২৬ জুন, ২০২৬
আন্তর্জাতিক › আন্তর্জাতিক:

চিত্র:ভেনেজুয়েলায় জোড়া ভূমিকম্প| |ক্রেডিট : ইন্টারনেট
ভেনেজুয়েলার উপকূলীয় শহর কাতিয়া লা মারে পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। ধসে পড়া বহুতল ভবন ও ঘরবাড়ির ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও বহু মানুষ আটকা পড়ে আছেন। বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতা এবং ধীরগতির উদ্ধার তৎপরতার কারণে দুর্গত মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। দেশটির অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ জানিয়েছেন, সর্বশেষ হিসাবে ভূমিকম্পে ১৮৮ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে। আহত হয়েছেন অন্তত ৯৭১ জন। উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ভূমিকম্পের ১২ ঘণ্টা পার হলেও অনেক এলাকায় পর্যাপ্ত উদ্ধারকর্মী কিংবা প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি পৌঁছায়নি। ফলে স্বজনদের নিজেরাই ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আটকে পড়াদের উদ্ধারের চেষ্টা করছেন। ৪৯ বছর বয়সী বাসিন্দা ল্যারি রোজাস বলেন, তার পরিবারের কয়েকজন সদস্য ধসে পড়া ভবনের নিচে আটকা পড়েছেন। কিন্তু প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম বা শারীরিক সক্ষমতা না থাকায় তিনি তাদের উদ্ধার করতে পারছেন না। একই ধরনের অভিযোগ করেছেন আরও অনেক বাসিন্দা। এক নারী জানান, তার মেয়ে একটি ১২ তলা ভবনের নিচে আটকা পড়ে আছে। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও উদ্ধারকারী দল সেখানে পৌঁছায়নি বলে তিনি অভিযোগ করেন। স্বজনদের এমন অসহায় অবস্থায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, বুধবার সন্ধ্যা ৬টা ৪ মিনিটে প্রথম ৭ দশমিক ২ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। মাত্র ৪০ সেকেন্ড পর ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দ্বিতীয় শক্তিশালী ভূমিকম্প কাতিয়া লা মারসহ আশপাশের অঞ্চলকে আবারও কাঁপিয়ে দেয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এত অল্প সময়ের ব্যবধানে দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানায় ভবন ও অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ধসে পড়া ভবন, ভাঙা সড়ক এবং বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার কারণে উদ্ধার তৎপরতা ব্যাহত হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে উদ্ধারকারী দল মোতায়েন করা হয়েছে। তবে পরিস্থিতির ভয়াবহতা এবং ধ্বংসস্তূপের পরিমাণ বেশি হওয়ায় অভিযান সময়সাপেক্ষ হয়ে পড়েছে। সূত্র: ইউএসজিএস ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।
মন্তব্য:০