১৬ জুন, ২০২৬
আন্তর্জাতিক › আন্তর্জাতিক:

চিত্র:ভারত - বাংলাদেশ সীমান্ত| |ক্রেডিট : ইন্টারনেট
ভারতের বাংলাদেশ ও পাকিস্তান সীমান্তবর্তী জেলা, প্রধান মহানগরী এবং শিল্পাঞ্চলগুলোতে জনসংখ্যাগত পরিবর্তনের ধারা বিশ্লেষণে একটি উচ্চপর্যায়ের বিশেষ কমিটি গঠন করেছে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার। সাবেক বিচারপতি প্রকাশ প্রভাকর নাওলেকরের নেতৃত্বাধীন এই কমিটিকে আগামী এক বছরের মধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভারতীয় গণমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে মঙ্গলবার (১৬ জুন) এক প্রতিবেদনে জানায়, গত ২৬ মে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে গঠিত এই প্যানেল অভিবাসন প্রবণতা, জাতীয় নিরাপত্তার ওপর সম্ভাব্য প্রভাব এবং বিভিন্ন অঞ্চলের জনসংখ্যাগত পরিবর্তনের সামগ্রিক চিত্র পর্যালোচনা করবে। সরকারি সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৫ সালের ১৫ আগস্ট দিল্লির লাল কেল্লায় দেওয়া প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভাষণে নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চলে ‘অস্বাভাবিক জনসংখ্যাগত পরিবর্তন’ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশের পরিপ্রেক্ষিতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকার বিষয়টিকে কেবল জনসংখ্যা বৃদ্ধির প্রশ্ন হিসেবে না দেখে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, সামাজিক ভারসাম্য ও দীর্ঘমেয়াদি প্রশাসনিক পরিকল্পনার সঙ্গে সম্পৃক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে বিবেচনা করছে। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে কমিটির কার্যক্রম পর্যালোচনা করেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্যানেল ইতোমধ্যে তাদের প্রথম বৈঠক সম্পন্ন করেছে এবং একটি বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করেছে। কমিটির কাজের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান সীমান্তসংলগ্ন বিভিন্ন জেলা। পাশাপাশি দিল্লি, মুম্বাই, বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ, নয়ডা, গুরুগ্রাম, আহমেদাবাদ ও পুনের মতো বড় শহর এবং শিল্পাঞ্চলগুলোও পর্যবেক্ষণের আওতায় থাকবে। কর্মকর্তাদের মতে, জনসংখ্যাগত স্বাভাবিক পরিবর্তন জন্মহার, মৃত্যুহার, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পর্কিত হলেও সরকারের উদ্বেগ মূলত অবৈধ অনুপ্রবেশ, অনিয়ন্ত্রিত অভিবাসন এবং অন্যান্য অস্বাভাবিক কারণজনিত ভারসাম্যহীনতা নিয়ে। এ ধরনের পরিস্থিতি সরকারি সম্পদ বণ্টন, আইনশৃঙ্খলা, স্থানীয় প্রশাসন এবং সামাজিক কাঠামোর ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছে সরকার। কমিটির সদস্যরা মাঠপর্যায়ে স্থানীয় প্রশাসন, নিরাপত্তা সংস্থা, জনপ্রতিনিধি ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। একই সঙ্গে আদমশুমারির তথ্য, ভোটার তালিকা, অভিবাসন সংক্রান্ত নথি এবং অন্যান্য সরকারি তথ্যভাণ্ডার বিশ্লেষণ করা হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই কমিটির চূড়ান্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, পরিচয় যাচাই প্রক্রিয়া, অভিবাসন নীতি এবং নিরাপত্তা কাঠামোতে গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত পরিবর্তন আনা হতে পারে। সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে
মন্তব্য:০