৮ জুলাই, ২০২৬
স্বদেশ › আন্তর্জাতিক:

চিত্র:প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।| |ক্রেডিট : ছবি: সংগৃহীত
দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তার পর বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য আবারও উন্মুক্ত হচ্ছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক মালয়েশিয়া সফরের পর দুই দেশের আলোচনার মাধ্যমে এ অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছে সরকার। আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে সম্পূর্ণ বিনা খরচে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানো শুরু হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সিলেট সার্কিট হাউসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী বলেন, এবার কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আগের মতো বিদেশি পক্ষের ওপর নির্ভর না করে বাংলাদেশ নিজেই রিক্রুটিং এজেন্সি নির্বাচন করবে। অতীতের অভিজ্ঞতা বিবেচনায় সিন্ডিকেট, অনিয়ম ও দুর্নীতি রোধে সরকার সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করছে। তিনি বলেন, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক নিয়োগব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে শ্রমবাজার দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীল রাখা সম্ভব হবে। বিশেষজ্ঞরাও মনে করছেন, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় না থাকলে ভবিষ্যতে আবারও এই গুরুত্বপূর্ণ শ্রমবাজারে জটিলতা তৈরি হতে পারে। মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারের ইতিহাসে কয়েক দফা বন্ধ ও চালুর ঘটনা রয়েছে। ২০০৮ সালে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে বাংলাদেশি কর্মী নেওয়া বন্ধ করে দেশটি। পরে ২০১৬ সালে শ্রমবাজার পুনরায় চালু হলেও ২০১৮ সালে একই ধরনের অভিযোগে আবারও তা স্থগিত করা হয়। এরপর ২০২২ সালের আগস্টে কর্মী পাঠানো শুরু হলেও ২০২৪ সালের ১ জুন থেকে পুনরায় বাংলাদেশি কর্মীদের প্রবেশ বন্ধ হয়ে যায়। সরকারের দাবি, প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক মালয়েশিয়া সফরে দুই দেশের আলোচনার মাধ্যমে আইনি জটিলতা নিরসনের পথ তৈরি হয়েছে। এর ফলে শ্রমবাজার পুনরায় চালুর বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে। মন্ত্রী আরও জানান, ২০২৪ সালে মালয়েশিয়ায় যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিয়েও শেষ মুহূর্তে আটকে পড়া ৭ হাজার ৮৭৩ জন কর্মীর বিষয়েও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সরকারি জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বোয়েসেল) মাধ্যমে তাদের পাঠানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৩ হাজার কর্মী ইতোমধ্যে মালয়েশিয়ায় গেছেন। বাকি কর্মীদের বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সংবাদ সম্মেলনে আরিফুল হক চৌধুরী জানান, শুধু মালয়েশিয়া নয়, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ, জাপান ও মরিশাসসহ নতুন শ্রমবাজার সম্প্রসারণেও সরকার কাজ করছে। রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়াতে বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। সূত্র: প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়
মন্তব্য:০