শিরোনাম
মাউন্ট মিঝিরগিতে বরফধস, নিহত ১১ পর্বতারোহী *** উত্তর কোরিয়া ইস্যুতে ওয়াশিংটনের নীতিবদল, নিজস্ব প্রতিরক্ষায় সিউল *** ইস্টার্ন ইকনোমিক ফোরামে উত্তর-পূর্ব এশিয়ার উন্নয়নে চীনের নতুন প্রস্তাব *** জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় চীন-নেপালের যৌথ উদ্যোগের আহ্বান *** ‘যতক্ষণ আশার ক্ষীণ আলো থাকবে, চীন কখনও হাল ছাড়বে না’: সিচাংয়ে উদ্ধারকাজ ***




↠সিডনি-বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট:


২৬ আগস্ট, ২০২৬

স্বদেশ › স্বদেশ

মন্তব্য:০

News Picture

চিত্র:জে-১০সিই মাল্টিরোল কমব্যাট এয়ারক্রাফট| |ক্রেডিট : ইন্টারনেট

বাংলাদেশের আকাশ প্রতিরক্ষায় যুক্ত হচ্ছে ২০ জে-১০সিই, চুক্তি সইয়ের প্রস্তুতি

দেশের বিমানবাহিনীকে আরও আধুনিক ও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে চীনের কাছ থেকে ২০টি জে-১০সিই মাল্টিরোল কমব্যাট এয়ারক্রাফট কেনার উদ্যোগ এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। সংশ্লিষ্ট সব ধরনের ব্যয় হিসাবের মধ্যে রেখে এ প্রকল্পে সরকারের মোট সম্ভাব্য ব্যয় প্রায় ২ দশমিক ৩০২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ২৮ হাজার ৩১৪ কোটি টাকা। যুদ্ধবিমান সংগ্রহের বিষয়ে এরই মধ্যে একটি খসড়া চুক্তি তৈরি করেছে এ উদ্দেশ্যে গঠিত আন্তমন্ত্রণালয় কমিটি। মঙ্গলবার সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। তিনি জানান, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের হিসাব অনুযায়ী প্রতি ডলারের মূল্য ১২৩ টাকা ধরে ২০টি বিমান কেনার সমন্বিত ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে। জে-১০সিই-এর প্রতিটির সরাসরি ক্রয়মূল্য ৬২ দশমিক ৭ মিলিয়ন ডলার হলেও প্রশিক্ষণ, রক্ষণাবেক্ষণ ও কারিগরি সহায়তা, লজিস্টিকস, অবকাঠামো, বিমা, করসহ অন্যান্য ব্যয় যোগ হলে প্রতিটি বিমানের জন্য কার্যকর ব্যয় প্রায় ১১৫ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, বিমানবাহিনীর সাংগঠনিক কাঠামোর ‘টেবিল অব অর্গানাইজেশন অ্যান্ড ইকুইপমেন্ট’ বা টিওঅ্যান্ডই-এর আওতায় ১০টি জে-১০সিই অন্তর্ভুক্ত করা হবে। অন্য ১০টি বিমান এই কাঠামোর বাইরে রাখা হবে। সরকার চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরেই চীনের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান চায়না ন্যাশনাল অ্যারো-টেকনোলজি ইমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট করপোরেশন (সিএটিআইসি)-এর সঙ্গে জিটুজি পদ্ধতিতে সরাসরি ক্রয় চুক্তি সই করতে চায়। প্রকল্পটির অর্থের সংস্থান করা হবে দীর্ঘমেয়াদি বিশেষ থোক বরাদ্দের মাধ্যমে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যবস্থাপনায় ২০৩৫-৩৬ অর্থবছর পর্যন্ত মোট ১০ বছর এই ব্যয় বহনের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে যুদ্ধবিমানের মূল মূল্যই পুরো প্রকল্পের ব্যয়ের বড় অংশ নয়। সরকারি নথিতে বলা হয়েছে, বৈমানিক ও প্রকৌশলীদের দেশি ও বিদেশি প্রশিক্ষণ, অপারেশনাল সরঞ্জাম, কারিগরি ও লজিস্টিক সহায়তা এবং ফ্রেইটের জন্য অতিরিক্ত ৮৮৮ মিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হবে। পাশাপাশি ভ্যাট, বিমা ও আনুষঙ্গিক অবকাঠামো নির্মাণে আরও ১৫৮ মিলিয়ন ডলার এবং অতিরিক্ত জ্বালানি ট্যাংকের জন্য ২ দশমিক ২৮ মিলিয়ন ডলার ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে। জাহেদ উর রহমান জানান, চীনের সঙ্গে প্রয়োজনীয় দর-কষাকষি শেষ হওয়ার পর চুক্তির খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে। এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের জন্য তা সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। জে-১০সিই কেনার সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ৪.