২৫ জুন, ২০২৬
আন্তর্জাতিক › আন্তর্জাতিক:

চিত্র:ভূমিকম্পের পর কারাকাসে ধ্বংসস্তূপের মধ্যে উদ্ধারকারীরা তল্লাশি কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।| |ক্রেডিট : ছবি: রয়টার্স
পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে ভেনেজুয়েলার বিস্তীর্ণ অঞ্চল লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। মাত্র ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে আঘাত হানা এই দুই কম্পনে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৬৪ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। আহত হয়েছেন প্রায় এক হাজার মানুষ। দেশজুড়ে চলমান উদ্ধার অভিযানের মধ্যে ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও অনেক মানুষ আটকে থাকার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। দুর্যোগের পর বহু ভবন ধসে পড়েছে এবং অসংখ্য স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। আফটারশকের আশঙ্কায় হাজারো মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানের খোঁজে বেরিয়ে পড়েছেন। অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ জানিয়েছেন, উদ্ধারকর্মীরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে অনেক দুর্গম অঞ্চলে এখনও পূর্ণাঙ্গভাবে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। ফলে হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে তিনি সতর্ক করেছেন। ইউএসজিএসের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ২ এবং এর কেন্দ্রস্থল ছিল ইয়ারাকুয়ি অঙ্গরাজ্যের সান ফেলিপে এলাকা। এর মাত্র ৩৯ সেকেন্ড পর ৭ দশমিক ৫ মাত্রার আরও একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এত স্বল্প সময়ের ব্যবধানে দুটি বড় কম্পন হওয়ায় ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। রাজধানী কারাকাসেও কম্পনের প্রভাব ছিল তীব্র। শহরের বিভিন্ন ভবনে বড় ধরনের ফাটল দেখা গেছে এবং কিছু স্থাপনা ধসে পড়েছে। বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতা ও জ্বালানি সংকটের কারণে জরুরি পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া ব্যক্তিদের জীবিত উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। ভূমিকম্পের পর সরকার জরুরি অবস্থা জারি করেছে। সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস এবং বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। একই সঙ্গে নাগরিকদের ঝুঁকিপূর্ণ ভবন থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এদিকে প্রধান ভূমিকম্পের পর থেকে ২০টির বেশি আফটারশক অনুভূত হওয়ায় মানুষের মধ্যে আতঙ্ক আরও বেড়েছে। নতুন করে ভবন ধসের শঙ্কায় অনেকে রাস্তায়, খোলা মাঠে কিংবা অস্থায়ী তাঁবুতে আশ্রয় নিয়েছেন। ভূতাত্ত্বিক বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ভেনেজুয়েলা ক্যারিবীয় ও দক্ষিণ আমেরিকান টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত। এই ভূ-প্রাকৃতিক অবস্থানের কারণে অঞ্চলটি ভূমিকম্পপ্রবণ। ইউএসজিএসের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, দ্বিতীয় ভূমিকম্পটি অগভীর স্ট্রাইক-স্লিপ ফল্টিংয়ের ফলে সংঘটিত হয়েছে, যা শক্তিশালী ভূকম্পন সৃষ্টির অন্যতম কারণ। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে লা গুয়াইরা, আরাগুয়া, কারাবোবো ও ফ্যালকন অঞ্চল। এসব এলাকায় বাড়িঘর, সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অনেক জায়গায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় দুর্গত মানুষের কাছে ত্রাণ পৌঁছাতে বিলম্ব হচ্ছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি এই দুর্যোগ ভেনেজুয়েলাকে বড় ধরনের মানবিক চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিয়েছে। উদ্ধার অভিযান শেষ হওয়ার আগেই পুনর্বাসন ও পুনর্গঠন পরিকল্পনা নিয়ে ভাবতে হচ্ছে দেশটির সরকারকে। সূত্র: মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস), রয়টার্স ও ভেনেজুয়েলার সরকারি বিবৃতি।
মন্তব্য:০