২৫ মে, ২০২৩
প্রবাস › রাজনীতি

চিত্র:অস্ট্রেলিয়া বিএনপির নেতৃবৃন্দ| |ক্রেডিট : সিডনি বাংলা নিউজ
অস্ট্রেলিয়া বিএনপির কমিটি গঠন নিয়ে ধোঁয়াশা যেনো কাটছেই না৷ সর্বশেষ গত ২৪ মে সকল সকল সিনিয়র নেতাদের একটি বৈঠক উত্তেজনা,তর্ক বিতর্ক ও হট্টগোলের কারনে কোনো ধরনের সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয়েছে৷ বৈঠকটির মডারেটর অস্ট্রেলিয়া বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ফারুক খান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করার উদ্দেশ্যে তড়িঘড়ি করে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করেন৷ এসময় তিনি নতুন কোনো তারিখ কিংবা দিকনির্দেশনা দিতেও ব্যার্থ হন৷ এর আগে সভাটিতে হট্টগোলের কিছু ভিডিও ছড়িয়ে পরে৷ ঘটনার সত্যতা জানতে সিডনি বাংলা নিউজ যোগাযোগ করেছিলো অস্ট্রেলিয়া বিএনপির সাবেক সভাপতি মনিরুল হক জজের সাথে৷ তিনি বলেন,সবকিছু ভালোভাবেই চলছিলো৷ কিন্তু শেষের দিকে আন্তর্জাতিক বিষয়ক সহ সম্পাদক রাশেদুল হকের ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্যের কারনে সভাটি তাড়াতাড়ি শেষ করতে হয়েছে৷ কি ধরনের বক্তব্য নিয়ে সমস্যা হয়েছিল জানতে চাইলে মনিরুল হক বলেন, রাশেদুল হক সিনিয়র নেতৃবৃন্দদেরকে বলেন, অস্ট্রেলিয়ায় বিএনপি করতে হলে ও পদ পদবী পেতে হলে নাকি তারেক রহমানের পরে তাকে নেতা মেনে রাজনীতি করতে হবে৷ এর ফলে উপস্থিত নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়৷ রাশেদুল হকের বক্তব্যের প্রতিবাদ করেন বিএনপি নেতা একেএম ফজলুল হক শফিক৷ এরপরে একে একে অনেকেই এ ধরনের বক্তব্যের প্রতিবাদ করেন৷ এ বিষয়ে ফজলুল হক শফিক সিডনি বাংলা নিউজকে বলেন, "তিনি( রাশেদুল হক) এমনভাবে কথা বলছিলেন যেনো অস্ট্রেলিয়া বিএনপি তার কাছে লিজ দেয়া হয়েছে৷ এভাবে কথা বললে প্রতিবাদ না করে উপায় থাকেনা৷ খোলা মন নিয়ে সেখানে গিয়েছিলাম৷ কিন্তু কিছু অবমাননা মেনে নেয়ার মতো না৷" অস্ট্রেলিয়া বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক মোঃ মোসলেহ উদ্দিন হাওলাদার আরিফ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন৷ তিনি বলেন,"আমরা অনেকেই এখানে ২০-৩০ বছর বিএনপি র রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত । সেসব সিনিয়র নেতৃবৃন্দ তার আচরণে খুবই ক্ষুদ্ধ,অনেকেই এমনটি আশা করিনি।সকলেই ঐক্যেবদ্ধ বিএনপির কমিটির প্রয়োজনীয়তা ব্যক্ত করছে৷ আশা করছি আরেকটা মিটিংয়ে সকল কিছু ঠিক হয়ে যাবে।" এছাড়া বিএনপি নেতা মুন্নী চৌধুরী মেধা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখান৷ তিনি বলেন,"এধরণের আচরণ দেখালে তাদের সাথে কাজ করা যায়না৷ আমরা কেউ অসম্মানিত হতে দল করিনা৷ " বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সহ সম্পাদক রাশেদুল হকের কাছে জানতে চাইলে তিনি ঘটনার কথা স্বীকার করেছেন৷ তবে তিনি বলেন," আমার বক্তব্যকে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে৷ কিছুদিন আগে এক কেন্দ্রীয় নেতা এসে এই কথাগুলোই বলে গেছেন৷ আমি আজকে শুধু সেটার পুনরাবৃত্তি করেছিমাত্র৷ " আপনার নেতৃত্ব কি অনেকে মানতে চাইছেনা? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন," আমি সেরকম মনে করিনা৷ এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণেই আছে৷বৈঠকে যা কিছু হয়েছে সেটা খুব বড় কোনো ঘটনা নয়৷" বিএনপি নেতা সোহেল ইকবাল মাহমুদ বলেন,"সবকিছুই ঠিকঠাক চলছিলো৷ আমরা সবাই তারেক রহমানের চিঠিকে গুরুত্বের সাথে নিয়ে সাধুবাদ জানিয়েছি৷ নেতার ইনিশিয়েটিভের প্রশংসা করেছি৷ এক হয়ে কাজ করতে চেয়েছি৷ কিন্তু তার বক্তব্যের পরে পরিস্থিতি পালটে যায়৷ তবু আমি আশা ছাড়ছিনা৷ ঐক্য হবে৷ " ঘটনা সম্পর্কে অস্ট্রেলিয়া বিএনপির তরুন নেতা প্রকৌশলী হাবিবুর রহমান বলেন, "সিনিয়রদের যথাসম্ভব ছাড় দিতে হবে এবং পারস্পরিক দোষারোপ থেকে সরে আসতে হবে৷ "

image : নেতৃবৃন্দ | credit : সিডনি বাংলা নিউজ

image : বৈঠকে নেতৃবৃন্দ | credit : সিডনি বাংলা নিউজ
মন্তব্য:০