৩১ জুলাই, ২০২৬
স্বদেশ › স্বদেশ

চিত্র:আনোয়ার ইব্রাহিম| |ক্রেডিট : ইন্টারনেট
বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া তিন লাখ রোহিঙ্গাকে ফেরত নিতে মিয়ানমার সম্মত হয়েছে বলে দাবি করেছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। একই সঙ্গে মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত পাঁচ হাজার রোহিঙ্গাকেও নিজ দেশে ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমার রাজি হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন। মালয়েশিয়ার সংবাদমাধ্যম দ্য স্টার-এর খবরে বলা হয়, বুধবার নেগেরি সেম্বিলান অঙ্গরাজ্যের চেনাহ এলাকায় স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এ তথ্য জানান আনোয়ার ইব্রাহিম। তিনি বলেন, মিয়ানমারের সামরিক সরকারের সঙ্গে মালয়েশিয়ার ধারাবাহিক কূটনৈতিক যোগাযোগ ও ফলপ্রসূ আলোচনার মাধ্যমেই এই অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে। তাঁর ভাষায়, মিয়ানমারের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার কারণেই তারা এখন বাংলাদেশ থেকে তিন লাখ এবং মালয়েশিয়া থেকে পাঁচ হাজার রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নিতে সম্মত হয়েছে। এ ধরনের জটিল ইস্যুতে সতর্ক, ধৈর্যশীল ও কার্যকর কূটনীতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সামরিক বাহিনীর দমন-পীড়নের মুখে কয়েক মাসের মধ্যে সাড়ে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। এর আগে থেকেই আরও কয়েক লাখ রোহিঙ্গা কক্সবাজারের বিভিন্ন আশ্রয়শিবিরে অবস্থান করছিল। বর্তমানে কক্সবাজারের ৩৩টি শরণার্থী শিবিরে প্রায় ১৫ লাখ রোহিঙ্গা বসবাস করছে। আন্তর্জাতিক চাপের মুখে ২০১৭ সালের শেষ দিকে অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন মিয়ানমার সরকার বাংলাদেশের সঙ্গে প্রত্যাবাসন চুক্তি স্বাক্ষর করলেও বাস্তবে তা কার্যকর হয়নি। পরবর্তীতে ২০১৯ সালে দুই দফা প্রত্যাবাসনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও নিরাপত্তা ও নাগরিক অধিকার নিয়ে আস্থার সংকটের কারণে রোহিঙ্গারা ফিরে যেতে রাজি হয়নি। এরপর কোভিড-১৯ মহামারি এবং ২০২১ সালে মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানের ফলে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। পরবর্তী সময়ে চীনের মধ্যস্থতায় কয়েক দফা ত্রিপক্ষীয় উদ্যোগ নেওয়া হলেও সেগুলোও সফল হয়নি। একই সময়ে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর সংঘাত তীব্র হওয়ায় প্রত্যাবাসন কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে যায়। রোহিঙ্গাদের আগে ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়নি কেন—এ প্রশ্নের জবাবে আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, অতীতে অনেকেই রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর দাবি জানালেও মিয়ানমার তাদের গ্রহণে রাজি ছিল না। ফলে মানবিক কারণেই তাদের আশ্রয় দেওয়া ছাড়া বিকল্প ছিল না। এদিকে মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের উদ্দেশে কঠোর বার্তাও দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, মালয়েশিয়ায় কেউ আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গ বা জনশৃঙ্খলা নষ্ট করার চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে পুলিশ মহাপরিদর্শককে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত সবাইকে দেশটির আইন মেনে চলতে হবে। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা সহিংসতা বরদাশত করা হবে না এবং আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সূত্র: দ্য স্টার (মালয়েশিয়া)।
মন্তব্য:০