শিরোনাম
বাংলাদেশের ঐতিহ্য সংরক্ষণে মার্কিন সহায়তা ১০ লাখ ডলার *** হজ ফ্লাইটের কর-চার্জ কমাতে সৌদি সহযোগিতা চাইল বাংলাদেশ *** প্রাথমিক শিক্ষায় STEM ও প্লে-ল্যাব চালুর পরিকল্পনা: প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ *** বিদেশি বিনিয়োগে আরও অনুকূল পরিবেশ গড়ে তুলছে সরকার: আইসিটি মন্ত্রী *** ২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গে ৫ শিশুর মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৯৪ হাজার ছাড়াল ***




↠সিডনি-বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট :


১ জুলাই, ২০২৬

আন্তর্জাতিক › আন্তর্জাতিক:

মন্তব্য:০

News Picture

চিত্র:ন্যাটো| |ক্রেডিট : ইন্টারনেট

আঙ্কারা সম্মেলনে মানবাধিকার নয়, প্রতিরক্ষা সহযোগিতাই মূল আলোচ্য

আসন্ন ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনকে ঘিরে তুরস্কের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। মানবাধিকার লঙ্ঘন, বিরোধী দলের বিরুদ্ধে আইনি অভিযান এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর দুর্বল হয়ে পড়ার অভিযোগ থাকলেও এসব বিষয়ে প্রকাশ্যে কঠোর অবস্থান নেওয়ার বদলে পশ্চিমা দেশগুলো তুরস্কের সঙ্গে নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতাকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে। আগামী ৭ ও ৮ জুলাই আঙ্কারায় অনুষ্ঠেয় ন্যাটো সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবার তুরস্ক সফর করবেন। সম্মেলনের পাশাপাশি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগানের সঙ্গে তার একটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠকও অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। পশ্চিমা ও তুর্কি কূটনৈতিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, প্রধান বিরোধী দল সিএইচপি-এর বিরুদ্ধে সরকারের আইনি পদক্ষেপ কিংবা ইস্তাম্বুলের জনপ্রিয় মেয়র একরেম ইমামোগ্লুর কারাবন্দিত্বের মতো আলোচিত রাজনৈতিক বিষয়গুলো সম্মেলনে প্রকাশ্যে উত্থাপিত হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। পর্যবেক্ষকদের মতে, ইউক্রেন যুদ্ধের পর ইউরোপীয় নিরাপত্তা কাঠামোয় তুরস্কের কৌশলগত গুরুত্ব বহুগুণ বেড়ে গেছে। ন্যাটোর দ্বিতীয় বৃহত্তম সামরিক শক্তির অধিকারী এবং উন্নত ড্রোন প্রযুক্তির বড় রপ্তানিকারক দেশ হওয়ায় রাশিয়ার বিরুদ্ধে পশ্চিমা প্রতিরক্ষা পরিকল্পনায় আঙ্কারা এখন গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। সেন্টার ফর ইস্টার্ন স্টাডিজের গবেষক কারোল ওয়াসিলেভস্কি মনে করেন, পশ্চিমা দেশগুলো বর্তমানে আদর্শভিত্তিক কূটনীতির পরিবর্তে পারস্পরিক স্বার্থকেন্দ্রিক সম্পর্ককেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। তার মতে, গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের প্রশ্ন এখন নিরাপত্তা সহযোগিতার কাছে গৌণ হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় সমালোচকদের আশঙ্কা, পশ্চিমাদের নীরবতা তুরস্কে কর্তৃত্ববাদী শাসনকে আরও শক্তিশালী করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত ডেভিড স্যাটারফিল্ড বলেন, তুরস্কে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের অবনতি নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নিয়মিত প্রকাশ্য বক্তব্য দেওয়া প্রয়োজন, যাতে তুর্কি জনগণ জানতে পারেন বিশ্বের দৃষ্টিতে তাদের দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি কীভাবে মূল্যায়িত হচ্ছে। ২০২১ সালে সমাজকর্মী ওসমান কাভালার মুক্তির দাবিতে ১০ জন পশ্চিমা রাষ্ট্রদূতের যৌথ বিবৃতির জেরে প্রেসিডেন্ট এরদোগান তাদের বহিষ্কারের নির্দেশ দিয়েছিলেন। সেই ঘটনার পর থেকে পশ্চিমা দেশগুলো তুরস্কের অভ্যন্তরীণ ইস্যুতে তুলনামূলক সতর্ক অবস্থান নিয়েছে বলেও বিশ্লেষকদের ধারণা। যদিও ক্ষমতাসীন একে পার্টি বিচার বিভাগকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহারের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আদালতের স্বাধীনতার দাবি করে আসছে। তবে ন্যাটো সম্মেলনের আগে কয়েকটি স্বাধীন সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার বাতিল এবং নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে দুই শতাধিক ব্যক্তিকে আটক করার ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে জানিয়েছেন, আঙ্কারা সম্মেলনে কয়েক বিলিয়ন ডলারের নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তি ঘোষণা হতে পারে। এদিকে পশ্চিমা কূটনীতিকদের একটি অংশ প্রকাশ্যে সমালোচনা না করে তুর্কি সরকারের সঙ্গে ব্যক্তিগত বৈঠকে নিজেদের উদ্বেগ জানানোই বেশি কার্যকর বলে মনে করছেন। সূত্র: রয়টার্স





মন্তব্য