২২ জুলাই, ২০২৬
আন্তর্জাতিক › আন্তর্জাতিক

চিত্র:ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে শিক্ষা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলন| |ক্রেডিট : ইন্টারনেট
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে শিক্ষা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলন এখন কেবল শিক্ষানীতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বেকারত্ব, মূল্যস্ফীতি, কর্মসংস্থান এবং সরকারের জবাবদিহির মতো জাতীয় ইস্যু। বিশ্লেষকদের মতে, ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) নামে পরিচিত নাগরিক উদ্যোগের এই আন্দোলন ভবিষ্যতে নরেন্দ্র মোদি সরকারের জন্য বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের কারণ হতে পারে। বিবিসি বাংলার মঙ্গলবার (২১ জুলাই) প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, সোমবার দিল্লির যন্তর মন্তর এলাকায় অনুষ্ঠিত বিক্ষোভে হাজারো তরুণ-তরুণীর অংশগ্রহণ আন্দোলনের নতুন মাত্রা তুলে ধরেছে। মেট্রো স্টেশন বন্ধ, সড়কে কড়াকড়ি এবং পুলিশি বাধা সত্ত্বেও আন্দোলনকারীরা নির্ধারিত স্থানে পৌঁছাতে সক্ষম হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে। গত এক মাস ধরে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে সিজেপি। সংগঠনটি কোনো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল নয়, বরং নাগরিকদের একটি স্বতঃস্ফূর্ত উদ্যোগ। বিশ্লেষকদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জনপ্রিয়তা এবার বাস্তব জনসমর্থনে রূপ নিয়েছে। বিশেষ করে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং চাকরিপ্রত্যাশী তরুণদের ব্যাপক উপস্থিতি আন্দোলনের শক্তি বাড়িয়েছে। স্বাধীন সাংবাদিক স্মিতা শর্মা বলেন, তরুণরা সরকারের কাছে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, মূল্যস্ফীতি ও ভবিষ্যতের নিরাপত্তা—সবগুলো বিষয়েই তারা কার্যকর পদক্ষেপ চায়। তার মতে, সরকার যদি এই বার্তা গুরুত্ব না দেয়, তবে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের আন্দোলনের মুখোমুখি হতে পারে। অন্যদিকে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডা বলেন, আন্দোলনকারীদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরকারের আলোচনা হয়েছে এবং তারা লিখিত স্মারকলিপিও দিয়েছেন। তবে সরকার এখনো আন্দোলনের মূল দাবিগুলো মেনে নেওয়ার ঘোষণা দেয়নি। সিজেপিও জানিয়েছে, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাদের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। সমাজকর্মী যোগেন্দ্র যাদব বলেন, নতুন প্রজন্ম শুধু নিজেদের স্বার্থ নয়, বরং দেশের শিক্ষা, অর্থনীতি ও গণতান্ত্রিক জবাবদিহির প্রশ্নেও সোচ্চার হয়েছে। একই ধরনের মত প্রকাশ করে প্রবীণ সাংবাদিক হেমন্ত আত্রি বলেন, জনগণের উদ্বেগকে দীর্ঘদিন উপেক্ষা করা সম্ভব নয় এবং শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও অর্থনীতির মতো ইস্যুতে কার্যকর উদ্যোগ না নিলে সরকারের সামনে আরও বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি হতে পারে। সূত্র: বিবিসি বাংলা।
মন্তব্য:০