১ আগস্ট, ২০২৬
স্বদেশ › স্বদেশ

চিত্র:প্রতীকী ‘প্রবাসী কার্ড’| |ক্রেডিট : ইন্টারনেট
বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠাতে আরও উৎসাহিত করতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে নাগরিক সেবা সম্প্রসারণের ধারাবাহিকতায় এবার চালু হচ্ছে ‘প্রবাসী কার্ড’। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হলে আগামী আগস্টের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যেই পরীক্ষামূলকভাবে এই কার্ড চালু করা হতে পারে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রবাসী কার্ডধারীরা ডুয়েল কারেন্সি সুবিধা পাবেন। দেশে ও বিদেশে সমানভাবে ব্যবহারযোগ্য এই কার্ডের মাধ্যমে অনলাইন কেনাকাটাও করা যাবে। পাশাপাশি বিমানবন্দরের লাউঞ্জ ব্যবহারের সুযোগ, বিমানের টিকিট ও হোটেল ভাড়ায় মূল্যছাড়সহ বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে বিশেষ সুবিধা পাওয়ার ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। এছাড়া দেশে গড়ে ওঠা বিভিন্ন প্রবাসী সিটি ও আবাসন প্রকল্পে কার্ডধারীদের জন্য বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে বিএমইটির আওতাধীন বীমা ও পুনর্বাসন সুবিধাও এই কার্ডের সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে। ফলে কার্ডধারীরা আর্থিক ক্ষতিপূরণ, সামাজিক সুরক্ষা এবং সরকারি বিভিন্ন কল্যাণমূলক সেবার আওতায় আসবেন। প্রবাসী কল্যাণ ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর জানিয়েছেন, বর্তমানে বৈধ রেমিট্যান্সের ওপর দেওয়া আড়াই শতাংশ সরকারি প্রণোদনা বাড়িয়ে প্রবাসী কার্ডধারীদের জন্য ৩ শতাংশ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, চলতি বছরের মধ্যেই দুই লাখ প্রবাসীর হাতে এই কার্ড পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথম পর্যায়ে পরীক্ষামূলকভাবে কয়েকটি দেশে পাঁচ হাজার প্রবাসীকে এই কার্ড দেওয়া হবে। পাইলট প্রকল্পের সফলতার ভিত্তিতে ধাপে ধাপে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত বাংলাদেশিদের মধ্যে কার্ড বিতরণ করা হবে। সরকারের লক্ষ্য, আগস্টের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যেই আনুষ্ঠানিকভাবে এই কার্যক্রম শুরু করা। সরকারের এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন প্রবাসীরাও। মালয়েশিয়াপ্রবাসী পাভেল সারওয়ার বলেন, প্রবাসী কার্ডের ঘোষিত সুবিধাগুলো কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠানোর প্রবণতা আরও বাড়বে। তবে অতীতে বিএমইটি কার্ড গ্রহণে যে ধরনের জটিলতা ও হয়রানির অভিযোগ ছিল, নতুন কার্ড ব্যবস্থায় সেসব সমস্যা যেন না থাকে, সে প্রত্যাশাও জানান তিনি। সরকারি সূত্র জানিয়েছে, পরীক্ষামূলক কার্যক্রম সফল হলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশ দূতাবাস ও কূটনৈতিক মিশনের মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে প্রবাসীদের হাতে এই কার্ড তুলে দেওয়া হবে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন এই উদ্যোগ প্রবাসীদের সেবা সহজ করার পাশাপাশি বৈধ রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়াতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
মন্তব্য:০