৩০ মার্চ, ২০২৬
স্বদেশ › অর্থনীতি

চিত্র:আমেরিকান ডলার| |ক্রেডিট : ইন্টারনেট:
বাংলাদেশের অর্থনীতি থেকে নিয়মিত বিপুল অঙ্কের সম্পদ বেরিয়ে যাওয়ার একটি গভীর সংকট চিহ্নিত করেছে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সংস্থার গবেষণা। এসব প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আমদানি-রপ্তানি খাতে অনিয়ম ও মূল্য কারসাজির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার হচ্ছে, যা অর্থনীতির স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। জিএফআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত এক দশকে প্রতি বছর গড়ে কয়েক বিলিয়ন ডলার দেশ থেকে বেরিয়ে গেছে। একই সঙ্গে শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির বিশ্লেষণ বলছে, দীর্ঘ সময় ধরে এই প্রবণতা অব্যাহত থাকায় মোট পাচারের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে শত শত বিলিয়ন ডলারে। বছরে গড়ে প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকার সমপরিমাণ অর্থ দেশের বাইরে চলে যাওয়ার তথ্যও উঠে এসেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই অর্থ পাচার শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতিই করছে না, বরং দেশের রাজস্ব ব্যবস্থাকে দুর্বল করে দিচ্ছে। ফলে সরকার প্রয়োজনীয় জনকল্যাণমূলক খাতে প্রত্যাশিত বিনিয়োগ করতে পারছে না। একই সঙ্গে এটি সুশাসনের জন্যও বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। বিআইবিএম-এর গবেষণা তুলে ধরে, বাণিজ্যভিত্তিক অর্থ পাচার সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত পদ্ধতি। পণ্যের প্রকৃত মূল্য গোপন রেখে বা অতিরঞ্জিত করে অর্থ স্থানান্তরের মাধ্যমে এই প্রক্রিয়া চালানো হয়। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত খাতে এই ঝুঁকি বেশি। গবেষণায় আরও বলা হয়, ব্যাংকগুলোর তথ্য যাচাই সক্ষমতা সীমিত হওয়ায় এই ধরনের জালিয়াতি অনেক সময় শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে শক্তিশালী ডেটাবেজ, উন্নত নজরদারি ব্যবস্থা এবং বৈশ্বিক সহযোগিতা ছাড়া এই সমস্যা মোকাবিলা করা সম্ভব নয়।
মন্তব্য:০