শিরোনাম
নেপালের ভয়াবহ বন্যায় ৫ হাজারের বেশি নিখোঁজ, মৃত্যু সনদ না পাওয়ায় বিপাকে পরিবার *** রসায়নে ২০২৬ সালের নোবেল পেলেন ফ্রান্স-জাপানের দুই বিজ্ঞানী *** শর্তহীন আলোচনায় বসতে প্রস্তুত পিটিআই, লংমার্চ চলবে ইমরানের সিদ্ধান্তে *** রুশ হামলায় কাঁপল ইউক্রেন, ক্ষেপণাস্ত্র-ড্রোনে নিহত ২৮ *** ভোটার তালিকা নিয়ে বিক্ষোভ: দিল্লিতে রাহুল-প্রিয়াঙ্কা আটক, দুই ঘণ্টা পর মুক্ত ***




↠সিডনি-বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট :


২ অক্টোবর, ২০২৬

প্রবাস › আন্তর্জাতিক:

মন্তব্য:০

News Picture

চিত্র:ভিসা বাতিলে কঠোর ট্রাম্প প্রশাসন, ১ লাখ ডলারের ফি নিয়ে আদালতের নিষেধাজ্ঞা| |ক্রেডিট : ইন্টারনেট

ভিসা বাতিলে কঠোর ট্রাম্প প্রশাসন, ১ লাখ ডলারের ফি নিয়ে আদালতের নিষেধাজ্ঞা

যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের অধীনে অভিবাসন ও ভিসা নীতিতে কঠোরতা অব্যাহত রয়েছে। ক্ষমতা গ্রহণের পর দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তর ২ লাখ ৫০ হাজারের বেশি ভিসা বাতিল করেছে। এর পাশাপাশি বিদেশি নাগরিকদের যাচাই-বাছাই জোরদার করা হয়েছে এবং অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে নেওয়া হয়েছে বিভিন্ন পদক্ষেপ। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজ ডিজিটালকে পররাষ্ট্র দপ্তরের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ভিসার শর্ত লঙ্ঘন, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়ানো, যুক্তরাষ্ট্র বা মার্কিন নাগরিকদের বিরুদ্ধে সহিংসতার আহ্বান, প্রতারণা, অভিবাসন ব্যবস্থার অপব্যবহার এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত ব্যক্তিদের ভিসা বাতিল করা হয়েছে। পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট জানান, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও দায়িত্ব নেওয়ার পর এখন পর্যন্ত ২ লাখ ৫০ হাজারের বেশি ভিসা বাতিল করা হয়েছে। তিনি বলেন, ভিসা-সংক্রান্ত প্রতিটি সিদ্ধান্তের সঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়। পিগটের ভাষ্য, মার্কিন ভিসা কোনো অধিকার নয়, বরং একটি সুযোগ। কমিউনিটির নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করতে পারে এমন ব্যক্তিদের বিষয়ে যাচাই-বাছাই অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি। বাতিল হওয়া ভিসার মধ্যে ২ হাজার ৩০০টি ‘বার্থ ট্যুরিজম’-এর সঙ্গে সম্পর্কিত বলে জানিয়েছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ। এ ক্ষেত্রে বিদেশি গর্ভবতী নারীরা সন্তান জন্মের মাধ্যমে মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া দুর্নীতির অভিযোগে সোমবার বলিভিয়া, কলম্বিয়া, ইকুয়েডর ও পেরুর ২৭ জন বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তা এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের ভিসা বাতিল করা হয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের ভিসা বাতিলের কার্যক্রম অবশ্য এর আগেও বিস্তৃত হয়েছে। চলতি গ্রীষ্মে প্রায় ২ লাখ বিদেশির বি-১ ও বি-২ ব্যবসায়িক ও পর্যটন ভিসা বাতিলের প্রস্তুতি নেওয়া হয়। তাদের অনেকে পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয়ের আবেদন করেছিলেন। উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টোফার ল্যান্ডো অভিযোগ করেন, ভুয়া আশ্রয়ের দাবি আইনি ব্যবস্থার ফাঁকফোকরের অপব্যবহার করছে এবং আদালতে মামলার চাপ বাড়াচ্ছে। গত আগস্টে ১ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি ভিসা বাতিল করেছিল মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। হামলা, মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো, চুরি এবং মাদকসংক্রান্ত অপরাধে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মুখোমুখি হওয়া ব্যক্তিদের ভিসা বাতিলের ঘটনাও ছিল এর মধ্যে। এদিকে বিদেশি দক্ষ কর্মীদের জন্য প্রস্তাবিত ১ লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি নিয়েও আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আদালত দ্বিতীয়বারের মতো এ ফি কার্যকরের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ার অকল্যান্ডের মার্কিন জেলা জজ হেউড গিলিয়াম এ আদেশ দেন। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রয়োজনীয় নিয়মকানুন তৈরির প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই ফি কার্যকরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল বলে আদালত পর্যবেক্ষণ করেছেন। ইউনিয়ন, নিয়োগকর্তা ও অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের একটি জোটের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এ সিদ্ধান্ত দেন। অক্টোবরে দায়ের করা মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ১ লাখ ডলারের ফি কার্যকরের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। এর আগে জুনে বোস্টনের একজন ফেডারেল বিচারক ২০টি অঙ্গরাজ্যের করা পৃথক মামলায় একই ফি সাময়িকভাবে স্থগিত করেছিলেন। পরে জুলাইয়ে বোস্টনভিত্তিক একটি আপিল আদালত সেই সিদ্ধান্ত বহাল রাখে। এদিকে গত আগস্টে ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি প্রায় ১ লাখ ৩ হাজার ডলারের একটি স্থায়ী ফি চালুর উদ্যোগ নেয়। প্রস্তাবটি চূড়ান্ত হলে সেটিও আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। তবে প্রস্তাবিত ওই ফি এবং ট্রাম্প প্রশাসনের নির্ধারিত ১ লাখ ডলারের এইচ-১বি ফি নিয়ে চলমান মামলার আইনি বিষয় এক নয়। সূত্র: ফক্স নিউজ ডিজিটাল ও রয়টার্স





মন্তব্য