শিরোনাম
মাউন্ট মিঝিরগিতে বরফধস, নিহত ১১ পর্বতারোহী *** উত্তর কোরিয়া ইস্যুতে ওয়াশিংটনের নীতিবদল, নিজস্ব প্রতিরক্ষায় সিউল *** নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে জোর, রামপালে ৪৬০ মেগাওয়াট সৌর প্রকল্পের উদ্যোগ *** বন্ধ পত্রিকা চালুর তাগিদ, সাংবাদিকদের ঐক্যের আহ্বান রাষ্ট্রপতির *** এসআরবি বিল সংসদে তোলার সুপারিশ, র‌্যাবের জনবল-অবকাঠামো কাজে লাগানোর তাগিদ ***




↠সিডনি-বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট :


১৬ আগস্ট, ২০২৬

খেলা › আন্তর্জাতিক:

মন্তব্য:০

News Picture

চিত্র:বাংলাদেশ ক্রিকেট দল| |ক্রেডিট : ইন্টারনেট

২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়

ডারউইনের মাটিতে যেন বাংলাদেশের ক্রিকেটের নতুন গল্প লেখা হলো। ২৩ বছর পর দ্বিতীয়বার অস্ট্রেলিয়া সফরে এসে এবার আর খালি হাতে ফিরছে না বাংলাদেশ। টেস্ট র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে থাকা অস্ট্রেলিয়াকে তাদের নিজেদের মাঠে হারিয়ে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেছে নবম র‌্যাঙ্কিংয়ের দল বাংলাদেশ। ৫৭ রানের এই জয় বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে যোগ করেছে এক অনন্য কীর্তি। টানা চার দিন দুর্দান্ত ক্রিকেট খেলেছে বাংলাদেশ। শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখে তারা। অস্ট্রেলিয়ার মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে তাদের ঘরের মাঠে এমন দাপুটে পারফরম্যান্স বাংলাদেশের ক্রিকেটে খুবই বিরল। বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়ার বোলিং আক্রমণে মিচেল স্টার্ক, প্যাট কামিন্স ও জশ হ্যাজলউডের মতো অভিজ্ঞ পেসার থাকার পরও বাংলাদেশের ব্যাটাররা যেভাবে নিজেদের মেলে ধরেছেন, তা এই জয়ের মাহাত্ম্য আরও বাড়িয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার চার বোলারের প্রত্যেকেরই ৩০০-এর বেশি টেস্ট উইকেটের অভিজ্ঞতা ছিল। তাই ম্যাচ শুরুর আগে বাংলাদেশের জন্য লড়াই করাটাই ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। কিন্তু প্রথম দিন থেকেই পরিস্থিতি বদলে দেয় বাংলাদেশের পেসাররা। ১৩ আগস্ট শুরু হওয়া ম্যাচের প্রথম দিন দুই সেশনেরও বেশি সময় অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিংকে চাপে রাখে তারা। শেষ পর্যন্ত দুইশ রানের আগেই গুটিয়ে যায় স্বাগতিকদের প্রথম ইনিংস। এরপর বাংলাদেশের ব্যাটিংয়েও দেখা যায় দৃঢ়তার ছাপ। ধারণা ছিল, অস্ট্রেলিয়ার তারকা পেসাররা এবার বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপে পাল্টা আঘাত হানবেন। কিন্তু সেই আশঙ্কা সত্যি হয়নি। তানজিদ হাসান তামিম অসাধারণ ব্যাটিং করে ঐতিহাসিক সেঞ্চুরি তুলে নেন। নাজমুল হোসেন শান্ত এবং মেহেদী হাসান মিরাজও হাফ সেঞ্চুরি করে দলের বড় সংগ্রহ নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তাদের সঙ্গে টেলএন্ডারদের মূল্যবান অবদান যোগ হওয়ায় বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ২২৮ রানের লিড পায়। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসে এর চেয়ে বড় লিড আগে কখনো ছিল না। ফলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ক্রমেই বাংলাদেশের হাতে চলে আসে। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে ছিল অস্ট্রেলিয়া। বাংলাদেশের বোলাররা সেই চাপ কাজে লাগিয়ে দ্রুত উইকেট তুলে নেয়। হাসানের জোড়া আঘাতে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং আবারও বিপর্যস্ত হয়। প্রথম ইনিংসে স্টিভ স্মিথ কিছুটা প্রতিরোধ গড়েছিলেন। দ্বিতীয় ইনিংসে ক্যামেরন গ্রিন অস্ট্রেলিয়ার হয়ে লড়াই করেন। গ্রিন নিজের দেশের মাটিতে প্রথম সেঞ্চুরি তুলে নিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে লিড এনে দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু বাংলাদেশের স্পিন আক্রমণের সামনে শেষ পর্যন্ত সেই লিড বড় হয়নি। মেহেদী হাসান মিরাজ বল হাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন এবং তার ঘূর্ণিতে অস্ট্রেলিয়ার রান তোলার গতি থমকে যায়। ফলে বাংলাদেশের সামনে জয়ের সমীকরণ কঠিন হয়ে ওঠেনি। শেষ ইনিংসে বাংলাদেশের সামনে ছিল মাত্র ৫৭ রানের লক্ষ্য। যদিও প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরি করা তানজিদ হাসান তামিম এবার শূন্য রানে আউট হন, তাতে জয়ের পথে বড় কোনো সমস্যা হয়নি। সাদমান ইসলাম ও মুমিনুল হক দায়িত্ব নিয়ে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন। এর মধ্য দিয়ে প্রস্তুতি ম্যাচের হতাশাজনক স্মৃতিও মুছে গেল। প্রস্তুতি ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে মাত্র ৫৪ রানে অলআউট হয়েছিল বাংলাদেশ। সেই ম্যাচের পারফরম্যান্স দেখে অস্ট্রেলিয়ার আত্মবিশ্বাস বাড়লেও মূল লড়াইয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন বাংলাদেশকে দেখা গেল। ব্যাটে-বলে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে শেষ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার মাটিতেই ইতিহাস গড়েছে তারা। ডারউইনের এই জয় বাংলাদেশের জন্য তাই শুধু একটি টেস্ট জয় নয়, বরং দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটানো এক ঐতিহাসিক সাফল্য। ২৩ বছর আগে ডারউইন ও কেয়ার্নসে যে বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়ার কাছে অসহায় আত্মসমর্পণ করেছিল, সেই বাংলাদেশই দুই দশকেরও বেশি সময় পর একই দেশের মাটিতে জয় নিয়ে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল। সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ায় বাংলাদেশের সামনে এখন আরও বড় অর্জনের সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।





মন্তব্য