২৮ জুন, ২০২৬
আন্তর্জাতিক › আন্তর্জাতিক:

চিত্র:তীব্র তাপপ্রবাহে নাজেহাল ইউরোপ| |ক্রেডিট : ইন্টারনেট
পশ্চিম ইউরোপে প্রাণঘাতী তাপপ্রবাহের প্রভাব ক্রমেই বাড়ছে। জার্মানি ও ইতালিসহ একাধিক দেশে অস্বাভাবিক গরমে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। অনেক এলাকায় তাপমাত্রা ইতোমধ্যেই ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস অতিক্রম করেছে এবং নতুন নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই তাপপ্রবাহ এখন ধীরে ধীরে পূর্ব ইউরোপের দিকেও অগ্রসর হচ্ছে। আবহাওয়াবিদ কার্স্টেন ব্রান্টের মতে, সপ্তাহান্তে জার্মানির কিছু এলাকায় তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রিরও অনেক ওপরে উঠতে পারে। তিনি সতর্ক করে বলেন, চলমান তাপপ্রবাহের সবচেয়ে তীব্র সময় এখনই। জার্মান আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, শুক্রবার ফ্রান্স সীমান্তসংলগ্ন সারব্রুকেন অঞ্চলে ৪১ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। শনিবার দেশের প্রায় সব অঞ্চলের জন্য তীব্র গরমের সতর্কতা জারি করা হয়েছে। কোথাও কোথাও পারদ ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। জলবায়ু গবেষকদের ভাষ্য, অতিরিক্ত উষ্ণ রাত এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি সাধারণ হয়ে উঠছে। তাদের হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে এমন পরিস্থিতির সম্ভাবনা দুই দশক আগের তুলনায় প্রায় ১০০ গুণ বেড়েছে। ফ্রান্সে তাপপ্রবাহে ইতোমধ্যে বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। চরম গরমে ট্রেন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে, বিদ্যুৎ সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে এবং বিভিন্ন এলাকায় শিক্ষা কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়েছে। একই সময়ে ইতালির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় দেশটির ১৮টি বড় শহরের জন্য সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে। রোম, মিলান, ভেনিস, ফ্লোরেন্স, তুরিন, জেনোয়া ও বোলোনিয়াসহ গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে নাগরিকদের অপ্রয়োজনে বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এদিকে ইতালির বোলজানো শহরে জুন মাসের ইতিহাসে সবচেয়ে উষ্ণ রাত রেকর্ড হয়েছে। স্থানীয় আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, রাতভর তাপমাত্রা ২৫ দশমিক ৪ ডিগ্রির নিচে নামেনি। রয়টার্স ক্লাইমেট মনিটরের তথ্য অনুযায়ী, ‘ওমেগা ব্লক’ নামের একটি বিরল বায়ুমণ্ডলীয় অবস্থার কারণে ইউরোপের বিভিন্ন অঞ্চলে স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বেশি তাপমাত্রা দেখা যাচ্ছে। এই আবহাওয়াগত পরিস্থিতি দীর্ঘ সময় ধরে তাপপ্রবাহ আটকে রাখে এবং গরমকে আরও তীব্র করে তোলে। আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, সপ্তাহান্তের পর পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে পারে। তবে রোববার কয়েকটি অঞ্চলে বজ্রসহ ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। সূত্র: রয়টার্স
মন্তব্য:০