১৯ জুলাই, ২০২৬
স্বদেশ › স্বদেশ

চিত্র:রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস| |ক্রেডিট : ইন্টারনেট
রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বহর সম্প্রসারণ এবং আন্তর্জাতিক রুটে সেবা বাড়াতে বড় উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। পরিচালন সক্ষমতা বৃদ্ধি ও নতুন গন্তব্যে ফ্লাইট চালুর লক্ষ্য নিয়ে আগামী বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ ১০টি উড়োজাহাজ লিজে নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে ইউরোপীয় নির্মাতা এয়ারবাস থেকে আরও ১০টি নতুন উড়োজাহাজ কেনার বিষয়েও আলোচনা এগিয়ে চলছে। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে বিমানের বহরে ১৯টি উড়োজাহাজ রয়েছে। এর মধ্যে তিনটি সাময়িকভাবে গ্রাউন্ডেড থাকায় নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ফ্লাইট পরিচালনায় বাড়তি চাপ সৃষ্টি হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ১০টি উড়োজাহাজ যুক্ত হলে বহরের সংখ্যা বেড়ে ২৯-এ পৌঁছাবে, যা বর্তমান বহরের তুলনায় প্রায় ৫৩ শতাংশ বেশি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বৈশ্বিক সরবরাহ সংকটের কারণে বোয়িং ও এয়ারবাসের নতুন উড়োজাহাজ দ্রুত পাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। নতুন উড়োজাহাজ হাতে পেতে ২০৩০ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে। তাই স্বল্পমেয়াদে যাত্রীসেবা ও রুট সম্প্রসারণের চাহিদা পূরণে লিজের মাধ্যমে বহর বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, শুরুতে চারটি উড়োজাহাজ লিজে নেওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও প্রয়োজন অনুযায়ী সেই সংখ্যা সর্বোচ্চ ১০টিতে উন্নীত করা হতে পারে। চলতি বছরের মধ্যেই লিজ প্রক্রিয়ায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি আনার লক্ষ্য রয়েছে। তিনি বলেন, নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত হলে বিদ্যমান আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়ানো এবং নতুন গন্তব্যে সেবা চালু করা সহজ হবে। এতে যাত্রীসেবার মানও উন্নত হবে। লিজ কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ পর্যন্ত প্রায় ৪০টি প্রতিষ্ঠান আগ্রহ প্রকাশ করেছে। যাচাই-বাছাই শেষে একটি প্রতিষ্ঠানকে পুরো প্রক্রিয়া তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হবে। এদিকে, ছয় বছরের জন্য ড্রাই লিজে তিনটি বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার সংগ্রহে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করেছে বিমান। পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৭ সালের জানুয়ারির মধ্যে উড়োজাহাজগুলো বহরে যুক্ত হবে। এর আগে গত ৩০ এপ্রিল প্রায় ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে ১৪টি নতুন বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। ওই চুক্তি অনুযায়ী ২০৩১ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে পর্যায়ক্রমে উড়োজাহাজ সরবরাহ করা হবে। অন্যদিকে, ইউরোপীয় উড়োজাহাজ নির্মাতা এয়ারবাসও বাংলাদেশকে ছয়টি এ৩৫০-৯০০ ওয়াইডবডি এবং চারটি এ৩২১ নিও ন্যারোবডি উড়োজাহাজ সরবরাহের প্রস্তাব দিয়েছে। এ বিষয়ে সম্প্রতি ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং কয়েকটি ইউরোপীয় দেশের রাষ্ট্রদূতেরা ঢাকায় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম ও প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। সূত্র: বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়।
মন্তব্য:০