শিরোনাম
নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে জোর, রামপালে ৪৬০ মেগাওয়াট সৌর প্রকল্পের উদ্যোগ *** বন্ধ পত্রিকা চালুর তাগিদ, সাংবাদিকদের ঐক্যের আহ্বান রাষ্ট্রপতির *** এসআরবি বিল সংসদে তোলার সুপারিশ, র‌্যাবের জনবল-অবকাঠামো কাজে লাগানোর তাগিদ *** গণতন্ত্র রক্ষায় গণমাধ্যমকে বাঁচাতে হবে: রাষ্ট্রপতি *** ডেঙ্গুতে এক দিনে ৯ মৃত্যু, হাসপাতালে আরও ১,৫৭১ ***




↠সিডনি-বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট :


২৮ আগস্ট, ২০২৬

আন্তর্জাতিক › আন্তর্জাতিক:

মন্তব্য:০

News Picture

চিত্র:রাজা পঞ্চম হারাল্ড| |ক্রেডিট : ইন্টারনেট

অসলো হাসপাতালে ৮৯ বছর বয়সে শেষনিশ্বাস, নতুন রাজা ক্রাউন প্রিন্স হাকন

২৮ আগস্ট ২০২৬: নরওয়ের রাজপরিবারে নেমে এসেছে শোক। দেশটির দীর্ঘদিনের রাজা পঞ্চম হারাল্ড শুক্রবার সকালে ৮৯ বছর বয়সে মারা গেছেন। অসলো ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় স্থানীয় সময় সকাল ৬টা ৩৫ মিনিটে তাঁর মৃত্যু হয় বলে রাজপ্রাসাদ নিশ্চিত করেছে। রাজার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়ার পর রাজপ্রাসাদের ছাদে থাকা রাজকীয় পতাকা অর্ধনমিত করা হয়। গত সপ্তাহে বিরল এক ধরনের রক্তজনিত রোগের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন তিনি। মৃত্যুর আগের দিন রাজপরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে গিয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করেন। অন্যদিকে তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর রাজপ্রাসাদের সামনে মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে। অনেকে ফুল রেখে প্রয়াত রাজার প্রতি শ্রদ্ধা জানান। প্রায় ৩৫ বছর নরওয়ের সিংহাসনে ছিলেন পঞ্চম হারাল্ড। ১৪ শতকের পর নরওয়ের মাটিতে জন্ম নেওয়া প্রথম রাজা হিসেবে তিনি বিশেষভাবে পরিচিত ছিলেন। তাঁর মৃত্যুর পর রাজপরিবারের উত্তরাধিকার অনুযায়ী ৫৩ বছর বয়সি ক্রাউন প্রিন্স হাকন সিংহাসনের দায়িত্ব গ্রহণ করছেন। হারাল্ডের দীর্ঘ শাসনকালকে নরওয়ের রাজতন্ত্রের আধুনিকায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে দেখা হয়। তিনি শুধু আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব পালনকারী রাজা ছিলেন না; বরং সামাজিক পরিবর্তনের সঙ্গে রাজতন্ত্রকে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রেও ভূমিকা রেখেছেন। প্রচলিত রাজপরিবারের বাইরে গিয়ে সাধারণ পরিবারের মেয়ে সোনজা হারাল্ডসেনকে বিয়ে করা তাঁর সবচেয়ে আলোচিত সিদ্ধান্তগুলোর একটি। এ সিদ্ধান্ত নরওয়ের রাজপরিবারের পুরোনো কিছু সামাজিক ও প্রথাগত ধারণায় পরিবর্তনের বার্তা দেয়। নরওয়ের জনগণের সঙ্গে তাঁর সহজ সম্পর্কও তাঁকে বিশেষ জনপ্রিয় করে তুলেছিল। রাজপর্যবেক্ষকদের ভাষায়, তিনি ছিলেন সহজ-সরল, শ্রদ্ধেয় এবং সাধারণ মানুষের কাছে অত্যন্ত গ্রহণযোগ্য একজন রাজা। এ কারণেই অনেক নরওয়েজীয় তাঁকে ‘জাতির দাদু’ কিংবা ‘জনগণের রাজা’ বলে অভিহিত করতেন। তাঁর বাবা রাজা ওলাভ পঞ্চমের জন্যও ‘জনগণের রাজা’ অভিধাটি ব্যবহৃত হয়েছিল। তবে পঞ্চম হারাল্ড নিজের দীর্ঘ রাজত্বে এই ভাবমূর্তিকে আরও শক্তিশালী করেন বলে রাজপর্যবেক্ষকদের অনেকে মনে করেন। বিশেষ করে জাতীয় সংকটের সময়ে তাঁর ভূমিকা নরওয়ের মানুষের কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। ২০১১ সালে অসলো ও উটোয়া দ্বীপে ভয়াবহ বোমা হামলা ও বন্দুক হামলার পর দেশজুড়ে যখন আতঙ্ক ও শোক বিরাজ করছিল, তখন হারাল্ড জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। তিনি নরওয়েজীয়দের একে অপরের পাশে দাঁড়াতে বলেন এবং ভয়কে যেন তাদের জীবন ও সমাজের ওপর প্রভাব বিস্তার করতে না দেওয়া হয়, সে বিষয়ে সতর্ক করেন। তাঁর সেই বক্তব্য সংকটের সময়ে জাতীয় ঐক্যের অন্যতম প্রতীক হয়ে উঠেছিল। হারাল্ডের শাসনামলে নরওয়ের রাজতন্ত্র সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আরও আধুনিক ও জনবান্ধব রূপ পেয়েছে। তাঁর ব্যক্তিগত জীবন, সামাজিক অবস্থান এবং রাষ্ট্রীয় সংকটে জনগণের পাশে থাকার ভূমিকা—সব মিলিয়ে নরওয়ের আধুনিক ইতিহাসে তাঁর রাজত্ব একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হবে। এখন তাঁর উত্তরসূরি ক্রাউন প্রিন্স হাকনের সামনে সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখার দায়িত্ব। পিতার দীর্ঘ ও জনপ্রিয় রাজত্বের পর নতুন রাজা হিসেবে তাঁকে নরওয়ের পরিবর্তিত সমাজ ও রাজতন্ত্রের প্রত্যাশার সঙ্গে সমন্বয় করে এগিয়ে যেতে হবে। রাজা পঞ্চম হারাল্ডের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে ইউরোপের দীর্ঘদিনের অন্যতম জনপ্রিয় রাজতন্ত্রের একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি হলো। সূত্র: বিবিসি।





মন্তব্য