন্তুষ্ট। প্রেসিডেন্ট বার্টন বলেন, ডোমিনিকার জন্য চীনের সঙ্গে সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চীন ডোমিনিকাকে মূল্যবান সমর্থন দিয়ে আসছে। দু’দেশ সবসময় পরস্পরের ভূখণ্ডের অখণ্ডতাকে সম্মান করে এবং সমতার ভিত্তিতে সম্পর্ক বজায় রাখে। চীন ডোমিনিকার সরকার ও জনগণের সঙ্গে নানা ক্ষেত্রে সহযোগিতা করেছে, বিশেষ করে যখন ডোমিনিকা সংকটের মুখোমুখি হয়েছে, তখন চীনের সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এই সাক্ষাৎকে ধন্যবাদ জানানোর একটি সুযোগ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং বলেছেন—চীন ভবিষ্যতেও ডোমিনিকার সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ ও সহযোগিতামূলক সম্পর্ক অব্যাহতভাবে সম্প্রসারণ করবে। প্রেসিডেন্ট বার্টন বলেন, প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং বর্তমানে বিশ্বের শ্রেষ্ঠ নেতা। তিনি অত্যন্ত জ্ঞানী, অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন ও দূরদর্শী এবং বিশ্বব্যাপী অভিন্ন উন্নয়নের জন্য বহু গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ উত্থাপন করেছেন। বৈশ্বিক ইস্যুতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্বের ভূমিকা পালন করেছেন এবং একাধিক প্রধান বৈশ্বিক উদ্যোগের প্রস্তাব দিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, আমাদের দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের পর থেকে চীন আমাদের বহু মূল্যবান বৃত্তি প্রদান করেছে। এর ফলে আমাদের তরুণরা চীনে পড়াশোনা করতে, দক্ষতা অর্জন করতে এবং পরে দেশে ফিরে জাতীয় উন্নয়নে অংশগ্রহণ করতে সক্ষম হয়েছে। এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা চীনের এই সহায়তার জন্য গভীরভাবে কৃতজ্ঞ এবং আশা করি ভবিষ্যতে এ ধরনের আরও সুযোগ সৃষ্টি হবে, যা শুধু বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ কর্মসূচিও এতে অন্তর্ভুক্ত থাকবে। সে কারণেই অনেক মানুষ চীনের উন্নয়ন অভিজ্ঞতা থেকে শেখার জন্য কিংবা বিভিন্ন ধারণা ও দক্ষতা অর্জনের উদ্দেশ্যে চীনে আসেন। গত ১৭ বছরে প্রায় ৪০ জন চীনা চিকিৎসা বিশেষজ্ঞ ডোমিনিকায় উচ্চমানের চিকিৎসা সেবা প্রদান করেছেন। ডোমিনিকার প্রথম কার্ডিয়াক সার্জারি চীনের সহায়তায় নির্মিত একটি কার্ডিওলজি বিভাগে সফলভাবে সম্পন্ন হয়। সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট বার্টন বলেন, চীন–ডোমিনিকা ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতাল নির্মাণে সহায়তার জন্য আমরা চীন সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞ। এই হাসপাতালের সরবরাহকৃত চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং চীনা চিকিৎসা দলের আগমনের ফলে আমরা আমাদের জনগণের জন্য ৩০টি নতুন চিকিৎসা সেবা যুক্ত করতে পেরেছি। এটি ডোমিনিকার জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। অতীতে অনেক রোগী চিকিৎসার জন্য বিমানে করে বিদেশে যেতে বাধ্য হতেন। চীনা চিকিৎসা দলের সহায়তায় আমরা চিকিৎসা খাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছি, আর আমাদের চিকিৎসা কর্মীরাও পারস্পরিক বিনিময়ের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেছেন। ২০১৮ সালে চীন ও ডোমিনিকা যৌথভাবে বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করে। সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট বার্টন বলেন, বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ আমাদের কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এই প্রকল্পগুলো ডোমিনিকার বহু মানুষের জীবন বাস্তবিক অর্থেই বদলে দিয়েছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, আমাদের উত্তর ও দক্ষিণকে সংযুক্ত করার একটি সড়ক রয়েছে, যা উত্তরাঞ্চল থেকে শহর পর্যন্ত যোগাযোগ স্থাপন করে। আগে এই যাত্রায় দুই ঘণ্টা সময় লাগত, কিন্তু এখন মাত্র এক ঘণ্টা বা তারও কম সময় লাগে। বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ ইতোমধ্যেই ডোমিনিকায় বহু প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে। এসব প্রকল্প নিয়ে আমাদের উচ্চ প্রত্যাশা রয়েছে। আমরা আশা করি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটি যত দ্রুত সম্ভব নির্মাণ সম্পন্ন করে ব্যবহার উপযোগী করা যাবে। বর্তমানে নির্মাণকাজের অগ্রগতি সন্তোষজনক। তিনি আরও বলেন, বিশ্বে কেবল একটিই চীন রয়েছে এবং চীনের ঐক্য বজায় রাখা উচিত। কোনো একটি প্রদেশ নিজেকে ‘দেশ’ হিসেবে দাবি করতে পারে না। তাই ডোমিনিকা সবসময় চীনের অবস্থানকে সমর্থন করে এবং চীনের পূর্ণ ঐক্যের পক্ষে রয়েছে। একই সঙ্গে ডোমিনিকা যেসব দেশ এখনো চীনের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করেনি, তাদেরও এই প্রক্রিয়ায় যোগ দেওয়ার আহ্বান জানায় যাতে সবাই হাতে হাত রেখে সহযোগিতা করতে পারে এবং বিভিন্ন দেশের যৌথ উন্নয়ন বাস্তবায়ন সম্ভব হয়। সূত্র : চায়না মিডিয়া গ্রুপ।

News Picture

image : ডোমিনিকার প্রেসিডেন্ট সিলভানি বার্টন | credit : সিএমজি:






মন্তব্য