১৩ জুলাই, ২০২৬
স্বদেশ › স্বদেশ

চিত্র:সোমবার (১৩ জুলাই) বাংলাদেশ সচিবালয়ে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জ্যা-মার্ক সেরে-শার্লের (Jean-Marc Séré-Charlet) সৌজন্য সাক্ষাত| |ক্রেডিট : ইন্টারনেট
বাংলাদেশের আর্থ অবজারভেশন স্যাটেলাইট কর্মসূচির সম্ভাব্যতা যাচাই, প্রযুক্তি হস্তান্তর, প্রশিক্ষণ এবং সক্ষমতা উন্নয়নে সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশ করেছে ফ্রান্স। একই সঙ্গে ডিজিটাল প্রযুক্তি, টেলিযোগাযোগ, বিজ্ঞান, গবেষণা, উদ্ভাবন এবং দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নের মতো খাতে দুই দেশের বিদ্যমান সহযোগিতা আরও জোরদারের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। সোমবার (১৩ জুলাই) বাংলাদেশ সচিবালয়ে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জ্যা-মার্ক সেরে-শার্লের (Jean-Marc Séré-Charlet) সৌজন্য সাক্ষাতে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিতে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিভিত্তিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ প্রয়োজন। বিশেষ করে ডিজিটাল প্রযুক্তি, গবেষণা, উদ্ভাবন, টেলিযোগাযোগ এবং দক্ষ জনশক্তি তৈরির ক্ষেত্রে যৌথ উদ্যোগ উভয় দেশের জন্যই ইতিবাচক ফল বয়ে আনতে পারে। ফকির মাহবুব আনাম বলেন, আর্থ অবজারভেশন স্যাটেলাইট দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, কৃষি, ভূমি ব্যবস্থাপনা এবং পরিবেশ সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম। তিনি জানান, দেশের প্রয়োজন বিবেচনায় সরকার একটি আর্থ অবজারভেশন স্যাটেলাইট স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাই করছে এবং এ প্রকল্প বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সহযোগিতাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, স্যাটেলাইট প্রযুক্তিতে ফ্রান্সের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা রয়েছে। ফলে জ্ঞান, প্রযুক্তি ও দক্ষতা বিনিময়ের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র সৃষ্টি হবে বলে সরকার আশাবাদী। জবাবে ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জ্যা-মার্ক সেরে-শার্লে বলেন, বাংলাদেশের আর্থ অবজারভেশন স্যাটেলাইট কর্মসূচিতে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা, প্রযুক্তি স্থানান্তর, প্রশিক্ষণ এবং সক্ষমতা উন্নয়নে ফ্রান্স সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। তিনি উল্লেখ করেন, এ ধরনের স্যাটেলাইট কৃষি, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, ভূমি ও নগর পরিকল্পনা, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং সামুদ্রিক নজরদারিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। রাষ্ট্রদূত আরও জানান, প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে যৌথ গবেষণা পরিচালনা এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও ফ্রান্স আগ্রহী। সাক্ষাৎকালে উভয় পক্ষ বাংলাদেশ-ফ্রান্সের বিদ্যমান সহযোগিতাকে আরও সম্প্রসারণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর ভবিষ্যৎ অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। এ সময় ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব বিলকিস জাহান রিমি, বাংলাদেশে এয়ারবাসের প্রধান প্রতিনিধি রাফায়েল গোমেজ এবং বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেডের (বিএসসিএল) সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সূত্র: ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়।
মন্তব্য:০