৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
স্বদেশ › স্বদেশ

চিত্র:জাতীয় প্রেসক্লাবের ম্যানেজিং কমিটির ১২ সদস্যের একটি দল রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে বঙ্গভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।| |ক্রেডিট : বঙ্গভবন
সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা চর্চার পাশাপাশি গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, গণমাধ্যম গণতন্ত্রের অন্যতম প্রধান শক্তি। তাই গণতন্ত্র রক্ষার স্বার্থে গণমাধ্যমকেও রক্ষা করতে হবে এবং স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও সুশাসনের প্রশ্নে দায়িত্বশীল অবস্থান বজায় রাখতে হবে। মঙ্গলবার দুপুরে বঙ্গভবনে জাতীয় প্রেস ক্লাবের ম্যানেজিং কমিটির ১২ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন। রাষ্ট্রপতি জাতীয় প্রেস ক্লাবের সঙ্গে নিজের দীর্ঘ সম্পর্কের স্মৃতিচারণ করে বলেন, এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তার সম্পর্ক শুধু রাজনৈতিক নয়, বরং আত্মিক। জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়ে প্রেস ক্লাবের সদস্যরা তার পাশে ছিলেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন। সাংবাদিকদের কল্যাণে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, তার অবস্থান থেকে সাংবাদিকদের জন্য যতটুকু করা সম্ভব, তা করার চেষ্টা করবেন। সংবাদকর্মীদের কর্মসংস্থান সংকট নিয়ে আলোচনায় বন্ধ থাকা দৈনিক বাংলা-সহ অন্যান্য পত্রিকা পুনরায় চালুর উদ্যোগের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, বন্ধ পত্রিকা ও বিশেষ ট্রাস্টের অধীনে থাকা পত্রিকাগুলো পুনরায় চালু করা সম্ভব হলে অন্তত এক হাজার সাংবাদিকের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে। সংশ্লিষ্টদের এ বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার তাগিদ দেন তিনি। সাংবাদিক সমাজের বিভক্তি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, সাংবাদিকদের মধ্যে ঐক্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিভক্তি কোনো ক্ষেত্রেই সাফল্য এনে দেয় না। মৌলিক জায়গাগুলোতে ঐক্য প্রতিষ্ঠা করতে পারলে সরকার ও বিরোধী দলের সঙ্গে কার্যকর সম্পর্ক গড়ে তোলা সম্ভব হবে। সাংবাদিকদের নিজেদের সুরক্ষার পাশাপাশি অনিয়ম ও গণহারে সাংবাদিক ছাঁটাই বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি। গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে তরুণ প্রজন্মের মানসিকতায় পরিবর্তন আনার ক্ষেত্রেও গণমাধ্যমকে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি। তার ভাষায়, গণতন্ত্র শুধু একটি ব্যবস্থা নয়, এটি একটি সংস্কৃতি। পুরোনো কর্তৃত্ববাদী চিন্তাভাবনা পরিহার করে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ধারণ করতে হবে এবং নতুন প্রজন্মের মধ্যে গণতান্ত্রিক ভাষা ও মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। তিনি বলেন, আন্দোলনের মাধ্যমে রাজনৈতিক বা সামাজিক পরিবর্তন এলেও মানুষের চিন্তাভাবনায় পুরোনো ধ্যানধারণা থেকে গেলে কাঙ্ক্ষিত প্রকৃত পরিবর্তন আসবে না। সরকারের গঠনমূলক ও যৌক্তিক সমালোচনা করার পাশাপাশি সরকারের ভালো উদ্যোগ ও কাজগুলোও গণমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলে ধরার আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি। জনগণের নির্বাচিত সরকারকে দায়িত্ব পালনের জন্য প্রয়োজনীয় সময় দেওয়ার কথাও বলেন তিনি। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধসহ বৈশ্বিক নানা পরিস্থিতির কারণে সৃষ্ট জ্বালানি সংকটের প্রভাব জনগণের সামনে যথাযথভাবে তুলে ধরার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন রাষ্ট্রপতি। জাতীয় প্রেস ক্লাবের ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি প্রতিষ্ঠানটির উন্নয়নে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদানের কথা স্মরণ করেন। গণমাধ্যমের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে জাতীয় প্রেস ক্লাবের উন্নয়নে সরকারের সঙ্গে কার্যকর সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তার কথাও জানান তিনি। সাক্ষাৎকালে প্রেস ক্লাব সভাপতি হাসান হাফিজ প্রতিনিধিদলের সদস্যদের রাষ্ট্রপতির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন এবং সংগঠনের পক্ষ থেকে তাকে শুভেচ্ছা জানান। একই সঙ্গে সুবিধাজনক সময়ে প্রেস ক্লাবে যাওয়ার জন্য রাষ্ট্রপতিকে আমন্ত্রণ জানান তিনি। সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়া বলেন, প্রেস ক্লাবে রাষ্ট্রপতি তাদের পরিবারের একজন সদস্যের মতো ছিলেন। প্রেস ক্লাবের একজন সদস্য রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করায় তারা গর্বিত ও আনন্দিত। সদস্য কাদের গনি চৌধুরী অতীতের অপসাংবাদিকতার প্রসঙ্গ তুলে ধরে দায়িত্বশীল গণমাধ্যমের ধারা অব্যাহত রাখতে রাষ্ট্রপতির সহযোগিতা চান। সদস্য সৈয়দ আবদাল আহমদ রাষ্ট্রপতির সঙ্গে অতীতের স্মৃতি স্মরণ করে গণতন্ত্র রক্ষায় তার ত্যাগ ও অবদানের কথা তুলে ধরেন। তিনি গত ১৭ বছরে সাংবাদিকদের ওপর থাকা বাধা ও নিয়ন্ত্রণের কথা উল্লেখ করে বলেন, এর ফলে সাংবাদিকতার সংজ্ঞাই বদলে গিয়েছিল। বর্তমানে সাংবাদিকরা তুলনামূলকভাবে মুক্তভাবে লিখতে ও বলতে পারছেন এবং এই স্বাধীনতা অক্ষুণ্ন রাখার আহ্বান জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, সত্য জানতে হলে সাংবাদিকদের কাছে আসতে হবে, কারণ সাংবাদিকরাই প্রকৃত তথ্য তুলে ধরেন। সংবাদমাধ্যমের এই স্বাধীনতা অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি। এ সময় সাংবাদিকদের কল্যাণে দ্রুত দশম ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়নের জন্য সরকার ও রাষ্ট্রপতির সহযোগিতা কামনা করা হয়। একই সঙ্গে জাতীয় প্রেস ক্লাবের অবকাঠামো সম্প্রসারণে সহযোগিতা চাওয়া হলে রাষ্ট্রপতি তা দেওয়ার আশ্বাস দেন। প্রতিনিধিদলে ছিলেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ, সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়া এবং সদস্য কাদের গনি চৌধুরী, আবদুল হাই শিকদার, সৈয়দ আবদাল আহমদ, কাজী রওনাক হোসেন, জাহিদুল ইসলাম রনি, শাহনাজ বেগম পলি, মাসুমুর রহমান খলিলী ও এ কে এম মহসীন। সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব ও প্রেস সচিবসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য:০