১১ আগস্ট, ২০২৬
স্বদেশ › স্বদেশ

চিত্র:তিন বন্ধ পাটকল চালু করতে প্রাণ-আরএফএল ও হ্যামকোর সঙ্গে চুক্তি| |ক্রেডিট : ইন্টারনেট
রাষ্ট্রায়ত্ত খাতের দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা তিনটি পাটকল বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় আবার চালু করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশন (বিজেএমসি) প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ ও হ্যামকো গ্রুপের সঙ্গে পৃথক চুক্তি করেছে। তিনটি মিল চালু হলে অন্তত ১১ হাজার ৬২৯ মানুষের কর্মসংস্থান হবে বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়েছে। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) অনুষ্ঠিত চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি মোস্তফা জুলফিকার হাসান শিপলু চুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেন। চুক্তির আওতায় সিরাজগঞ্জের জাতীয় জুট মিলস লিমিটেড ও খুলনার স্টার জুট মিলস লিমিটেডের দায়িত্ব নিয়েছে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ। আর খুলনার প্লাটিনাম জুবিলী জুট মিলস লিমিটেডের ইজারা পেয়েছে হ্যামকো গ্রুপ। ইজারা চুক্তির মাধ্যমে বন্ধ থাকা এসব শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে নতুন ব্যবস্থাপনায় উৎপাদনে ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। বিজেএমসির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. কবির উদ্দিন সিকদার সংস্থাটির পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের কোম্পানি সচিব আমিনুর রহমান এবং হ্যামকো গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ টি এম মোস্তফা নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে সই করেন। তিনটি পাটকল চালু করতে মোট প্রায় ৬১৯ কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। উৎপাদনে ফেরার পর তিনটি প্রতিষ্ঠানের সম্ভাব্য সম্মিলিত বার্ষিক টার্নওভার প্রায় এক হাজার ১৭৫ কোটি টাকা হতে পারে বলে জানানো হয়েছে। চুক্তির আওতায় থাকা জাতীয় জুট মিলস লিমিটেডে প্রায় ১৫৭ কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনা করা হয়েছে। সিরাজগঞ্জের রায়পুরে অবস্থিত এ মিলটি পুনরায় চালু হলে পাঁচ হাজার ২৩৮ জনের কর্মসংস্থান হতে পারে। মিলটির সম্ভাব্য বার্ষিক ব্যবসার পরিমাণ প্রায় ৫০০ কোটি টাকা ধরা হয়েছে। খুলনার দিঘলিয়ায় স্টার জুট মিলস লিমিটেডে বিনিয়োগ করা হবে প্রায় ২৫০ কোটি টাকা। এই মিল চালুর পর পাঁচ হাজার ২৩৮ জনের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। প্রতিষ্ঠানটির বার্ষিক টার্নওভার প্রায় ৫০০ কোটি টাকা হওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে খুলনার খালিশপুরে প্লাটিনাম জুবিলী জুট মিলস লিমিটেড পুনরায় চালু করতে প্রায় ২১২ কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। মিলটি চালু হলে কমপক্ষে এক হাজার ১৫৩ জন কাজের সুযোগ পাবেন। এ প্রতিষ্ঠানের সম্ভাব্য বার্ষিক টার্নওভার প্রায় ১৭৫ কোটি টাকা হতে পারে। অনুষ্ঠানে আরও জানানো হয়, বিজেএমসির উৎপাদন বন্ধ থাকা ২৫টি মিলের মধ্যে ২০টি মিলকে ইজারা দিয়ে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ইতোমধ্যে ১৪টি মিলের ইজারা সম্পন্ন করে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে দখল বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। এসব মিলের মধ্যে নয়টিতে উৎপাদন কার্যক্রমও শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা পাটকলগুলো ধাপে ধাপে পুনরায় চালুর মাধ্যমে শিল্প উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। নতুন বিনিয়োগের ফলে এসব প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন সক্ষমতা কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম, বস্ত্র ও পাট সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী এবং বিজেএমসি ও ইজারাগ্রহীতা প্রতিষ্ঠানগুলোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সূত্র: বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়।
মন্তব্য:০