৭ জুলাই, ২০২৬
আন্তর্জাতিক › আন্তর্জাতিক

চিত্র:স্বর্ণ| |ক্রেডিট : ইন্টারনেট
ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি, যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের নীতিগত অবস্থান এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার প্রভাবে ওঠানামা অব্যাহত রয়েছে আন্তর্জাতিক স্বর্ণবাজারে। দুই সপ্তাহের সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছানোর পরই আবারও দরপতনের মুখে পড়েছে মূল্যবান ধাতুটি। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বিনিয়োগকারীরা এখন ফেডের পরবর্তী নীতিগত বার্তার দিকে নজর রাখায় স্বর্ণের বাজারে সতর্ক অবস্থান বিরাজ করছে। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত স্পট গোল্ডের দাম আগের দিনের তুলনায় ০ দশমিক ৬ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৩৮ দশমিক ৩২ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে আগস্ট ডেলিভারির মার্কিন স্বর্ণ ফিউচারের দাম ০ দশমিক ৪ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৪৯ দশমিক ৯০ ডলারে লেনদেন হয়। এবিসি রিফাইনারির গ্লোবাল হেড অব ইনস্টিটিউশনাল মার্কেটস নিকোলাস ফ্র্যাপেল বলেন, গত সপ্তাহের ধারাবাহিকতায় স্বর্ণের বাজার এখন একটি সমর্থন স্তর তৈরি করার চেষ্টা করছে। তবে বিনিয়োগকারীদের মূল আগ্রহ এখন ফেডারেল রিজার্ভের বৈঠকের কার্যবিবরণীর দিকে, কারণ সেখান থেকে সুদের হার নিয়ে ভবিষ্যৎ নীতির বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে। তিনি আরও বলেন, নতুন চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত প্রথম বৈঠকে সুদের হার নিয়ে আগের মতো নির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়নি। কেন্দ্রীয় ব্যাংক ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে দ্রুত খাপ খাওয়ানোর জন্য নীতিগত নমনীয়তা বজায় রাখতে চায় বলেও তিনি উল্লেখ করেন। বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, চলতি বছরের শুরুতে রেকর্ড উচ্চতায় ওঠার পর আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম ইতোমধ্যে ২৫ শতাংশের বেশি কমেছে। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল ও ইরান সংঘাত, মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা, ডলারের শক্তিশালী অবস্থান এবং সুদের হার বাড়তে পারে—এমন প্রত্যাশা স্বর্ণের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছিল। তবে সপ্তাহের শুরুতে স্বর্ণের দাম দুই সপ্তাহের সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছিল। যুদ্ধবিরতির অগ্রগতিতে মূল্যস্ফীতির উদ্বেগ কিছুটা কমে আসে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাশার তুলনায় দুর্বল কর্মসংস্থান প্রতিবেদন প্রকাশ পাওয়ায় স্বল্পমেয়াদে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনাও কমে যায়। সিএমই ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে সুদের হার পরিবর্তনের সম্ভাবনা নিয়ে বাজারের প্রত্যাশায়ও পরিবর্তন এসেছে। বর্তমানে হার বাড়ার সম্ভাবনা ধরা হচ্ছে প্রায় ৫৬ শতাংশ, যা কর্মসংস্থান প্রতিবেদন প্রকাশের আগে ৬০ শতাংশের বেশি ছিল। সাধারণত সুদের হার কম থাকলে সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়ে। অন্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও মিশ্র প্রবণতা দেখা গেছে। স্পট সিলভারের দাম ১ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬১ দশমিক ৪৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে। প্লাটিনামের দাম ০ দশমিক ১ শতাংশ কমে ১ হাজার ৬২৯ দশমিক ৪৬ ডলার হয়েছে। তবে প্যালাডিয়ামের দাম ০ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ১ হাজার ২৭২ দশমিক ৮৫ ডলারে পৌঁছেছে। সূত্র: রয়টার্স, এবিসি রিফাইনারি, সিএমই ফেডওয়াচ টুল। রিপোর্ট-২ বিকল্প শিরোনাম-১: আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দরপতন, ফেডের নীতিগত ইঙ্গিতের অপেক্ষায় বিনিয়োগকারীরা বিকল্প শিরোনাম-২: দুই সপ্তাহের উচ্চতা ধরে রাখতে পারল না স্বর্ণ, কমেছে আন্তর্জাতিক দাম দুই সপ্তাহের সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছানোর পর আন্তর্জাতিক বাজারে আবারও কমেছে স্বর্ণের দাম। