৪ জুলাই, ২০২৬
খেলা › স্বদেশ

চিত্র:ঐতিহাসিক এই সাফল্যের পর দলের প্রধান কোচ হোসাম হাসান জয়টি ফিলিস্তিনের মানুষের উদ্দেশে উৎসর্গ করেন ।| |ক্রেডিট : ইন্টারনেট
অস্ট্রেলিয়াকে টাইব্রেকারে হারিয়ে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে প্রথম জয় তুলে নিয়েছে মিশর। ঐতিহাসিক এই সাফল্যের পর দলের প্রধান কোচ হোসাম হাসান জয়টি ফিলিস্তিনের মানুষের উদ্দেশে উৎসর্গ করেন। তার এই বার্তা যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় ব্যাপক সাড়া ফেলে এবং অনেক ফিলিস্তিনি সমর্থক মিশরের বিজয় উদযাপন করেন। যুক্তরাষ্ট্রের ডালাস স্টেডিয়ামে শুক্রবার (৩ জুলাই) অনুষ্ঠিত শেষ বত্রিশের লড়াইয়ে নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময় শেষে ১-১ গোলে সমতা ছিল। পরে টাইব্রেকারে ৪-২ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে মিশর। ১৩ মিনিটে ইমাম আশুরের হেডে এগিয়ে যায় মিশর। তবে ৫৫ মিনিটে মোহাম্মদ হানির আত্মঘাতী গোলে ম্যাচে সমতা ফেরে। অতিরিক্ত সময়েও কোনো দল গোল করতে না পারায় টাইব্রেকারে গড়ায় ম্যাচ। সেখানে হোসাম আবদেলমাগুইদের সফল শটে জয় নিশ্চিত হয়। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ার হ্যারি সাউতার ও লুকাস হেরিংটন পেনাল্টি মিস করেন। ম্যাচ শেষে হোসাম হাসান বলেন, ‘আল্লাহ ফিলিস্তিনিদের বিজয় দান করুন এবং তাদের শহীদদের প্রতি রহমত বর্ষণ করুন। এই জয় মিশরের জনগণের পাশাপাশি ফিলিস্তিনের মানুষের জন্য।’ ম্যাচ শেষে মিশর ও ফিলিস্তিনের পতাকা হাতে মাঠে উদযাপন করেন কোচ। খেলোয়াড়রাও সিজদার মাধ্যমে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। হাসানের বক্তব্য প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। গাজার বাসিন্দা তামের নাহেদ লিখেছেন, যুদ্ধের মধ্যেও মিশরের জয় তাদের মুখে হাসি ফিরিয়ে এনেছে। তিনি জানান, ধ্বংসপ্রাপ্ত ভবন ও অস্থায়ী তাঁবুর পাশেই অসংখ্য মানুষ একত্র হয়ে ম্যাচ উপভোগ করেছেন। সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওগুলোতে দেখা যায়, যুদ্ধের ক্ষতচিহ্ন বহন করা এলাকাতেও শত শত মানুষ বড় পর্দায় খেলা দেখছেন। শিশুদের অনেকের মুখে আঁকা ছিল মিশরের পতাকা। গোলের পর আনন্দ-উল্লাসে মেতে ওঠেন দর্শকেরা। কঠিন বাস্তবতার মধ্যেও ফুটবল তাদের কাছে সাময়িক স্বস্তি ও আশার প্রতীক হয়ে ওঠে।
মন্তব্য:০