২৬ আগস্ট, ২০২৬
স্বদেশ › স্বদেশ

চিত্র:বুধবার রাজধানীর চাঁন কমিউনিটি সেন্টারে ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি উপলক্ষে আহলা দরবার শরীফের উদ্যোগে আয়োজিত পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.)-এর সেমিনার ও মিলাদ মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্য।| |ক্রেডিট : ইন্টারনেট
ঢাকা, ২৬ আগস্ট ২০২৬ (বুধবার): মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর নীতি ও আদর্শ অনুসরণ করেই বিশ্বে শান্তি, মানবতা ও সাম্য প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম। বুধবার রাজধানীর চাঁন কমিউনিটি সেন্টারে ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি উপলক্ষে আহলা দরবার শরীফের উদ্যোগে আয়োজিত পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.)-এর সেমিনার ও মিলাদ মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর পৃথিবীতে আগমন সমগ্র মানবজাতির জন্য সুসংবাদ বয়ে এনেছে। তাঁর আগমনের মধ্য দিয়ে ইসলাম শান্তি, মানবতা ও সাম্যের ধর্ম হিসেবে বিশ্বে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ইসলামকে বিভিন্নভাবে বিতর্কিত করার চেষ্টা করা হলেও রাসুল (সা.) যে পথ ও আদর্শ দেখিয়ে গেছেন, তা অনুসরণ করলেই পৃথিবীতে কল্যাণ ও ন্যায়ভিত্তিক সাম্য প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বে নানা ধরনের সংকট ও অস্থিরতা বিরাজ করছে। এই পরিস্থিতির পরিবর্তনের জন্য মহানবী (সা.)-এর জীবনাদর্শ ও তাঁর অনুসৃত নীতিকে অনুসরণ করার কোনো বিকল্প নেই। মানবিক মূল্যবোধ, পারস্পরিক সহমর্মিতা ও ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনার মধ্য দিয়েই শান্তিপূর্ণ বিশ্ব গড়ে তোলা সম্ভব। দেশের বিদ্যুৎ, গ্যাসসহ বিভিন্ন চলমান সংকটের প্রসঙ্গ তুলে আবদুস সালাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা এসব সমস্যা নতুন সরকার উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছে। আগের সরকারের সময়কার অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও উদাসীনতার কারণে অনেক সংকট তৈরি হয়েছে। ফলে দীর্ঘদিনের এসব সমস্যা রাতারাতি সমাধান করা সম্ভব নয়। এগুলো সমাধানে সময়ের প্রয়োজন এবং পরিকল্পিত উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। পুরোনো ঢাকার নাগরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, জলাবদ্ধতার অন্যতম প্রধান কারণ হলো নাজুক ও ক্ষতিগ্রস্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা। সাময়িক কোনো উদ্যোগের মাধ্যমে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। বৃষ্টির পানি দ্রুত ও কার্যকরভাবে বুড়িগঙ্গা নদীতে নিষ্কাশনের জন্য একটি সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, অতীতে অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক পথগুলো ক্রমেই সংকুচিত হয়েছে। খাল, বিল, পুকুর ও বিভিন্ন খোলা জায়গা দখল করে ভবন নির্মাণের কারণে পানি প্রবাহের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলেই সামান্য বৃষ্টিতেও পুরোনো ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। পুরোনো ঢাকার সরু রাস্তা ও ঘনবসতির বাস্তবতাকে বিবেচনায় রেখে নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করার জন্য পরিকল্পিতভাবে কাজ করার কথাও জানান তিনি। ডেঙ্গু প্রতিরোধে নাগরিক সচেতনতার ওপর গুরুত্বারোপ করে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, শুধু সিটি কর্পোরেশনের একার পক্ষে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়; এজন্য নাগরিকদেরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে। প্রত্যেককে নিজ নিজ বাসাবাড়ি, আঙিনা এবং আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ঈমানের অঙ্গ। পুরোনো ঢাকাকে আরও সুন্দর, পরিচ্ছন্ন ও পর্যটনবান্ধব করে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি। এ লক্ষ্যে বুড়িগঙ্গা নদী পরিষ্কার করার পাশাপাশি পুরোনো ঢাকার ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি ও বিনোদনের বিভিন্ন আয়োজন পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান। এর মধ্যে নৌকাবাইচ, ঘুড়ি ওড়ানো, সাইকেল চালানো, কাওয়ালি ও কাসিদার মতো ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতিকে ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করেন তিনি। নতুন প্রজন্মকে পুরোনো ঢাকার ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত করে তুলতে সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান ডিএসসিসি প্রশাসক। তাঁর পরিকল্পনা অনুযায়ী, সপ্তাহে দুই দিন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের বাসে করে আহসান মঞ্জিল, লালবাগ কেল্লা, শহীদ মিনার, বড় কাটরা ও তারা মসজিদসহ রাজধানীর বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থানে নিয়ে যাওয়া হবে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাবে।
মন্তব্য:০