১১ আগস্ট, ২০২৬
স্বদেশ › স্বদেশ

চিত্র:মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) রাজধানীর বিয়াম মিলনায়তনে ‘স্থানীয় পর্যায়ে বন্যার আগাম সতর্কতা ও প্রচার ব্যবস্থার উন্নয়ন’ প্রকল্পের অগ্রগতি অবহিতকরণ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।| |ক্রেডিট : সংগৃহীত
তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে উত্তরাঞ্চলের বন্যা ও খরার দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা মোকাবিলা করে অঞ্চলটিকে সমৃদ্ধ জনপদে রূপান্তর করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। তিনি বলেন, উত্তরাঞ্চলের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন ও সমৃদ্ধির সঙ্গে তিস্তা মহাপরিকল্পনার সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) রাজধানীর বিয়াম মিলনায়তনে ‘স্থানীয় পর্যায়ে বন্যার আগাম সতর্কতা ও প্রচার ব্যবস্থার উন্নয়ন’ প্রকল্পের অগ্রগতি অবহিতকরণ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। ‘অবকাঠামোগত দক্ষতা উন্নয়ন ও তথ্যের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সহনশীলতা বৃদ্ধি’ বা ‘প্রভাতী’ প্রকল্পের আওতায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। মন্ত্রী বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা উত্তর জনপদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি বাস্তবায়ন হলে বন্যা ও খরার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাব কমবে এবং উত্তরাঞ্চলে উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির নতুন সুযোগ তৈরি হবে। এ লক্ষ্যেই বর্তমান সরকার প্রকল্পটি বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণতার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ছয় ঋতুর বাংলাদেশে মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের দুর্যোগ ওতপ্রোতভাবে জড়িত। প্রায় প্রতিবছরই দেশের কোথাও না কোথাও বন্যা, নদীভাঙনসহ বিভিন্ন দুর্যোগ দেখা দেয়। এসব দুর্যোগে মানুষের স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত হয় এবং অনেকে সম্পদ ও জীবিকার উৎস হারান। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের দুর্দশা কাটিয়ে ওঠার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। কর্মশালায় জানানো হয়, উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বন্যাপ্রবণ তিন জেলা—গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম ও জামালপুরের মোট ১৯টি উপজেলায় স্থানীয় পর্যায়ে বন্যার আগাম সতর্কতা ও পূর্বাভাস ব্যবস্থা উন্নয়নের কাজ চলছে। মৌসুমি বন্যার আগাম তথ্য সংগ্রহ, পূর্বাভাস ব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং দ্রুত সতর্কবার্তা প্রচারের মাধ্যমে স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে বন্যার ঝুঁকি মোকাবিলায় সক্ষম করে তোলাই এ উদ্যোগের উদ্দেশ্য। প্রকল্পের মাধ্যমে বন্যার আগাম সতর্কবার্তা স্থানীয় মানুষের কাছে দ্রুত পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা উন্নত করা হচ্ছে। এতে মানুষ দুর্যোগের আগে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে পারবেন এবং সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি কমানোর সুযোগ তৈরি হবে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক রেজওয়ানুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেইন। এ ছাড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত সচিব এবিএম সফিকুল হায়দার, এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী বেলাল হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বক্তব্য দেন। বক্তারা স্থানীয় পর্যায়ে দুর্যোগের আগাম তথ্য ও সতর্কবার্তা পৌঁছে দেওয়ার কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তাদের মতে, সময়মতো সতর্ক করা গেলে বন্যাপ্রবণ এলাকার মানুষ নিজেদের জীবন, সম্পদ ও জীবিকার সুরক্ষায় আগাম প্রস্তুতি নিতে পারবেন। সূত্র: দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়।
মন্তব্য:০