শিরোনাম
সিডনিতে ‘রক্তস্নাত ৩৬শে জুলাই’ স্মরণে বিএনপি অস্ট্রেলিয়ার দোয়া ও আলোচনা সভা *** চীনে এআই ও উচ্চপ্রযুক্তি খাতের প্রতিষ্ঠান দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে *** সিরামিক শিল্পের প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনে চীন-বাংলাদেশ সহযোগিতা বৃদ্ধির আহ্বান *** বিশ্বমঞ্চে প্রথমবারেই চমক, নিউক্লিয়ার অলিম্পিয়াডে চীনের ৪ পদক *** ইরান সংকটের প্রেক্ষাপটে নতুন প্রতিরক্ষা বলয়, সৌদি-তুরস্ক-পাকিস্তানের কৌশলগত জোট ***




↠সিডনি-বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট:


২৩ জুলাই, ২০২৬

স্বদেশ › স্বদেশ

মন্তব্য:০

News Picture

চিত্র:প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান| |ক্রেডিট : ইন্টারনেট

বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে বিদেশি উদ্যোক্তাদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

বাংলাদেশকে ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার লক্ষ্যে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের নতুন উদ্যোগ গ্রহণ ও বিদ্যমান ব্যবসা সম্প্রসারণের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, বিনিয়োগকারীদের জন্য সময়োপযোগী নীতিমালা, প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফআইসিসিআই) আয়োজিত ‘এফআইসিসিআই এফডিআই সম্মেলন-২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সম্মেলনের প্রতিপাদ্য ছিল ‘বাংলাদেশে কর্মসংস্থান ও সমৃদ্ধির লক্ষ্যে বৈদেশিক বিনিয়োগ ত্বরান্বিতকরণ’। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশীয় উদ্যোক্তা কিংবা বিদেশি বিনিয়োগকারী—যে-ই বাংলাদেশে মূলধন বিনিয়োগ করবেন, সরকার তার পাশে থাকবে। এটি কেবল আশ্বাস নয়, সরকারের সুস্পষ্ট প্রতিশ্রুতি। তিনি বলেন, আজকের সম্মেলনে দেশি-বিদেশি করপোরেট নেতা, সফল উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগ বিশেষজ্ঞদের উপস্থিতি প্রমাণ করে যে বাংলাদেশ এখন আন্তর্জাতিক বিনিয়োগের সম্ভাবনাময় গন্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে। তারেক রহমান বলেন, বৈদেশিক বিনিয়োগ দেশের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, আধুনিক প্রযুক্তি স্থানান্তর, বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এ অবদানের জন্য তিনি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের ধন্যবাদ জানান। নিজের ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজনীতিতে আসার আগে তিনি একজন ব্যবসায়ী ছিলেন। সেই অভিজ্ঞতা থেকে তিনি উপলব্ধি করেছেন, ব্যবসার সফলতা শুধু উদ্যোক্তার দক্ষতা বা রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির ওপর নির্ভর করে না; বরং বিনিয়োগবান্ধব নীতিমালা ও কার্যকর সরকারি সহায়তা সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, দ্রুত সম্প্রসারিত অভ্যন্তরীণ বাজার, তরুণ ও কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী, কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান এবং জনগণের সমর্থনপুষ্ট সরকার—এসবই দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রার বড় শক্তি। সরকার একটি নিয়মভিত্তিক, বিশ্ব অর্থনীতির সঙ্গে সংযুক্ত এবং বেসরকারি খাতনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তুলতে কাজ করছে বলেও জানান তিনি। সরকারের প্রথম পাঁচ মাসের কর্মকাণ্ডের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের আগেই অর্থনৈতিক সংস্কারের প্রস্তুতি শুরু হয়েছিল। বিনিয়োগকারী, ব্যবসায়ী, অর্থনীতিবিদ ও উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনার মাধ্যমে বিনিয়োগের প্রতিবন্ধকতাগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। তিনি জানান, বিনিয়োগকারীদের প্রধান চাহিদার মধ্যে রয়েছে আইনি সুরক্ষা, আধুনিক নিয়ন্ত্রক কাঠামো, সহজ করব্যবস্থা, মুনাফা নির্বিঘ্নে দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার সুযোগ, শক্তিশালী পুঁজিবাজার এবং উন্নত অবকাঠামো। সরকার ইতোমধ্যে এসব ক্ষেত্রে আইনি ও নীতিগত সংস্কার শুরু করেছে। পাশাপাশি কর ও ভ্যাট প্রশাসন সহজীকরণ, বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তি, সরকারি সেবার ডিজিটালাইজেশন, বন্দর ও লজিস্টিকস উন্নয়ন, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং লাল ফিতার দৌরাত্ম্য কমানোর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্য অর্জনে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, ওষুধ শিল্প, ইলেকট্রনিক্স, ডিজিটাল সেবা, কৃষি-প্রক্রিয়াজাতকরণ, উন্নত বস্ত্রশিল্প, স্বাস্থ্যসেবা ও লজিস্টিকস খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশকে বৈশ্বিক উৎপাদনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা এবং প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির ওপরও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। তিনি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের শুধু বিনিয়োগকারী নয়, বরং বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নযাত্রার বিশ্বস্ত অংশীদার হওয়ার আহ্বান জানান। সূত্র: বাসস।





মন্তব্য