৬ জুলাই, ২০২৬
স্বদেশ › স্বদেশ

চিত্র:ঢাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থার দাবি| |ক্রেডিট : ইন্টারনেট
বর্ষা মৌসুমে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিতেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করছে। সর্বশেষ বৃষ্টিতে রাজধানীর অন্তত ১০৩টি স্থানে পানি জমে দীর্ঘ সময় ধরে সড়ক ও ফুটপাত তলিয়ে থাকে। এতে অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ পথচারীদের ভোগান্তি বেড়ে যায়। তথ্য অনুযায়ী, জলাবদ্ধতার ১০৩টি স্পটের মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় রয়েছে ৬৫টি এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় ৩৮টি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সমস্যার কারণ ও সমাধানের পথ জানা থাকলেও পরিকল্পনার ঘাটতি, সমন্বয়ের অভাব এবং কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় বছরের পর বছর একই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি ঘটছে। ২০২০ সালের শেষ দিকে ঢাকা ওয়াসার কাছ থেকে বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের দায়িত্ব দুই সিটি করপোরেশনের কাছে হস্তান্তর করা হলেও এখনো এ খাতে স্বতন্ত্র ড্রেনেজ বিভাগ ও প্রয়োজনীয় দক্ষ জনবল গড়ে ওঠেনি। ফলে অস্থায়ী ব্যবস্থাপনার ওপর নির্ভর করেই বিশাল এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এদিকে রাজধানীর আশপাশের জলাশয় ও পানি ধারণক্ষম এলাকাগুলো ক্রমাগত ভরাট হয়ে যাচ্ছে। অনেক খাল বক্স কালভার্টে রূপান্তর হওয়ায় বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশনের স্বাভাবিক পথ সংকুচিত হয়েছে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত আউটলেট ও পাম্পিং স্টেশনের অভাবও জলাবদ্ধতার অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, স্থায়ী সমাধানের জন্য দুই সিটি করপোরেশনে আধুনিক যন্ত্রপাতিসহ পৃথক ড্রেনেজ বিভাগ গঠন, দক্ষ কারিগরি জনবল নিয়োগ এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন জরুরি। একই সঙ্গে ড্রেনেজ মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়ন, নতুন পাম্পিং স্টেশন নির্মাণ, নদ-নদীর নাব্যতা বৃদ্ধি এবং নিয়মিত খনন কার্যক্রম পরিচালনার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া পয়োবর্জ্য ও বৃষ্টির পানির পৃথক নিষ্কাশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং অবৈধভাবে ভরাট হওয়া জলাশয় পুনরুদ্ধারে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, সমন্বিত পরিকল্পনা ও জবাবদিহিমূলক বাস্তবায়নের মাধ্যমেই রাজধানীকে দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতার অভিশাপ থেকে মুক্ত করা সম্ভব। সূত্র: যুগান্তরের সম্পাদকীয়।
মন্তব্য:০