২৫ জুলাই, ২০২৬
আন্তর্জাতিক › আন্তর্জাতিক

চিত্র:ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র| |ক্রেডিট : ইন্টারনেট
ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেছেন। ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-এর নেতৃত্বে টানা কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা বিক্ষোভ ও নিট-ইউজি মেডিকেল প্রবেশিকা পরীক্ষা ঘিরে বিতর্কের পর শনিবার তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দেন। পদত্যাগপত্রে ধর্মেন্দ্র প্রধান তার সিদ্ধান্তের কারণ ব্যাখ্যা করে বলেন, নিট-ইউজি পরীক্ষা নিয়ে সৃষ্ট পরিস্থিতি যেন শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ক্ষতিগ্রস্ত না করে এবং কোনো ‘দেশবিরোধী শক্তি’ যেন এই অস্থিরতার সুযোগ নিতে না পারে—সেই লক্ষ্যেই তিনি দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। শিক্ষার্থী ও তরুণদের উদ্দেশে হিন্দিতে লেখা পদত্যাগপত্রটি তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) প্রকাশ করেন। সেখানে তিনি নিজের দায়িত্বের নৈতিক দায় স্বীকার করার পাশাপাশি সংকট মোকাবিলায় সরকারের নেওয়া পদক্ষেপগুলোর বিস্তারিত ব্যাখ্যাও তুলে ধরেন। চিঠিতে ধর্মেন্দ্র প্রধান লিখেছেন, দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিন থেকেই তিনি নিজের কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন ছিলেন এবং এই সংকট থেকে কখনো পিছিয়ে যাননি। নিট-ইউজি পরীক্ষায় অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ ওঠার পরপরই বিষয়টি তদন্তের জন্য কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা (সিবিআই)-এর কাছে হস্তান্তর করা হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি আরও জানান, বিতর্কিত পরীক্ষার বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ হিসেবে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছিল। তার দাবি, ২১ জুন অনুষ্ঠিত পুনঃপরীক্ষা কেন্দ্রীয় সরকার, রাজ্য সরকার ও জেলা প্রশাসনের সমন্বিত প্রচেষ্টায় সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। পদত্যাগপত্রে বিদায়ী শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দিল্লির যন্তর মন্তরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যে অস্থির পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, তা বিবেচনায় নিয়ে তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তার মতে, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ যেন কোনো আইনি জটিলতায় আটকে না যায় এবং দেশের ঐক্য ও স্থিতিশীলতা বজায় থাকে—এ বিষয়গুলোই ছিল তার সিদ্ধান্তের মূল কারণ। তবে তিনি অভিযোগ করেন, পুরো বিতর্কের সময় দায়িত্বশীল পদে থাকা কিছু ব্যক্তি সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছেন। যদিও তিনি তার বক্তব্যে কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের নাম উল্লেখ করেননি। ধর্মেন্দ্র প্রধান বলেন, সাম্প্রতিক কয়েক দিনের ঘটনাপ্রবাহ তাকে গভীরভাবে ব্যথিত করেছে। তবে এটি তার ব্যক্তিগত সম্মানের বিষয় নয়; বরং শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষা এবং দেশের বৃহত্তর স্বার্থ বিবেচনা করেই তিনি পদত্যাগ করেছেন। চিঠির শেষাংশে তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে আহ্বান জানান, তারা যেন গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্য থেকে দূরে থাকেন এবং নিজেদের পড়াশোনা ও ভবিষ্যৎ গঠনে মনোযোগ দেন। সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস।
মন্তব্য:০