৫ প্রজন্মের অন্যতম আধুনিক যুদ্ধবিমান হিসেবে রাফালের পরিচিতি রয়েছে। সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতিতে রাফালের বিপরীতে চীনের জে-১০সি যুদ্ধবিমান ভালো পারফরম্যান্স দেখিয়েছে। একই শ্রেণির ইউরোপীয় যুদ্ধবিমানের তুলনায় চীনা যুদ্ধবিমানের দামও কম। দেশের জনগণের প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ অব্যাহত রাখবে বলেও তিনি জানান। বিমানবাহিনীর আধুনিকায়নের পরিকল্পনা অবশ্য শুধু যুদ্ধবিমানেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। অ্যাটাক হেলিকপ্টার, ভিআইপি হেলিকপ্টার এবং ইউএভি ড্রোন সিস্টেম সংগ্রহের কাজও একই সঙ্গে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। জে-১০সিই সংগ্রহের বিষয়টি প্রথম আলোচনায় আসে ২০২৫ সালের মার্চে। ওই সময় অন্তর্বর্তী সরকারের তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের বেইজিং সফরের সময় চীনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকে বহুমাত্রিক যুদ্ধবিমান কেনার বিষয়টি উঠে আসে। পরবর্তী সময়ে বিমানবাহিনী প্রধানের নেতৃত্বে ১১ সদস্যের আন্তমন্ত্রণালয় কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে ক্রয়প্রক্রিয়াটি আনুষ্ঠানিক গতি পায়। চলতি বছরের জুনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরকে সামনে রেখে চীনের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সফর করে। ওই সফরে যুদ্ধবিমান সংগ্রহের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে আরও আলোচনা ও দর-কষাকষি হয়। এর পরই চুক্তির খসড়া প্রস্তুতের কাজ এগিয়ে যায়। জে-১০সিই মূলত চীনের জে-১০সি যুদ্ধবিমানের রপ্তানিযোগ্য সংস্করণ। একক ইঞ্জিন ও একক আসনের এ সুপারসনিক যুদ্ধবিমানটি বহুমুখী সামরিক অভিযানের জন্য তৈরি। আকাশযুদ্ধের পাশাপাশি স্থল ও সমুদ্রের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা, নজরদারি এবং শত্রুর রাডার ব্যবস্থা লক্ষ্য করে অভিযান পরিচালনার সক্ষমতা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট তথ্য থেকে জানা যায়। প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার সক্ষমতার পাশাপাশি ড্রোনের সঙ্গে সমন্বিত অভিযান পরিচালনার সুবিধাও রয়েছে বিমানটির। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের দৃষ্টিতে, এ ধরনের আধুনিক যুদ্ধবিমান বাংলাদেশের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ সক্ষমতা যোগ করতে পারে। বিআইপিএসএসের সভাপতি মেজর জেনারেল (অব.) আ ন ম মুনীরুজ্জামানের মতে, জে-১০সি প্রযুক্তিগতভাবে সক্ষম একটি প্ল্যাটফর্ম এবং এর মূল্যও তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী। তবে একই সঙ্গে তিনি বড় সামরিক ক্রয়ের ক্ষেত্রে কৌশলগত ও কূটনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতির পরিবর্তন, বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক এবং বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারস্পরিক বাণিজ্যচুক্তির মতো বিষয়গুলোর সঙ্গে সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগের ভারসাম্য রক্ষা করা প্রয়োজন। সব মিলিয়ে, ২০টি জে-১০সিই সংগ্রহের উদ্যোগ বাংলাদেশের বিমানবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধির একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। চুক্তি ও অর্থায়নের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষ হলে দীর্ঘমেয়াদি এই প্রতিরক্ষা আধুনিকায়ন কর্মসূচির বাস্তবায়ন আরও স্পষ্ট হবে।





মন্তব্য