শিরোনাম
সিডনিতে ‘রক্তস্নাত ৩৬শে জুলাই’ স্মরণে বিএনপি অস্ট্রেলিয়ার দোয়া ও আলোচনা সভা *** চীনে এআই ও উচ্চপ্রযুক্তি খাতের প্রতিষ্ঠান দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে *** সিরামিক শিল্পের প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনে চীন-বাংলাদেশ সহযোগিতা বৃদ্ধির আহ্বান *** বিশ্বমঞ্চে প্রথমবারেই চমক, নিউক্লিয়ার অলিম্পিয়াডে চীনের ৪ পদক *** ইরান সংকটের প্রেক্ষাপটে নতুন প্রতিরক্ষা বলয়, সৌদি-তুরস্ক-পাকিস্তানের কৌশলগত জোট ***




↠সিডনি-বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট:


২৬ জুলাই, ২০২৬

স্বদেশ › স্বদেশ

মন্তব্য:০

News Picture

চিত্র:নতুন পে -স্কেল| |ক্রেডিট : ইন্টারনেট

চূড়ান্ত পর্যায়ে সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতনকাঠামো, ভাতা-পেনশনেও আসছে বড় পরিবর্তন

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত নতুন বেতনকাঠামো চূড়ান্ত অনুমোদনের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে। জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫-এর সুপারিশ পর্যালোচনায় গঠিত উচ্চপর্যায়ের কমিটি চলতি মাসেই তাদের কাজ শেষ করতে যাচ্ছে। এরপর সুপারিশ মন্ত্রিসভার অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে। সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে আগস্টের মধ্যে নতুন পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ করা হতে পারে, যদিও এর আর্থিক কার্যকারিতা ধরা হবে ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে। অর্থ বিভাগ সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন এক ধাপে হবে নাকি ধাপে ধাপে কার্যকর করা হবে, সে সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে মন্ত্রিসভা। শুরুতে তিন ধাপে বাস্তবায়নের আলোচনা থাকলেও পরে দুই ধাপের প্রস্তাবও বিবেচনায় আসে। বর্তমানে বিষয়টি পুরোপুরি সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। এবারের বেতনকাঠামো শুধু মূল বেতন বৃদ্ধিতে সীমাবদ্ধ থাকছে না। বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা ও যাতায়াত ভাতাসহ বিভিন্ন সুবিধা পুনর্বিন্যাসের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। কয়েকটি বিদ্যমান ভাতা একীভূত করার পাশাপাশি নতুন কিছু সুবিধা সংযোজনের বিষয়ও আলোচনায় রয়েছে। অবসর-সুবিধা, গ্র্যাচুইটি ও পেনশন ব্যবস্থার সংস্কার নিয়েও নীতিগত আলোচনা হয়েছে। এসব পরিবর্তন কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় একাধিক এসআরও জারির প্রস্তুতি চলছে। অর্থ বিভাগকে ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় খসড়া তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পর্যালোচনা কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে সচিব কমিটি আর্থিক ও প্রশাসনিক দিক যাচাই করে মন্ত্রিসভায় প্রতিবেদন দেবে। এরপর আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং, প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন এবং গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে নতুন কাঠামো কার্যকর হবে। ২০২৫ সালে গঠিত জাতীয় বেতন কমিশন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির সুপারিশ করেছে। কমিশনের প্রস্তাব অনুযায়ী, সর্বনিম্ন মূল বেতন ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বৈশাখী ভাতা ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। কমিশনের সুপারিশ মূল্যায়নের জন্য গত ২১ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদসচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিবসহ অর্থ, জনপ্রশাসন, আইন, প্রতিরক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। তারা জাতীয় বেতন কমিশন, জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশন এবং সশস্ত্র বাহিনী বেতন কমিটির সুপারিশও পর্যালোচনা করছেন। সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নিম্ন আয়ের সরকারি কর্মচারীদের জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডে তুলনামূলক বেশি বেতন বৃদ্ধির বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। প্রাথমিক আলোচনায় এসব গ্রেডে ৯০ থেকে ১০০ শতাংশ এবং উচ্চ গ্রেডে ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত বেতন বৃদ্ধির সম্ভাবনা বিবেচনায় রয়েছে। বর্তমানে প্রায় ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী ও ৯ লাখ পেনশনভোগীর জন্য বছরে প্রায় ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়। কমিশনের হিসাবে নতুন বেতনকাঠামো পুরোপুরি বাস্তবায়নে অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হতে পারে। তবে চলতি অর্থবছরের বাজেটে নতুন পে-স্কেলের আংশিক বাস্তবায়নের জন্য প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত বরাদ্দ সংরক্ষণ করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০১৫ সালের পর এটি হবে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সবচেয়ে বড় বেতন সংস্কার। মূল বেতন, ভাতা, পেনশন ও অবসর-সুবিধা একসঙ্গে পুনর্বিন্যাস হলে সরকারি বেতনব্যবস্থায় এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আসবে। সূত্র: অর্থ বিভাগ, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট সরকারি সূত্র।





মন্তব্য