৭ জানুয়ারি, ২০২৬
আন্তর্জাতিক › বিজ্ঞান:

চিত্র:চীনের গুহা-প্রশিক্ষণ উদ্যোগ| |ক্রেডিট : সিএমজি:
সম্প্রতি ছোছিং শহরের একটি প্রাকৃতিক গুহাতে, চীনের নভোচারীদের জন্য প্রথম গুহা-প্রশিক্ষণ শেষ হয়। মহাকাশের চরম অবস্থার সাথে গুহার পরিবেশের মিলমিশ আছে; যেমন, বিচ্ছিন্নতা, আবদ্ধতা ও অন্ধকার। মহাকাশকেন্দ্রে দীর্ঘমেয়াদী মিশন ও চাঁদে মানুষ অবতরণের মিশনের জন্য জটিল গুহা-প্রশিক্ষণ সহায়ক। ২০১৬ সালের পর থেকে, চীনের নভোচারী গবেষণা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের পরিদর্শন দল, কুয়াংসি, কুইচৌ, হুনান, আনহুই, ছোংছিংসহ ৭টি প্রদেশ ও শহরে দশটিরও বেশি গুহাতে বিস্তারিত ও সূক্ষ্ম পরিদর্শন ও পর্যবেক্ষণকাজ চালায়। প্রশিক্ষণের পরিকল্পনা অনুযায়ী, নভোচারীদের গুহাতে ৬ দিন ধরে কাজ করতে ও বসবাস করা জরুরি। এর জন্য শত শত কিলোগ্রামের সরবরাহদ্রব্য ও সরঞ্জাম লাগে। পরিদর্শন দলের জন্য গুহার ভেতরে সরবরাহদ্রব্য ও সরঞ্জামের পরিবহন এবং গুহার বাইরে নমুনা ও গৃহস্থালির বর্জ্যের পরিবহন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠল। বারবার পরিদর্শন, মূল্যায়ন ও বিবেচনার পর, পরিদর্শন দলের সদস্যরা নভোচারীদের গুহা-প্রশিক্ষণের জন্য ছোংছিং শহরের উলোং এলাকার একটি প্রাকৃতিক গুহা নির্বাচন করেন। চীনের দ্বিতীয় ব্যাচের নভোচারীদের মধ্যে অন্যতম হচ্ছেন থাং হুোং পো, যার দুবার মহাকাশে যাওয়া অভিজ্ঞতা আছে। এবার প্রশিক্ষণে তিনি দ্বিতীয় গ্রুপের কমান্ডার ছিলেন। তাঁর নেতৃত্বে ৭ জন নভোচারী একবার একটি ৩০ মিটার দীর্ঘ গুহাপথে অনুসন্ধানকাজ চালান। এ গুহাপথ দিয়ে একবারে কেবল একজন যাতায়াত করতে পারে। প্রায় এক মাসব্যাপী গুহা প্রশিক্ষণকালে, ৪টি গ্রুপে ২৮ জন নভোচারী স্যাঁতস্যাঁতে, সংকীর্ণ ও অন্ধকার হুহাতে ৬ দিন করে কাটান। পরিবেশগত পর্যবেক্ষণ, গুহা ম্যাপিং, মহাকাশ ও পৃথিবীর মধ্যে সিমুলেটেড যোগাযোগ, এবং দলগত মনস্তাত্ত্বিক ও আচরণগত প্রশিক্ষণসহ ১০টিরও বেশি পরীক্ষা সম্পন্ন করেন তাঁরা। চলতি বছরের মে মাসে, চীনের নভোচারী গবেষণা ও প্রশিক্ষণকেন্দ্র প্রশিক্ষকের প্রাক-প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করে। নভোচারীদের মনস্তাত্ত্বিক পরামর্শদাতা হিসেবে, চিয়াং ইউয়ান সিমুলেটেড নভোচারী হিসেবে প্রাক-প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করেন। প্রশিক্ষণের তৃতীয় গ্রুপের কমান্ডার লিউ ইয়াং বলেন, যারা মহাকাশে যাননি, তাদের জন্য এই প্রশিক্ষণ আরও ফলপ্রসূ। সরবরাহদ্রব্য ব্যবস্থাপনা, কর্তব্যবোধ, দলগত সচেতনতা, সেবা সচেতনতা ও পরোপকারসহ নানান বিষয়ে নভোচারীরা অগ্রগতি অর্জন করেছেন। চীনের প্রথম নব্বই-এর দশকের পরবর্তী পুরুষ নভোচারী সুং লিং তোং বলেন, ৬ দিনব্যাপী হুহা প্রশিক্ষণে ক্লান্ত লাগে; কিন্তু আমি খুব পরিপূর্ণ বোধ করি। পুরো প্রশিক্ষণের প্রক্রিয়া ঝুকিপূর্ণ, যা আমাকে অনেককিছু শিখিয়েছে। হুহার ভেতরে তৃতীয় দিনে, সুং লিং তোং ও তার দলের সদস্যরা শাখা হুহার গন্তব্যে পৌঁছান, যেখানকার সংকীর্ণ গুহা চুনাপাথরের গুঁড়ো এবং জিপসাম স্ট্যালাকটাইট দিয়ে তৈরি। এই সুন্দর চিত্র দেখে তিনি গুহাতে অন্বেষণ, এমনকি মানবজাতির মহাকাশ অনুসন্ধানের অর্থ খুঁজে পান। তিনি বলেন, গুহা অনুসন্ধান বা মহাকাশে অনুসন্ধান, দুটোই আশা ও অজানা অন্বেষণের বিষয়। চীনের নভোচারীদের প্রথম গুহা-প্রশিক্ষণের লক্ষ্য হচ্ছে, নভোচারীদের বিপদ মোকাবিলার ক্ষমতা, স্বাধীনভাবে কাজ করার ক্ষমতা, সহযোগিতার ক্ষমতা, জরুরি পরিস্থিতিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা, বৈজ্ঞানিক গবেষণার ক্ষমতা, শারীরিক সহনশীলতা ও চরম পরিবেশে মানসিক স্থিতিস্থাপকতা উন্নত করা। ভবিষ্যতে মহাকাশকেন্দ্রে দীর্ঘমেয়াদী কার্যক্রম ও চাঁদে মানুষ অবতরণের জন্য এই প্রশিক্ষণ শক্তিশালী সহায়তা প্রদান করবে বলে আশা করা যায়। সূত্র:অনুপমা-আলিম-ছাই,চায়না মিডিয়া গ্রুপ।

image : চীনের গুহা-প্রশিক্ষণ উদ্যোগ | credit : সিএমজি:
মন্তব্য:০