১৪ আগস্ট, ২০২৬
স্বদেশ › স্বদেশ

চিত্র:পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এ দুই সভায় সভাপতিত্ব করেন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু| |ক্রেডিট : ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশের জাহাজ নির্মাণ এবং জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পকে আধুনিক, পরিবেশবান্ধব ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন খাতে রূপান্তরের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট আইন, নীতিমালা ও বাস্তব চ্যালেঞ্জ পর্যালোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ উদ্দেশ্যে আয়োজিত পৃথক দুটি সভায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, সরকারি সংস্থা ও শিল্পখাতের প্রতিনিধিরা সমন্বিত কর্মপরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এ দুই সভায় সভাপতিত্ব করেন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু। এতে শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এবং নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশ নেন। আলোচনায় জাহাজ শিল্পের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের জন্য পরিবেশ সুরক্ষা, শ্রমিকদের নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি, দক্ষ জনবল তৈরি এবং টেকসই অর্থায়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ খাত নিয়ে উপস্থাপনায় দেশের শিল্প ও অর্থনীতিতে এ খাতের ভূমিকার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরিবেশগত মান মেনে ঝুঁকিপূর্ণ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, বর্জ্যপানি শোধন, বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং উপকূলীয় পরিবেশ রক্ষার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে TSDF স্থাপন, ইনসিনারেটর নির্মাণ, পুনর্ব্যবহারযোগ্য উপকরণের ব্যবহার, প্রশিক্ষণ ও পরীক্ষাগার স্থাপনের বিষয়েও সুপারিশ করা হয়। জাহাজ নির্মাণ শিল্পসংক্রান্ত আলোচনায় বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান, দক্ষ জনশক্তি, প্রতিযোগিতামূলক শ্রমব্যয় এবং রপ্তানির সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে আধুনিক ড্রাইডক, মডুলার প্রযুক্তি, রপ্তানিমুখী শিপইয়ার্ড এবং গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রম সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরা হয়। বিশ্ব নৌপরিবহন খাতে পরিবর্তিত বাস্তবতায় IMO-এর নেট-জিরো নীতি, গ্রিন স্টিল, এলএনজি, বিকল্প জ্বালানি, কার্বন ট্রেডিং এবং স্মার্ট শিপইয়ার্ডের মতো প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগের সঙ্গে বাংলাদেশের শিল্পকে সংযুক্ত করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। সভায় আরও বলা হয়, শিল্পের টেকসই বিকাশ নিশ্চিত করতে গ্রিন ফাইন্যান্স, সরকারি গ্যারান্টি, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব, রপ্তানি ঋণ সুবিধা এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় অপরিহার্য। অংশগ্রহণকারীরা মত দেন, বাস্তবসম্মত সুপারিশ বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের জাহাজ শিল্পকে নিরাপদ, প্রযুক্তিনির্ভর, পরিবেশবান্ধব এবং বৈশ্বিক বাজারে আরও প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে নিয়ে যাওয়া সম্ভব। সূত্র: পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়।
মন্তব্য:০