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের পরবর্তী নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়ে বিনিয়োগকারীদের অপেক্ষা এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি মূল্যবান ধাতুটির বাজারে নতুন করে চাপ সৃষ্টি করেছে। ফলে সপ্তাহের শুরুতে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেলেও মঙ্গলবার লেনদেনে দাম নিম্নমুখী হয়েছে। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত স্পট গোল্ডের দাম ০ দশমিক ৬ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৩৮ দশমিক ৩২ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে আগস্ট মাসের স্বর্ণ ফিউচারের মূল্য ০ দশমিক ৪ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৪৯ দশমিক ৯০ ডলারে লেনদেন হয়। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে বিনিয়োগকারীরা ফেডারেল রিজার্ভের বৈঠকের কার্যবিবরণী প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছেন। কারণ সেখান থেকে সুদের হার সংক্রান্ত ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত পাওয়া যেতে পারে। এবিসি রিফাইনারির গ্লোবাল হেড অব ইনস্টিটিউশনাল মার্কেটস নিকোলাস ফ্র্যাপেল বলেন, স্বর্ণের বাজার এখন একটি স্থিতিশীল সমর্থন স্তর তৈরির চেষ্টা করছে এবং পরবর্তী দিকনির্দেশনা অনেকটাই নির্ভর করবে ফেডের অবস্থানের ওপর। তিনি আরও জানান, নতুন চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শের প্রথম বৈঠকে সুদের হার নিয়ে আগাম কোনো স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়নি। অর্থনৈতিক বাস্তবতার পরিবর্তনের সঙ্গে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নমনীয় নীতি অনুসরণ করছে। চলতি বছরের শুরুতে সর্বোচ্চ অবস্থানে ওঠার পর থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম ২৫ শতাংশেরও বেশি কমেছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, ডলারের শক্তিশালী অবস্থান, মূল্যস্ফীতির চাপ এবং সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা স্বর্ণবাজারে দীর্ঘ সময় চাপ সৃষ্টি করেছে। তবে সোমবার যুদ্ধবিরতির ইতিবাচক অগ্রগতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাশার তুলনায় দুর্বল কর্মসংস্থান তথ্য প্রকাশের পর স্বর্ণের দাম দুই সপ্তাহের সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছিল। এসব তথ্যের ফলে স্বল্পমেয়াদে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা কিছুটা কমে যায়। সিএমই ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা বর্তমানে প্রায় ৫৬ শতাংশ, যা কর্মসংস্থান প্রতিবেদন প্রকাশের আগে ৬০ শতাংশের বেশি ছিল। সুদের হার তুলনামূলক কম থাকলে সুদবিহীন বিনিয়োগ হওয়ায় স্বর্ণের প্রতি চাহিদা সাধারণত বৃদ্ধি পায়। এদিকে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও ভিন্নধর্মী প্রবণতা দেখা গেছে। স্পট সিলভারের দাম ১ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬১ দশমিক ৪৮ ডলারে নেমেছে। প্লাটিনামের দাম সামান্য কমে ১ হাজার ৬২৯ দশমিক ৪৬ ডলার হয়েছে। তবে প্যালাডিয়ামের দাম ০ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ১ হাজার ২৭২ দশমিক ৮৫ ডলারে পৌঁছেছে। সূত্র: রয়টার্স, এবিসি রিফাইনারি, সিএমই ফেডওয়াচ টুল।
মন্তব্য:০