শিরোনাম
সিডনিতে ‘রক্তস্নাত ৩৬শে জুলাই’ স্মরণে বিএনপি অস্ট্রেলিয়ার দোয়া ও আলোচনা সভা *** চীনে এআই ও উচ্চপ্রযুক্তি খাতের প্রতিষ্ঠান দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে *** সিরামিক শিল্পের প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনে চীন-বাংলাদেশ সহযোগিতা বৃদ্ধির আহ্বান *** বিশ্বমঞ্চে প্রথমবারেই চমক, নিউক্লিয়ার অলিম্পিয়াডে চীনের ৪ পদক *** ইরান সংকটের প্রেক্ষাপটে নতুন প্রতিরক্ষা বলয়, সৌদি-তুরস্ক-পাকিস্তানের কৌশলগত জোট ***




↠সিডনি-বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট:


১৩ জুলাই, ২০২৬

স্বদেশ › স্বদেশ

মন্তব্য:০

News Picture

চিত্র:সোমবার (১৩ জুলাই) সচিবালয়ে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেনের সৌজন্য সাক্ষাতে| |ক্রেডিট : ইন্টারনেট

বাংলাদেশের ঐতিহ্য সংরক্ষণে মার্কিন সহায়তা ১০ লাখ ডলার

বাংলাদেশের ঐতিহাসিক স্থাপনা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে যুক্তরাষ্ট্রের ‘অ্যাম্বাসেডরস ফান্ড ফর কালচারাল প্রিজারভেশন (এএফসিপি)’-এর আওতায় গত ২৫ বছরে ১৩টি প্রকল্পে ১০ লাখ মার্কিন ডলারের বেশি বিনিয়োগ হয়েছে। সর্বশেষ আরও ২ লাখ ৩৫ হাজার মার্কিন ডলারের নতুন অনুদান ঘোষণা করা হয়েছে। সোমবার (১৩ জুলাই) সচিবালয়ে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেনের সৌজন্য সাক্ষাতে এ তথ্য জানানো হয়। বৈঠকের শুরুতে রাষ্ট্রদূত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মন্ত্রীর সঙ্গে তার প্রথম সাক্ষাতের স্মৃতিচারণ করেন এবং মন্ত্রণালয়ে পুনরায় সাক্ষাতের সুযোগ পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। আলোচনায় বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, শিক্ষা, শিল্প, সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্য সংরক্ষণে দুই দেশের সহযোগিতার বিভিন্ন দিক উঠে আসে। বিশেষ করে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নসম্পদ ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে এএফসিপির অবদান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন জানান, নতুন ২ লাখ ৩৫ হাজার মার্কিন ডলারের অনুদানসহ গত ২৫ বছরে এএফসিপির মাধ্যমে বাংলাদেশে ১৩টি প্রকল্পে ১০ লাখ মার্কিন ডলারেরও বেশি বিনিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে। এ তহবিলের আওতায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় অবস্থিত মুঘল আমলের ঐতিহাসিক মুসা খান মসজিদের স্থাপত্য বৈশিষ্ট্য পুনরুদ্ধার, ডিজিটাল আর্কাইভ তৈরি এবং তরুণ স্থপতিদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বাস্তবায়িত হচ্ছে। পাশাপাশি পুরান ঢাকার শাঁখারীবাজার, লালবাগ কেল্লার একটি অংশ সংরক্ষণ এবং বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘরের আধুনিকীকরণেও এ তহবিল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এ ছাড়া বাউল গান, জামদানি তাঁতশিল্প এবং প্রাচীন ধাতব ঢালাই শিল্পের মতো বাংলাদেশের অমূল্য লোকজ ও অমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের দলিল সংরক্ষণেও এএফসিপি সহায়তা দিচ্ছে। বৈঠকে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সোনারগাঁওয়ের ঐতিহাসিক পানাম সিটির সার্বিক উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে দুই দেশের যৌথ উদ্যোগে ‘ইউএস-বাংলাদেশ কালচারাল ফেস্টিভ্যাল’, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং শিল্পী বিনিময় কর্মসূচি চালুর সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়। এ সময় ২০১৩ সালে প্রস্তাবিত বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সাংস্কৃতিক সহযোগিতা চুক্তির (ড্রাফট কালচারাল কো-অপারেশন অ্যাগ্রিমেন্ট) খসড়া দ্রুত চূড়ান্ত করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়। রাষ্ট্রদূত জানান, প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়া শেষ হলে এ বিষয়ে অগ্রগতি হবে। সংস্কৃতি মন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা বার্ষিকী উপলক্ষে অভিনন্দন জানান এবং বাংলাদেশে আসন্ন ‘নজরুল বর্ষ’ উদযাপনে রাষ্ট্রদূতকে আমন্ত্রণ জানান। এ সময় নজরুল সাহিত্যের অনুবাদ কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হলে রাষ্ট্রদূত জানান, যুক্তরাষ্ট্রের লাইব্রেরি অব কংগ্রেস কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্যকর্ম সংগ্রহ ও সংরক্ষণে আগ্রহী। বৈঠকে মার্কিন দূতাবাসের কালচারাল অ্যাফেয়ার্স স্পেশালিস্ট ফারোহা সোহরাওয়ার্দী, পাবলিক ডিপ্লোমেসি অফিসার স্কট ই. হার্টম্যান, প্রেস অ্যান্ড মিডিয়া কো-অর্ডিনেটর তরিকুল ইসলাম নাহিন, প্রোটোকল অ্যাসিস্ট্যান্ট এম. বি. এম. সাদ বিন এলাহী এবং সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সাক্ষাৎ শেষে সংস্কৃতি মন্ত্রী ও মার্কিন রাষ্ট্রদূত একে অপরকে শুভেচ্ছা স্মারক বিনিময় করেন এবং দুই দেশের সাংস্কৃতিক সম্পর্ক আরও জোরদারের আশাবাদ ব্যক্ত করেন। সূত্র: সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়





মন্তব্য